Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

পূর্বাচলে গুনী শিক্ষককে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২২, ০৬:১৪ পিএম

পূর্বাচলে গুনী শিক্ষককে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা
Swapno

রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বর্তমানে পূর্বাচল ৪নং সেক্টরের ২৩নং পিতলগঞ্জ ব্রাহ্মণখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৭ বছর শিক্ষকতা করেছিলেন মঞ্জুরুল ইসলাম। ১৯৮৩ ই সনে প্রথমে সহকারী শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন । পরে গত ২০০৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। একই প্রতিষ্ঠানে ৩৭ বছর চাকুরী করার সুবাধে তৈরী হয় সহস্রাধিক শিক্ষার্থী।

 

তিনি চাকুরীজীবন শেষে অবসর নিয়েছেন ২০২১ সালে। তাই শিক্ষকের ভালোবাসা প্রকাশে প্রাক্তন ছাত্রদের উদ্যোগে নেয়া হয় জমকালো বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন। তাই সম্মিলতি ছাত্রপরিষদ গঠন করে ঘটা করে আয়োজন হয় বিদায় সংবর্ধনার। নিজেদের দেয়া চাঁদায় প্রায় লক্ষাধিক টাকার উপহার সামগ্রী, জমকালো মঞ্চ তৈরি করে মানপত্র পাঠ, সভায় ফুলে ফুলে সিক্ত করে স্থানীয় গন্যমান্যদের দাওয়াত করে দেয়া হয় বিদায় সংবর্ধনা।

 

১৪ মে শনিবার সন্ধ্যায় বিদ্যালয় মাঠ পাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র সলিমউদ্দিন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর মালুম। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন ইউপি সদস্য রিটন প্রধান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ছালাউদ্দিন ভুইয়া।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও রূপগঞ্জ উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম, শিক্ষক নেতা আবু তালেব, আমিনুলন ইসলাম, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোক্তার হোসেন, কেন্দুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন প্রধান, ডিকেএমসি হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম, 

 

এ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন রনি, অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহবায়ক প্রকৌশলী সজল চন্দ্র সরকার, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল ওহাব ভুইয়া, সদস্য সচীব সাংবাদিক মাহবুব আলম প্রিয়, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান, শিক্ষক এনামুল হক, ডাক্তার মোশারফ,আরিফ, তারেক হাসান প্রমুখ।


বিদায় সংবর্ধনায় বক্তব্য পর্বে বিশেষ অতিথি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও রূপগঞ্জ উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, যে সমাজ গুনিজনকে সম্মান দিতে জানে সে সমাজে আরো গুনিজন তৈরী হবে। গুনদিয়ে নিজেকে সাজাতে উৎসাহিত হবে।


সভায় প্রধান অতিথি রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালাউদ্দিন ভুইয়া তার বক্তব্যে বলেন, আমি এ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। এখন এখানেই প্রধান অতিথির আসনে বসতে পেরেছি। এর কৃতিত্ব আমার শিক্ষকদের। আমি শ্রদ্ধাভরে সকল শিক্ষকদের স্মরন করছি।


অনুষ্ঠানের সভাপতি সলিমউদ্দিন চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর মালুম তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমিও এ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছি। অতীতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সুনাম ছিলো। এ সরকারী স্কুলে লেখাপড়া করা প্রায় সবাই প্রতিষ্ঠিত। বহু ছাত্র ছাত্রী স্ব স্ব অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কারন এর শিক্ষকরা ছিলেন কর্মঠ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়পরায়ন।


শিক্ষক মঞ্জুরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, দীর্ঘ চাকুরী জীবনে কখনো কাজে ফাঁকি দেইনি। শিক্ষার্থীদের আদর আর শাসনের সংমিশ্রণে নিজের থেকে সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করেছি। মনে হচ্ছে আজ তার প্রতিদান পেলাম। শিক্ষার্থীরা তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দিয়ে আমাকে ম্গ্ধু করেছে। আমি মনে করি আজ আমাকে সম্মানিত করেছে।একদিন তারাও তাদের কর্মস্থলে এভাবে সম্মানিত হবে।


এ সময় আয়োজন কমিটির পক্ষ থেকে বিদায়ী শিক্ষককের উদ্দেশ্যে মানপত্র পাঠ ও হস্তান্তর করেন কবি ও সাংবাদিক মাহবুব আলম প্রিয়।পরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে সজল চন্দ্র সরকারের নেতৃত্বে উপহার তুলে দেন উপস্থিত অতিথি ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। এসব উপহারের তালিকায় ছিলো ফ্রিজ, ওয়াসিং মেশিন, ওভেন, ইজি চেয়ার,ক্রেস্ট, পোষাক ইত্যাদি।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন