# মতি জাকিরের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে
# দুজনের বিতর্ক কর্মকান্ডে সমালোচনার ঝড়
সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নটি চার দিকে নদী দিয়ে বেষ্টিত এলাকা। জেলার শহর থেকে আলাদা দিপের মত একটি এলাকা। বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরী নদী বেষ্টিত এই ইউনিয়নটি মূলত একটি নির্জন দ্বীপ-চর এলাকা। সম্প্রতি আলীরটেক ইউনিয়নের ডিক্রিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ নির্মান এবং তা ভেঙ্গে ফেলা নিয়ে ওই এলাকার বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ও সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতির সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা কাজ করছে।
তাদের এই চাপাচাপিতে মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সচেতন মহল প্রশ্ন তোলেন ডিক্রিরচরের সরকারি খাস সম্পত্তির মাঝে জাকির এবং মতি কি মধু পেলেন। একজনে এখানে মাকের্ট নির্মাণ করতে চায় আরকে জনে এসে ঈদগাহ নির্মান করেন। অথচ আইন অনুযায়ী এখানে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কেউই কিছু করতে পারে না। কিন্তু তারা জনপ্রতিনিধি হয়ে যখন যার যা ইচ্ছা তাই করতে চাচ্ছেন।
স্থানীয় লোকজন জানান, ২০০১ সনের পরে বিএনপির সরকারের আমলে ডিক্রিচরের ভেঙ্গে ফেলা ঈদগাহ মাঠটি পুকুর ছিল। এখানে প্রায় এক একরের বেশি জমি রয়েছে। ২০০৫ সনের দিকে সাবেক চেয়ারম্যান মতির লোকজন সরকারি এই জলাশয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আইন কানুন না মেনে অবৈধ ভাবে বালু দিয়ে ভরাট করেন। অথচ প্রধানমন্ত্রী সব বলে আসছেন জলাশয় পুকুর ভরাট না করে তা রক্ষা করতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতির শেল্টারে তার সমর্থক আলীরটেক ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আওলাদ হোসেন, এড. আওলাদ হোসেন, মোখলেছুর রহমান, এবাদুল্লাহ,মাও. মোক্তার হোসেন গংরা মিলে এই পুকুর ভরাট করে। তারা প্রত্যেকেই মতির ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত। এছাড়া তারা এখান আর্থিক ফায়দা নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তখন মতি চেয়ারম্যান থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করেও তেমন একটা সুরাহ করতে পারে নাই। পরে ২০১৬ সনে মতি আলীরটেক ইউপির চেয়ারম্যান হওয়ার পরে ডিক্রিরচর ৫ নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুদানের টাকা দিয়ে অনুমতি না নিয়ে অবৈধ ভাবে ডিক্রিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ নির্মান করেন।
অন্যদিকে জাকির হোসেন গত বছর নভেম্বর মাসে ইউপি নির্বাচনের ২য় ধাপে আলীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচন হয়ে সরকারি এই সম্পত্তি তার দখলে নিয়ে এখানে মার্টেক নির্মান করার অভিযোগ উঠে। আর তা বাস্তবায়নের জন্য তার লোকজন ডিক্রিরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাাঠের চার পাশের দেয়াল ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেন। তারাও প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে নিজেদের খুশিমত ভেঙ্গে ফেলেন।
আর এতে করে বুঝাযায় তারা কেউ আইনকে তোয়াক্কা করেন না। তারা যে যার মত করে ক্ষমতা প্রয়োগ করে পুরো এলাকাকে নিয়ন্ত্রন করতে চায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারি এই সম্পত্তিতে তাদের দুজনের নজর পরেছে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া তারা এই সম্পত্তি ব্যবহার করতে পারেন না। আলীরটেক বাসির অভিযোগ আলীরটেক ইউনিয়নে একটি খেলার মাঠ নেই।
সেই সাথে এখানে মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের ঘর নির্মানের জন্য সরকারি খাস জমি খুজে পান না। অথচ সরকারি এই সম্পত্তি নিয়ে দুই চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা। চলছে। একটি সুত্র জানান, এই সম্পত্তি নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। প্রশাসন থেকে শুরু থেকেই বলা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যববস্থা নেয়া হবে। স্থানীয়দের থেকেও একই দাবী উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে এখনি ব্যবস্থা না নেয়া হলে তারা আরও বড় ধরনের অপকর্ম করতে কোর ধরনের পিছা পা হবে না।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার রিফাত ফেরদাউস জানান, সরকারি জমিতে থাকা ঈদগাহ চাইলেই অপসারণ বা অন্য কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবেন না। এজন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদন বা প্রকল্প থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা আইন না জেনেই অনেক কিছু করার চেষ্টা করেন।
জেলা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা ও আইসিটি মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টাকা এনে সরকারি জায়গায় বেআইনিভাবে অনুমতি ছাড়া ঈদগাহ করতে পারে না। আমি ইউএনওর সাথে কথা বলে এবিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। বেআইনি ভাবে কেউ কিছু করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


