যোগ্যতা নয়, কোটিপতি হলেই হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ কমিটিতে মিলে পদ
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২২, ০৭:৩৪ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জে হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির কার্যকরী পরিষদে নতুন তিন সদস্য নিয়োগ নিয়ে চলছে নানা সমালোচনার ঝড়। সমিতির বাকী সদস্যদের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা না করেই অযৌক্তিক এ সিদ্ধান্তে মনোঃক্ষুন্ন হয়েছেন বাকী সদস্যারা। এর আগে শনিবার (১৪ মে) সন্ধ্যায় হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি গোলাম মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ অর্থ সম্পাদক পদে রফিকুল ইসলাম মিয়া,
সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে মোঃ সোহেলকে খানকে স্থলাভিষিক্ত করেন। জানা যায়, রফিকুল ইসলাম মিয়া হীরাঝিল সমাজ কল্যান সমিতির বর্তমান সদস্য আব্দুল মতিনের চাচাতো ভাই হওয়ার সুবাদে তদবির করে তিনি এ গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। এছাড়া বাকি দুজন মোটা অঙ্কের বিনিময়ে কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে এলাকাবাসীর কাছ থেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যান। হীরাঝিল এলাকায় হঠাৎ করে ৮ তলা বাড়ি করে তিনি সবার নজরে আসেন। মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম পূর্বে জাহাজে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। তিনি ৩ বছর পূর্বে ৪ টি জাহাজ এবং হীরাঝিলে তিন কোটি টাকা দিয়ে একটি ৬ তলা বাড়ি ক্রয় করেন।
বাকি সদস্য মোঃ সোহেল খানও হীরাঝিলে বিলাশবহুল একটি বাড়ী নির্মাণ করেন। হীরাঝিলের স্থানীয় বাসিন্দা মামুন ওরফে বিদ্যুৎ মামুন জানান, মূলত এই সমিতি অফিসটা করা হয়েছিল হীরাঝিল এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য। হীরাঝিল এলাকার প্রত্যেকটা বাড়ির মালিকের অর্থের মাধ্যমে এই সমিতি অফিসের খরচ বহন করা হয়।
অথচ এলাকার কোনো বাড়ির মালিকদের কোনো মতামত না নিয়ে এমন বাজে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির সদস্য ওবায়দুল হক স্বপন বলেন, পূর্বে এই সমিতিতে এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের জায়গা দেওয়া হতো। বর্তমানে এমন এমন ব্যক্তিদের সমিতিতে জায়গা দেওয়া হচ্ছে যাদেরকে কেউই ভালো করে চিনে না। এতে করে এলাকার বেশিরভাগ স্থানীয় বাসিন্দা এই সমিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
হীরাঝিলের আরেক বাসিন্দা সোনা মিয়া জানান, এই সমিতিটা এখন কয়েকজনের নিজস্ব অফিসে পরিণত হয়েছে। যার ফলে অনেক ধন-সম্পত্তির মালিক হওয়ার পাশাপাশি কিছুদিন ধরে এলাকায় বাস করলেই যাকে তাকে সমিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যারা কমিটির সভাপতিকে তৈলমর্দন করে তারাই পদ পায়। হীরাঝিলের বাসিন্দা সালেহা বেগম জানান, কমিটি তো গড়ে পদপদবীর জন্য।
নামে হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ কমিটি, কাজের বেলা ঠনঠন। জীবনে তাদেরকে এলাকার কল্যাণে কাজ করতে দেখেছি বলে মনে পড়ে না। এ বিষয়ে হীরাঝিল সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি গোলাম মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ বলেন, অর্থের বিনিময়ে নয় যোগ্যতার বিনিময়ে তিনজনকে সমিতিতে পদ দেওয়া হয়েছে। আমার ধারণা ছিল, এই তিনজনকে নিয়ে কারো কোনো দ্বিমত থাকবে না। এই তিনজনের বিষয়ে যদি এলাকার কারো কোনো দ্বিমত থাকে তাহলে তাদেরকে সমিতির পদগুলো থেকে সরিয়ে নিবো।


