সিদ্ধিরগঞ্জে এখনো রয়েছে দরজা জানালাবিহীন সেলুন
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২২, ০৭:৩৬ পিএম
আধুনিকতার যুগে দরজা-জানালা ছাড়া সেলুন সচরাচর দেখা যায় না। তবে আগের দিনে এইসব সেলুন সহজলভ্য ছিল। এখনো গ্রামে দেখা গেলেও শহরে নেই বললেই চলে।দরজা-জানালাবিহীন এমনই সেলুনের দেখা মেলেছে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে। সেলুনটি সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে অবস্থিত। সেলুনটিতে নেই আধুনিকতার ছোঁয়া।
রয়েছে লক্কর ঝক্কর একটি চেয়ার, একটি আয়নাসহ চুল কাটার ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম। আধুনিক এ যুগে নানা ধরনের ডেকোরেশনের সেলুনের দেখা মিললেও ঐতিহাসিক এমন সেলুনের দেখা খুব কম মিলে।
মোহাম্মদ আলী, ৫০ বছর বয়স তার। বসবাস করে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এলাকায়। পেশায় তিনি একজন নাপিত। দীর্ঘ ২০ বছর যাবত তিনি নাপিতের পেশায় জড়িত। সেই ২০ বছর ধরে একই ভাবে মানুষের চুলের সৌন্দর্য বাড়ানোর কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। সেলুনে চুলকাটস্থ রাকিব নামের একজনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান,
আমি দীর্ঘদিন যাবত মোহাম্মদ আলী কাকার কাছে চুল কাটি, তিনি অনেক যত্ন করে কাজ করে থাকেন। আমাদের এখানে অনেক সেলুন আছে তবে আমি উনার কাছেই চুল কেটে স্বাচ্ছন্দবোধ করি।
সেলুনের পাশের দোকানদার আলমগীর হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি মোহাম্মদ আলী ভাইয়ের কাছে অনেক দিন ধরে চুল কাটি। তিনি খুব ভালো কাজ করে। আমাদের এখানকার বেশির ভাগ মানুষ এখনো তার হাতেই চুল কাটে। দরজা-জানালাবিহীন সেলুনের কারিগরি মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সে ২০০২ সাল থেকে এখানে এভাবেই মানুষের চুল কাটে।
এখন অনেক আধুনিক সেলুন হয়ে গেছে, তাও আল্লাহর রহমতে আমি ভালোই আছি। এখানকার মানুষ আমাকে অনেক ভালোবাসে। তাই আমার হাতে তাদের চুল কাটায়। সড়ক ও জনপদের অনেক কর্মকর্তারা এবং আশেপাশের দোকানদাররা আমার হাতেই চুল কেটে। দিনে যা উপার্জন হয় তা দিয়েই পরিবার নিয়ে ভালো আছি।


