পানাম নগরীতে চলছে পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংস্কার
যুগের চিন্তা অনলাইন
প্রকাশ: ২১ মে ২০২২, ০৮:৩৭ পিএম
প্রাচীন সভ্যতার হারানো নগরী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী পানাম নগরী বা পানাম সিটি। স্থানটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিনিয়তই ভিড় জমান দেশ বিদেশের হাজার হাজার দর্শনার্থী। আর তাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় নিয়ে পানাম সিটির পুরাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রনালয়।
বৃহস্পতিবার (১৯ মে) পানাম সিটিতে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় এমন দৃশ্য। নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, পানাম সিটির ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো সংস্কারের কাজ চলছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের মন্ত্রীও নিয়মিত এখানে কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী কাস্টডিয়ান সিয়াম জানান, এখানে প্রতি বছর একটি করে ভবনের সংস্কার কাজ করা হয়। এ বছর চার নম্বর বিল্ডিংয়ের কাজ হচ্ছে। দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখেই ভবনটি সংস্কার করা হচ্ছে। মূলত ভবনের সিঁড়ি ও ছাদের সংস্কারের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
১৫ শত জায়গাজুড়ে ঈশা খাঁ সোনারগাঁয়ে বাংলার প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। সোনারগাঁয়ের প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় গড়ে উঠে এ পানাম নগরী। ২০০৬ সালে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ফান্ডের তৈরি বিশ্বের ধ্বংসপ্রায় ১০০টি ঐতিহাসিক স্থাপনার তালিকায় স্থান পায় পানাম নগরী। চতুর্দিক থেকে পঙ্খীরাজ খাল দিয়ে ঘেরা এই নগরী।
পঙ্খীরাজ খাল মেনিখালী নদ নামে মেঘনা নদীতে গিয়ে মিশেছে। পানাম নগরীর পূর্ব দিকে রয়েছে মেঘনা নদী আর পশ্চিম দিকে শীতলক্ষ্যা। এক সময় এ নদী পথেই মসলিন কাপড় রপ্তানি হত। পানাম নগরীর প্রবেশ পথে আছে বিশাল গেট। আর সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে এর গেট বন্ধ করা হত। বর্তমানেও কোনো দর্শনার্থী সন্ধ্যার পর পানাম নগরীতে অবস্থান করতে পারেন না।


