আড়াইহাজারে ছয় মাসের ব্যবধানে ১২ মোটরবাইক চুরি
আড়াইহাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২২, ০৯:৩৫ পিএম
আড়াইহাজারে ৬ মাসের ব্যবধানে অন্তত ১২টি মোটরবাইক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বেশ কিছু মামলাও হয়েছে। কিন্তু একটি মোটরবাইকও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এতে হত্যাশ ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে অনেকের অভিযোগ রয়েছে পুলিশ বাইক চুরির মামলারগুলো তেমনভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, পুলিশের কাছে ভুক্তভোগীরা সেবা নিতে গেলে নানা জামেলা পোহাতে হচ্ছে।
মামলা গ্রহণ করা হলেও তেমনভাবে তদন্ত করা হচ্ছে না। এতে মামলাগুলোর অগ্রগতিও নেই। সম্প্রতি চুরি হয়ে যাওয়া বাইকের মালিক আড়াইহাজারের আবু নাঈম তারেক বলেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির ১ তারিখে তার বাইকটি বাসা থেকে চুরি হয়ে যায়। পরে তিনি পুলিশের হেল্পলাইন “৯৯৯” ফোন করেন। এক পর্যায়ে আড়াইহাজার থানার পুলিশ তার বাড়িতে যায়।
কিন্ত এ ঘটনায় প্রথম অভিযোগ গ্রহণ করলেও বেশ কিছুদিন পরে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেন। তবে এ পর্যন্তই শেষ। মামলার কোন অগ্রগতি নেই। আমি বাইক কেনার আড়াই মাসের মাথায় তা চুরি হয়ে যায়। তার অভিযোগ ছিল, চোরচক্রের কিছু সদস্য এলাকায় সব সময় ঘুরাফেরা করেন। তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেই হয়তো বা একটি কিছু বের হয়ে আসতো বলে তার ধারণা।
মামলা নং-৩। জানা গেছে, একই এলাকার শাওন, মাসুম মাস্টার, সোহেল ইঞ্জিনিয়ার, পল্লীবিদ্যুতের কর্মকর্তা মাসুম, একটি ওষধ কোম্পানীর বিক্রি প্রতিনিধি বাতেনের বাইক চুরি হয়। আড়াইহাজার পৌরসভা বাজারে মিত্র প্লাজা ব্যবসায়ী সেসার্স সুমনা ফ্যাশন নাসির উদ্দিন বলেন, আমার আড়াই লাখ টাকার মূল্যের বাইকটি চুরি হয়ে গেছে। সন্ধ্যার দিকে একজন ব্যক্তিটি বাইকটি নিয়ে যায়।
স্থানীয় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজে চুরির দৃশ্য ধরা পড়ে। পুলিশকে এটি প্রদান করা হয়। পরে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেন। কিন্তু বিষয়টি এ পর্যন্তই শেষ। এখন পুলিশ এনিয়ে কোন কথা বলে না। পুলিশের কাছে তারা ঠিক মতো কথাই বলে না। আমি এতে হত্যাশ। হয়তো বা আমার বাইকটি পাব না। তিনি অভিযোগ, পুলিশের সেবা প্রদানে গাফিলতি রয়েছে।
এলাকায় অনেক চোরচক্রের সদস্য রয়েছে। যারা নিয়মিত বাইক চুরি সহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত। রহস্য জনক কারনে পুলিশ তাদের আটক করে না। মাসুম মাস্টার বলেন, বাইক চুরির পর আমি অফিস করতে পারছি না। এটি আমার প্রয়োজনীয় একটি বাহন ছিল। পুলিশ মামলা গ্রহণ করার পরও কোন কিছুই হলো না। মামলার কোন অগ্রগিত নেই।
আমার মতো অনেকেই বাইক হারিয়ে এখন দিশেহারা। তার অভিযোগ ছিল, আড়াইহাজার পৌরসভা এলাকা থেকে অহরহই বাইক চুরির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এগুলো উদ্ধার করতে পারছে না পুলিশ। পুলিশের কাছে গেলেও ঠিক মতো আইনে সহযোগিতা পাওয়া যায় না। আমার বাইক চুরির পর আরো অনেক বাইক চুরি হয়ে গেলো। আমার জানামতে একটি বাইকও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক হাওলাদার বলেন, ‘আমি সদ্য এ থানায় যোগদান করেছি। বাইক চুরির ঘটনাগুলো বিশেষভাবে দেখা হচ্ছে। চোরচক্রের সদস্যদের আটকে খুব শিঘ্রই অভিযান চালানো হবে।’ এদিকে ধর্ষণের ঘটনাও বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। সর্বশেষ ৮ মে সন্ধ্যায় আড়াইহাজার পৌরসভাধীন গাজিপুরা এলাকায় বিয়ের প্রলোভন দিয়ে এক যুবতীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় ৯ মে সকালে থানায় নির্যাতিতা বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন। তবে পুলিশ ধর্ষককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের চাপের মুখে নির্যাতিতা আইনের সহযোগিতা নিতে পারছিলেন না। নির্যাতিতা এ যুবতি স্থানীয় মৌজ্জাকান্দা এলাকার এক কৃষকের মেয়ে। এক বছর আগে তার পাশ্ববর্তী গাজিপুরা এলাকার আফছরউদ্দিনের ছেলে সুমনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই সুবাদে প্রায় সময় তাদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে দৈহিক সম্পর্ক হতো। ৮ মে রবিবার সুমনের জন্মদিন ছিল। এই অনুষ্ঠানে প্রেমিকাকে দাওয়াত করা হয়। সন্ধ্যায় সে সুমনের জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে ফুল ও চকলেট নিয়ে তার বাড়িতে যায়। বাড়িতে সুমন ছাড়া অন্য কাউকে দেখতে না পেয়ে সে বাড়িতে ফিরে আসতে চায়।
তাতে সুমন বাঁধা দিয়ে তাকে তার ঘরে নিয়ে যায়। পরে তাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে সুমনকে চাপ দিলে ফের তাকে বিয়ে করবে বলে আশ্বাস দিয়ে সে পালিয়ে যায়।


