ছটাকিয়া নদীর পাড় যাওয়া রাস্তাটির বেহাল দশা, ভোগান্তি
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২২, ০৯:৪৪ পিএম
শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে সোনারগাঁও ছিলো বাংলাদেশের এক গৌরবময় জনপদ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যবেষ্টিত, নৈসর্গিক পরিবেশের প্রাচীন রাজধানী ছিলো এ সোনাগাঁরও। এ সোনারগাঁওয়ে রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো হলো, লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, জয়নুল আবেদিন স্মৃতি জাদুঘর, পানাম সিটি, বাংলার তাজমহল, বারদীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের জনপ্রিয় তীর্থস্থান শ্রী শ্রী লোকনাথ বাবা ব্রহ্মচারী আশ্রম।
এছাড়াও বারদীর আশেপাশে আরও কয়েকটি দেখার মত জায়গা ও উপভোগের বিষয় রয়েছে। সেগুলো হলো, জ্যোতি বসুর বাড়ী, নাগ জমিদার বাড়ী, লালপুরী শাহের নুনের টেক, স্বপ্নীল মায়াদ্বীপ ও নতুন আরও একটি পর্যটকস্থান নামে পরিচিত ছটাকিয়া নদীর পাড়।
এসব স্থানগুলো উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন প্রায় হাজারও পর্যটকদের ভীড় জমে বারদীতে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ওই সব পর্যটকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা এমনকি রাত্রী পর্যন্ত ঘুরে বেড়ান বারদীর বিভিন্ন স্থানগুলোতে।
কিন্তু দূর্ভাগ্য হলেও সত্য এখানে আসা একটি মাত্র রাস্তা ছাড়া প্রায় সবগুলো রাস্তারই বেহাল দশা। বিশেষ করে বারদীর ইউনিয়নের খুব কাছে ছটাকিয়া নদীর পাড় যাওয়া রাস্তাটি এতটাই বেহাল দশা যে, পর্যটকদের সেখানে যেতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গ্রাম্যপথ ধরে ছুটে চলা এ রাস্তাটির বেশিরভাগই খানাখন্দে ভরা। রাস্তাটির দুপাশ ভেঙ্গে পড়ায় এ পথে যানবাহন তো দূরের কথা পাঁয়ে হেটে পথ চলতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে পর্যটকসহ স্থানীয়দের। তবুও দর্শনীয় স্থান বিশেষ নদীর ঠান্ডা বাতাসে মনকে মেলে তুলতে পর্যটকেরা সেখানেই ভীর জমান।
এদিকে রাস্তাটি খারাপ হওয়ায় অটোরিকশা বা মিশুক চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া হাকিয়ে নিচ্ছে পর্যটকদের কাছ থেকে। কেননা, যে যানবাহন দিয়ে সেখানে যেতে হয় আবার সেই যানবাহন দিয়েই ফিরে আসতে হয়। কারণ, রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে সেখানে কোন যানবাহন পাওয়া যায়না। তাই রিজার্ভ করেই যানবাহন নিতে হয় এবং চালকদের ইচ্ছেমত ভাড়া দিতে হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বললে তারা বলেন, এলাকাটি সুন্দর হলেও এ ভাঙ্গা রাস্তাটির কারণে আমাদের এলাকায় অভিশাপ নেমে এসেছে। এই রাস্তায় কোন যানবাহনই আসতে চায় না। যারা আসেন তাদেরকে চারগুন ভাড়া দিতে হয়। এ জন্য আমাদের বেশিরভাগ সময়ই পায়ে হেটে এ পথে চলতে হয়। কিন্তু রাস্তাটির এতটাই খারাপ অবস্থা যে, পাঁয়ে হেটে চলতে গেলেও বেশিরভাগ সময়ই আমাদের হোঁচট খেয়ে পরে যেতে হয়। আর বৃষ্টি এলেতো কোন কথাই নেই। সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায় রাস্তাটি।
তারা আরও বলেন, ভাঙ্গা রাস্তাটির কারণে এখানে ছিনতাই ও মাদক সেবীদের আনাগোনা বেড়েছে। পর্যটকরা এখানে ঘুরতে আসলে যদি সন্ধ্যা হয়ে যায় কিংবা কিছুটা রাত হয়ে যায়, তাহলেই ওই ছিনতাইকারিরা পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা পয়সা ও স্বর্ণালোংকার সহ সব কিছু ছিনিয়ে নেয়। আর এসবের সাথে কিছু অটোচালকও জড়িত আছে। পরে তারা একসাথে ছিনতাইকৃত জিনিসপত্র ভাগ বাটোয়ারা করে।
এসবের কারণে বারদীর বদনাম হচ্ছে। তাই পর্যটকদের সুবিধার্থে এ রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা জরুরী। নয়তো, ধিরে ধিরে এ পর্যটকস্থান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে পর্যটকরা।
এ বিষয়ে বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: মাহাবুব রহমান ওরফে লায়ন বাবুল বলেন, ওই ছটাকিয়ার রাস্তাটি শুধু সংস্কারই হবেনা, দুদিকে ৩ ফিট করে প্রশস্ত হচ্ছে। এ রাস্তাটি সংস্কার করবে এলজিআইডি। আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহে এ রাস্তাটির টেন্ডার হবে বলে আশা করছি।


