Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

রফিক চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বীত হয়ে খুনের চেষ্টা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২২, ০৩:২২ পিএম

রফিক চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বীত হয়ে খুনের চেষ্টা
Swapno

# সন্ত্রাসী মোশারফ বাহিনীকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি
# পেছনের ইন্ধনদাতাদেরও খুঁজে বের করার দাবি

 কুলখানীর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে অল্পের জন্য রূপগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোশারফ বাহিনীর হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে গেছেন দেশের অন্যতশিল্পগোষ্ঠী রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম। তাকে হত্যার জন্য অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ করেন মোশারফ ওরফে মশা বাহিনী।

এঘটনায় দুজন গুলিবিদ্ধসহ তিনজন আহত হয়েছে। পুরো রূপগঞ্জ এলাকায় এখন আতঙ্ক বিরাজ করছে। গা ঢাকা দিয়েছে মশা বাহিনী। অস্ত্রসহ বডিগার্ড রাখার কোন অনুমতি না থাকলে মশা বাহিনী কি করে সেটি করার সুযোগ পাচ্ছে, কারাই বা এরপেছনে কলকাঠি নাড়ছে এখন সেই প্রশ্নও সামনে আসছে। সূত্র জানিয়েছে, রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত রূপগঞ্জের একটি প্রভাবশালী মহল।

 

সেই মহলের ইন্ধনেই মশাবাহিনী রফিক চেয়ারম্যানের উপর প্রাণনাশের চেষ্টায় এই হামলা চালিয়েছে বলে মনে করে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মানবসেবায় রূপগঞ্জে ইর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যানারে তাকে রূপগঞ্জের সাংসদ হিসেবে পাওয়ার দাবি রূপগঞ্জবাসী দীর্ঘদিনের।

 

তারা চান, এলাকার স্থানীয় ছেলেই সাংসদ হিসেবে রূপগঞ্জের সেবা করুক। আর এটিকেই মেনে নিতে পারছেনা রূপগঞ্জের একটি প্রভাবশালী মহল। সূত্র জানিয়েছে, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম। এলাকার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেন এমন আশঙ্কায় একটি বিশেষ মহলের ইন্ধনে মশা বাহিনী রফিক চেয়ারম্যানের উপর প্রাণহানির চেষ্টা গুলির ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে রূপগঞ্জে তীব্র নিন্দার ঝড় বইছে।

 

এলাকার মানুষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো শক্তিশালী ভূমিকা নেয়ার দাবি জানিয়েছে। তারা বলছেন, যারা আগামী নির্বাচনে রফিক চেয়ারম্যানকে পথের কাঁটা মনে করছেন তারাই সন্ত্রাসী মশা বাহিনীকে ভাড়া করে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এদিকে এই ঘটনায় হাজী শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে গতকাল রূপগঞ্জে মামলা দায়ের করেছেন ।

 

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, ২৭ মে দুপুর ১ টা ৪০ এর দিকে রূপগঞ্জের নাওড়া গ্রামের শেখ ফরিদ ওরফে মুসার বাড়িতে কুলখানি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য তিনিসহ তার বড় ভাই আলহাজ্ব মোঃ রফিকুল ইসলাম , মহিউদ্দিন মেম্বার,আমিন হাজি মুসলিম মেম্বার সহ অন্যান্য লোকজন একত্রে উক্ত শেখ ফরিদের বাড়িতে পৌছান। এসময় পূর্ব শত্রুতার জের ধওে মো মোশারফ হোসেন ভূইয়া ওরফে মশা (৪৮), আব্বাস (৩২), নিরব (২৪), নাজমুল (৩০), স্বাধীন (২২) , সাকাতুল্লাহ (৩৫), আনোয়ার হোসেন (৩২), আবুল হোসেন (৪৫), মাজাহারুল (৩২), রাজু (২৮), লিটন (৩২), এমারত (৫০) , রিফাত (২৫, কামাল (৩৮) সহ অজ্ঞাতনামা ৪০/৪৫ জন জোটবদ্ধ ভাবে হাতে দা, ছেনদা, লোহার রড,বাশের লাঠি, আগ্নেয়াস্ত্র অস্ত্রসস্ত্র সহকারে শেখ ফরিদের বাড়িতে প্রবেশ করে তাদেরকে ঘেরাও করে প্রধান আসামি মোশারফ হোসেন ভূইয়া ওরফে মশার হুকুমে আব্বাস তার হাতে থাকা ধারালো ছেনদা দ্বারা খুন করার উদেশ্য তার বড় ভাই রফিক চেয়ারম্যান ও আমাকে কোপ মারে।

 

এই সময় তার ভাতিজা কাউসার(২৩) ঠেকাতে গেলে উক্ত কোপ আমার ভাতিজা কাউসার এর মাথায় লাগিয়া গুরতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। আসামি নাজমুল তার হাতে থাকা ধারালো ছেনদা দিয়া খুন করার উদ্দেশ্যে আমার মাথায় কোপ দিলে উপস্থিত লোকজন বাদীকে সরিয়ে দিলে গাড়ির চাকার উপর পড়ে ডান হাতে জখম প্রাপ্ত হন এবং প্রাণে বেঁচে যান। বাকি আসামিরা তাদেরকে এলোপাথাড়িভাবে মারপিট করিয়া আমাদের প্রত্যেকের মরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে।

 

প্রধান আসামি মোশারফ হোসেন ভূইয়া ওরফে মশা আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা খুন করার উদ্দেশ্যে বাদীর ভাই রফিক চেয়ারম্যানকে লক্ষ্যে করিয়া গুলি করলে লিয়াকত আলী (৪৫) এর মাথায় ডান পাশে গুলি লাগিয়া গুরত্বর জখম হয়। তাছাড়া সানিকেও (২৮) দা দিয়ে খুন করার উদ্দেশ্যে কোপ মারিলে সানির ডান পায়ে গুরুতর জখম করে। এঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা অবিলম্বে হামলায় নেতৃত্ব দেয়া মোশারফ বাহিনী ও পেছনের ইন্ধনদাতাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়েছেন।


এরআগের দিন রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেলে নাওড়া গ্রামে মরহুম মজলু মিয়ার কুলখানীর অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর সন্ত্রাসী মোশারফসহ তার বাহিনীর লোকেরা সে বাড়ি ঘিরে এলোপাথারী গুলিবর্ষণ, ইটপাটকেল ও টেটা নিক্ষেপ শুরু করে। এসময় তাকে চারদিক থেকে লোকজন ঘিরে তার প্রাণরক্ষার চেষ্টা করে। এসময় সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে আহত হয় রংধনু গ্রুপের এমডির পিএস জিহাদ ও কাউসার নামে এক যুবক।

 

এছাড়া তাদের ছোড়া ইট পাটকেলের আঘাতে আহত হয় আওলাদ হোসেন । পরে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে র‌্যাব পুলিশ গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। এদিকে এই হামলার ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন