Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ফতুল্লায় বিদ্যালয়ের মাঝে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ঘটতে পারে দুর্ঘটনা  

Icon

আরিফ হোসেন

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২২, ০৫:৩৯ পিএম

ফতুল্লায় বিদ্যালয়ের মাঝে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, ঘটতে পারে দুর্ঘটনা  
Swapno

# ভবনটি অপসারণ করার এখতিয়ার আমাদের নেই : হোসনে আরা
# নতুন করে সংস্কার করা হবে : ব্রোজেন্দ্র নাথ সরকার

 

সদর উপজেলার কুতুবপুর পাগলা উচ্চ বিদ্যালয় একটি সনামধন্য প্রতিষ্ঠান হলেও একটি জরাজীর্ন ভবন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্যবহার অনুপযোগী একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়েই এই বিতর্ক। ভবনটির প্রত্যেকটি পিলারের চারপাশ ফাটল ধরেছে। ইট - সিমেন্ট খসে রড বের হয়ে গেছে। ভাঙনের মাত্রা এমন যে, যে কোন সময় ভবনটি ভেঙে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।

 

জরাজীর্ন এই ভবনটির পুরোটাই পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে পাগলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে পড়েছে । দীর্ঘ সময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সেই ভবনটিতে ক্লাসও করেছে তবে পাগলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন হওয়াতে শিক্ষার্থীরা নতুন ভবনে চলে আসে। কিন্তু জরাজীর্ন ভবনটি আগের অবস্থাতেই রেখে দেয়া হয়েছে।
 
তবে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত ভবনটি অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ যে কোন সময় ভবনটি ধসে পরতে পারে কিন্তু দেখা গেল সেই ঝুঁিকপূর্ণ ভবনটির আশেপাশেই পাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও খাবার খায় এবং খেলাধুলা করে। ফলে যে কোন সময় ভবন ধসে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা । তাই অনেকেই মনে করছেন পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের গাফিলতির কারণেই ভবনটির সাথে সাথে শিক্ষার্থীরাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
 
এ বিষয়ে পাগলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হোসনে আরার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি যুগের চিন্তাকে জানান, এই ভবনটি পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন । বেশ কয়েক বছর আমাদের শিক্ষার্থীরা সেখানে ক্লাস করেছে। এখন শিক্ষার্থীরা নতুন ভবনে ক্লাস করে । আমরা দেখেছি ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু কি করা যায়। এই ভবনটি অপসারণ করা বা ভাংঙ্গার এখতিয়ার আমাদের নেই ।

 

আমরা শিক্ষার্থীদের সেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সামনে যেতে দেই না । তাই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও আমাদের কোন সমস্যা হচ্ছে না।এ বিষয়ে পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ব্রোজেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, আপনারা যে ভবনটির কথা বলছেন সে ভবনটি পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন এবং জায়গাটিও আমাদের । যেটিতে দীর্ঘদিন যাবত আমাদেরও কোন রকম কার্যক্রম নেই।

 

পাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সময় তারা ক্লাসও করেছে,বর্তমানে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। আমরাও পরিকল্পনা করে রেখেছি ভবনটি খুব শীঘ্রই সংস্কার করবো এবং আমাদের শিক্ষা কার্যক্রমের কাজে লাগাবো। আগামী দু-একমাসের মধ্যে আমরা কাজ শুরু করে দেবো।
 
এ বিষয়ে পাগলা উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিবাবক সদস্য রেজাউল করীম বলেন, প্রথমে এই ভবনটি এক তলা ছিল কিন্তু পাগলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ দোতলা করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করায় আর ভবনটি তারাই ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। আমরা এই ভবনটি গোডাউন হিসেবে রেখেছি, আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে বার বার বলেছি আপনাদের করা ভবনটি ভেঙে ফেলুন কিন্তু তারা করেনি।

 

তবে তারা এই ভবনটি ভেঙে দিলে আমরা এই ভবনটি নতুন করে সংস্কার করবো।এ বিষয়ে পাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি জাহের মোল্লা জানান, ভবনটি যেই অবস্থায় রয়েছে যে কোন সময় ভেঙ্গে পরতে পারে, আর ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা । তাই আমি মনে করি অতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা উচিৎ।

 

আপনারা মিডিয়ার মাধ্যমে তুলে ধরেন যাতে করে শিক্ষা কার্যক্রমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সমস্যাটা দেখে সমাধান করতে পারে । আর আমরাও এদিকে চেষ্টা করছি পাগলা উচ্চ বিদ্যালয় ও পাগলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নের্তৃবৃন্দরা একসাথে বসে কিভাবে এ সমস্যার সমাধান করা যায়। বিবি/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন