আড়াইহাজারে অর্ধশতাধিক স্পটে চাঁদাবাজি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২২, ০৮:৫১ পিএম
# র্যাবের হাতে চাঁদাবাজ গ্রেপ্তার হলেও বন্ধ হয়নি চাঁদাবাজি
আড়াইহাজারে অর্ধশতাধিক স্পটে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় বন্ধ হচ্ছে না। বাস, ট্রাক ও সিএনজি, অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন চালকদের চাঁদা দিয়ে চলাচল করতে হয়। তাদের অভিযোগ, পরিবহন চালকরা বাধ্য হয়েই চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদা না দিয়ে সড়কগুলোতে চলাচল করার কানো উপায় নেই।
আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকা চাঁদা আদায় হচ্ছে। চাঁদার টাকার গন্তব্য ও ভাগ কোথায় যায় সে বিষয়ে কেউই সরাসরি মুখ খুলতে চায় না। তবে একাধিক সূত্র বলছে, চাঁদার টাকার গন্তব্য ওপেন সিক্রেট। মুখ খুললেই বিপদ। আর অনেক সময় চাঁদা আদায় এবং ভাগভাটোয়ারা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।
চাঁদাবাজির স্পটগুলো হচ্ছে, ঢাকা বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের পায়রা চত্বর, পৌরবাজার, সাব রেজিস্ট্রে অফিস, পুরাতন স্টীল ব্রীজ, নরসিংদী মদনগঞ্জ সড়কের নোয়াপাড়া, মাইক্রো স্ট্যান্ড, আড়াইহাজার জাঙালিয়া সড়কের থানার মোড়, পল্লী বিদ্যুত সংলগ্ন , গোপালদী বাজার বাসস্ট্যান্ড, বিশনন্দী ফেরিঘাট, খাগকান্দা লঞ্চঘাট, মোল্লারচর,্ উচিৎপুরা, জাঙ্গালিয়া বাজার, মানিকপুর, বিশনন্দী, দয়াকান্দা, প্রভাকরদী, ইদবারদী. কালিবাড়ি, পাঁচরুখী, পুরিন্দাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক স্পটে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের অভিযোগ, আড়াইহাজার এলাকাটি কৃষি এলাকা হলেও বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের ফলে ক্রমেই এটি একটি শিল্প এলাকায় পরিণত হয়েছে। এখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন সাধারণ লোকজন। আর শত শত পরিবার সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু রাস্তায় অটোরিকশা বের করলেই চাঁদা দিতে হয়।
শুধুমাত্র আড়াইহাজার ও গোপালদী পৌরসভাই টোলের নামে ১৮ স্পটে অবৈধভাবে চাঁদা করছে। গত বৃহস্পতিবার পাঁয়রা চত্বরে রনি নামে এক যুবক ইজিবাইককে থামানোর জন্য ইশারা দেয়। চালক গাড়ি থামালে ৩০ টাকা দিতে বলে। চালক কিসের টাকা জিজ্ঞেস করলে সে বলে এটি আড়াইহাজার পৌরসভার ট্যাক্স। চালক টাকা দিতে না চাইলে তাকে লাঠি দিয়ে শারীরিকভাবে আঘাত করে। আশপাশের অটো চালকরা জানায় এই এলাকায় এ চিত্র নিত্যদিনের।
এ ব্যপারে আড়াইহাজার পৌরসভা সচিব তাছলিমা আক্তার বলেন, নির্ধারিত কয়েকটি স্ট্যান্ডে নির্দিষ্ট পরিবহন থেকে পণ্য উঠা নামার ক্ষেত্রে সরকারি বিধি অনুযায়ী টোল আদায়ে ইজারা দেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলে নিয়ম অনুযায়ী টোল আদায়ের শর্তে ইজারা দেওয়া হবে। এখনও পৌরসভার কোন স্ট্যান্ড ইজারা দেয়া হয়নি। যদি এখন কেউ পৌরসভার নাম ব্যবহার করে কোন টাকা আদায় করে এর দায় দায়িত্ব পৌরসভার নয়। প্রশাসনকে বলব পৌরসভার নাম ব্যবহার করে যদি কেউ অবৈধভাবে টাকা তোলে তাদের বিরুদ্ধে যেন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একই কথা বললেন গোপালদী পৌর কর্তৃপক্ষ।
আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, আড়াইহাজারে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন স্থানের স্ট্যান্ডগুলোতে টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ব্যপারে দ্রুত এ্যাকশন নেয়া হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনকে এব্যপারে তৎপর থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া আছে।
গত রোববার (২২ মে) সাব রেজিস্টারের কার্যালয়ের সামনে রাস্তা থেকে ইজি বাইক থামিয়ে জোরপূর্বক চাঁদা নেয়ার সময় চাঁদাবাজির টাকাসহ ওসমান গনি ও গোলাম রাব্বানী নামে দুই চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১১ এর সদস্যরা। গ্রেপ্তারকৃতরা র্যাবের কাছে স্বীকারোক্তিতে জানায়, তারা পরস্পরের যোগসাজসে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় জন্য ঢাকা বিশনন্দী আঞ্চলিক মহাসড়কের আড়াইহাজার উপজেলার সাব রেজিস্টারের কার্যালয় এলাকায় চলাচলরত ইজিবাইক চালকদের গুরুতর আহত ও ক্ষয়ক্ষতির ভয়ভীতি দেখিয়ে বলপুর্বক ইজিবাইক থেকে দৈনিক ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করে আসছে। এ ব্যপারে সোমবার র্যাবের এসআই ইমরান হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে গত ১২ মে নরসিংদী মদনগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের গোপালদী পৌরসভার মোল্লারচর বাজার ভাই ভাই স্টোরের সামনে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির গতিরোধ করে চালকদের গুরুতর আহত ও ক্ষয়ক্ষতির ভয়ভীতি দেখিয়ে একই কায়দায় জোরপূর্বক অবৈধভাবে চাঁদা আদায় কালে জাকির হোসেন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে র্যাব। আটক জাকির দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের গাড়ির গতিরোধ করে বলে স্বীকারোক্তী দেয়। এ ঘটনায় র্যাবের এসআই মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।এমই/জেসি


