সদর উপজেলার আদর্শ নগরের আলোচিত শরীফ মাদবর হত্যা মামলায় ২৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মুন্সী মশিয়ার রহমান শুনানি শেষে ২৯ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মনিরুজ্জামান বুলবুল চার্জ গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আগামী ১৩ জুলাই প্রথম স্বাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।’ মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন ও অ্যাডভোকেট মানজুদুল রশিদ রিফাত।
দুই বছর পরে হলেও মামলার চার্জ গঠনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শরীফ মাদবরের পিতা আলাল মাদবর। তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।‘শরীফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত একজন ছাড়া বাকি সবাই জামিনে। তারা মামলা তুলে নিতে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন। সন্ত্রাসীরা সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সুষ্ঠু বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করতে পারেন’ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী। বাদী পক্ষের আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকনও একই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সাবেক এই পিপি বলেন, ‘আসামিরা অত্যন্ত খারাপ প্রকৃতির, সন্ত্রাসী। তারা বাদীকে হুমকি দিয়েই যাচ্ছে।
যে কোনো সময় তারা বাদীর ক্ষতিও করতে পারে। এমনকী ভয়ভীতি দেখিয়ে সাক্ষীদের ঘুরিয়েও ফেলতে পারে। এমন হলে সুষ্ঠু বিচার বঞ্চিত হবেন বাদী পক্ষ।’ সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামিদের কারাগারে রেখে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্নের পক্ষে বাদী পক্ষের অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মানজুদুল রশিদ রিফাত।
তিনি বলেন, ‘সাক্ষীরা যদি সঠিকভাবে স্বাক্ষ্য দিতে পারেন তাহলে অভিযুক্তদের মধ্যে অধিকাংশেরই সর্বোচ্চ শাস্তি হবে।’ এর আগে গেল বছরের ২২ জুন ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ইন্সপেক্টর মো. শাহজাজান মিয়া। চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি আদালতে তা গৃহিত হয়। এতে বাদীসহ সাক্ষী ৩৬ জন। অভিযুক্তরা হচ্ছেন, শাকিল ওরফে বড় শাকিল, লালন, লিমন ওরফে রিমন, শাকিল ওরফে ছোট শাকিল, রাব্বি, সম্রাট, শাহিন, ইসমাইল, রবিন, দিপু, ওসমান ওরফে জীবন, সোহাগ, রকি, রাসেল, মেহেদী হাসান, লিমন, রাসেল, রাজু, দেলোয়ার, আসিফ, আশিক দেওয়ান, মিজান, আল-আমিন, হৃদয়, মাহবুব, সাগর ও আসাদ। অভিযোগপত্রে নূর মোহাম্মদ (১৫), আবুল কালাম ও কমল মিয়া নামে তিনজনকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক দেখানো হয়েছে। এছাড়া সাজ্জাদ ও রানা নামে দুজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়।
২০২০ সালের ১লা এপ্রিল সকাললে পশ্চিম দেওভোগ আদর্শ নগর এলাকার শ্যামলের গ্যারেজে শরীফ মাদবরকে কুপিয়ে হত্যা করে একদল দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় একই দিন বিকেলে নিহতের পিতা আলাল মাদবর ফতুল্লা মডেল থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ইসমাইল, রাসেল, লিমন ও আশিক ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। শরীফ মাদবর হত্যা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ শাহদাত হোসেন।
তিনি ২০২০ সালের ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করলে এর বিরুদ্ধে নারাজি দেন বাদী। পরে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দুবাই ফেরৎ শরীফ মাদবর সদর উপজেলার পশ্চিম দেওভোগ আদর্শ নগরে বাবা-মায়ের সাথে থাকতেন। হত্যাকাণ্ডের দুই মাস আগে স্থানীয় হাজিপড়া এলকার তাহমিনা আক্তার রুনাকে ঘটা করে ঘরে তুলে এনেছিলেন। শরীফ মাদবর যখন নির্মম হত্যার শিকার হোন তখন তার স্ত্রী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।এমই/জেসি


