Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

রূপগঞ্জে বেকারী পণ্যে দ্বিগুন দাম বৃদ্ধি

Icon

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২২, ১০:৩৩ পিএম

রূপগঞ্জে বেকারী পণ্যে দ্বিগুন দাম বৃদ্ধি
Swapno

 

রূপগঞ্জের আনাচে ব্যঙ্গের ছাতার মতো যত্রতত্র গড়ে ওঠেছে অনুমোদনহীন বেকারী ও আইসক্রিম ফেক্টরী। এসব অনুমোদনহীন বেকারীগুলোতে নিম্ন মানের নাস্তা সামগ্রি তৈরীতে বিষাক্ত রং ও ক্যামিকেল মিশিয়ে ডায়িং রং ব্যবহার করা হচ্ছে এবং বাজারজাত করে স্থানীয়দের অখাদ্য সরবরাহ করছে বলে রয়েছে অভিযোগ। শুধু তাই নয় এসব বেকারী ও আইসক্রিম ফেক্টরীতে তৈরী করা

 

 নিম্ন মানের খাবার খেয়ে প্রতিনিয়ত ডায়রিয়াসহ নানা পেটের পীরায় ভুগে হাসপাতালের সরনাপন্ন হচ্ছেন স্থানীয়রা। আর এসব খাবার সাধারন শ্রমিক ও দিনমুজুরসহ স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে অবাধে।  অন্যদিকে সাম্প্রতিক পন্যমুল্য বৃদ্ধির অযুহাত দিয়ে বাড়িয়ে দিয়েছে ওইসব অনুমোদনহীন বেকারী পন্যের। তারা তাদের তৈরী নিন্ম মানের পন্যের দাম রাখছেন দিগুন।  

 

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক অব্যাহত পন্য মুল্যের দাম বেড়ে যাওয়ার এর প্রভাব পড়েছে বেকারী পন্যে। বাজারে আটা, ময়দা ও চিনিসহ গুরুদুধের দাম কিছুটা বাড়লেও এ অঞ্চলের বেকারী ব্যবসায়ীরা তাদের পন্য মুল্য দিগুন লিখে বাজারে ছেড়েছে। এতে নিন্ম আয়ের লোকজন চরম বিপাকে পড়েছেন । স্থানীয় ভক্তবাড়ি এলাকার রিক্সা চালক লাভলু মিয়া বলেন, আগে যে বেকারীর রুটি ১০ টাকায় কিনতে পারতাম, এখন তা ২০ টাকা। আবার ৫টাকার কেক এখন ১০ টাকা। এভাবে সব বেকারীর খাবারের দাম দিগুন করা হয়েছে।

 


সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায়  বেকারী রয়েছে ৫০টির অধিক। এসবের মাঝে কাঞ্চন পৌর এলাকায় ২টি, রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নে ১১টি, দাউদপুরে ২টি, ভুলতায় ২টি,গোলাকান্দাইলে ২টি,মুড়াপাড়ায় ৩টি,ভোলাব ২টি একই এলাকায় আইসক্রীম ফেক্টরী রয়েছে রূপগঞ্জে ৪টি, কায়েতপাড়ায় ১টি, মুড়াপাড়ায় ২টি, ভুলতায় ২টি আইসক্রিম ফেক্টরী। এছাড়াও এসব হাট বাজারে ৪ শতাধিক খাবার হোটেল ও নাস্তা সামগ্রির দোকান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের দেখবালের দায়িত্বে রয়েছেন মনিরুল ইসলাম খান নামের একজন সেনেটারী ইন্সপেক্টর। ফলে ভেজাল ও নিন্ম মানের খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছে এ এলাকার সাধারন জনগণ।  

 


স্থানীয়রা পাড়া মহল্লার মুদি দোকান থেকে অস্বাস্থ্যকর পাউরুটি,বিস্কুট,কেক ইত্যাদি খাবার কিনে প্রতারিত হচ্ছে। এছাড়াও শিশু খাদ্য জাতীয় খাবার, টোস্ট, বনবনি,ঝালমুড়ি,মবিলে পোড়ানো বাদাম ভাজা,ডেনিস ও পেট্টিস,বার্গার ও মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরী করে  আসছে। এসব খাবারগুলোর স্বাস্থ্যগত মানের কোন সনদ না থাকায় প্রতারিত হলেও প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না তারা।

 


অভিযোগ রয়েছে, এসব বেকারী ও আইসক্রিম কারখানায় অতি নিন্ম মানের খাদ্য দ্রব্য ও বিষাক্ত ক্যামিকেল ব্যবহার করা হয়। পঁচা বাশি খাবার গুলোই অতি মুনাফার লোভে বিশেষ পক্রিয়ায় পুনঃ বাজারজাত করে আসছে তারা।  তাদের একদিকে নেই কোন প্রকার অনুমোদন।  অন্যদিকে এসব বাজারজাত করা মেয়াদোত্তীর্ণ ফেরত দেয়া খাবার গুলোকে বিশেষ প্রক্রিয়ার অন্য খাবারে রূপান্তর করে ফের বাজারে বিক্রি করছে। এসব খাবারের মাঝে মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটিকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় টোস্টে রূপান্তর আবার রসগোল্লার বাশি রস মিশিয়ে  মিষ্টি সিঙ্গারায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়াও টোস্টগুলোকে মিষ্টিটোস্টে রূপান্তর করে বাজারজাত করছে এসব বেকারী সামগ্রি।

 


 এ অঞ্চলের আইসক্রিম ফেক্টরীগুলোর অবস্থা আরো নাজুক। এসব আইসক্রিমগুলো ফেরী করে বিক্রি করছে কোমলমতি শিশুদের মাঝে। শিশুরা এ আইসক্রিম চুষে খেলে তাদের জিহ্বায় কৃত্রিম রং আটকে যেতে দেখা গেছে। এসব রং মাখা আইসক্রিম খেয়ে শিশুরা পেটের পীরা সহ নানা অসুখে ভুগছে।  এসব  প্রতিষ্ঠানের মানগত মূল্য না থাকলেও ব্যাহ্যিক আকর্ষনে ক্রেতারা এসব খাদ্যদ্রব্য কিনে খাচ্ছেন।  


উপজেলার অন্যান্য বেকারী ও আইসক্রিম ফেক্টরীতে গিয়ে দেখা যায় আরো ভয়াবহ চিত্র। শিশু শ্রমিক ব্যবহার ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরীর দৃশ্যই প্রাধান্য পেয়েছে এসব প্রতিষ্ঠানে। কোন প্রকার বিশেষজ্ঞ ছাড়াই তৈরী হচ্ছে নানা খাদ্য সামগ্রি। এসব খাদ্য সামগ্রিগুলো গ্রামের অলিগতিতে ও পাড়া মহল্লার মুদি দোকানে পরিবেশন  করে অতি নিন্ম শ্রেণির ভেজাল খাবার খাওয়াচ্ছে তারা। তবে কোন প্রকার বাধা ছাড়াই তাদের দৌড়াত্ন অব্যাহত রেখেছেন তারা।

 

 

দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে প্রশাসনেরও। উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও ২ টি পৌরসভায় সরকারীভাবে সেনিটেশন কর্মকর্তা রয়েছে কেবল একজন। বিধি মোতাবেক তার অধীনে একজন এলএমএসএস থাকার কথা থাকলেও রূপগঞ্জে নেই কোন সহযোগী। এমনকি ফরমালিন টেস্ট মেশিন ব্যবহারে ব্যবসায়ী সমিতির আপত্তিমুলক হাইকোর্টে রিট পিটিশন থাকায় ভেজাল প্রতিরোধে ইেন কার্যত ভুমিকা।  একইভাবে এনালাইজার ,দুধের বিশুদ্ধতা মাপার যন্ত্র লেকটোমিটারেই তাদের কাজ সীমাবদ্ধ।


 
 এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা সেনেটারী ইন্সপেকটর মনিরুল ইসলাম খান জানায়,  তিনি ২০১৫এর সেপ্টেম্বরে এই এলাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বেশ কয়েকটি কারখানা পরিদর্শন করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে ডায়িং রং ও ফ্লেভার ব্যবহারে অনিয়ম পাওয়ায় একাধিকবার সতর্ক করেছেন।  এ সময় জনবল না থাকায় নিয়মিত তদারকি সম্ভব হয় না বলে জানান তিনি। তিনি আরো জানান, পুরো উপজেলায় কেবল মেসার্স মুসলিম বেকারী ছাড়া কারোই বিএসটিআই সনদ নেই। ফলে অনুমোদনহীন হলেও এসব  প্রতিষ্ঠান গুলোকে স্থানীয়ভাবে দেখবাল করা হচ্ছে।  


 উপজেলা পরিবার পরিকল্পণা কর্মকর্তা ডাক্তার আইভি ফেরদৌস শোভা বলেন,  বেকারী ও আইসক্রিম ফেক্টরীগুলোকে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় বাড়তি নজরদারীতে রাখা হয়েছে। তবে জনবল না থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। জনসাধারনের উচিত খাবারের গুনগত মান দেখে খাদ্য গ্রহণের। অন্যথায় দ্রুত পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হবেন। তাই জনসচেতনতা জরুরী।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন