সিভিল সার্জনের চোখে পড়েনি অবৈধ ‘সেতু জেনারেল হাসপাতাল’
আরিফ হেসেন
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২২, ০৭:১২ পিএম
নারায়ণগঞ্জে বেশ কয়েকদিন যাবৎ অবৈধ যে সকল ক্লিনিক, ডায়গনস্টিক সেন্টার রয়েছে সিভল সার্জনের নেতৃত্বে দুদিন অভিযান করা হলেও এখনো কিছু কিছু ক্লিনিক আছে যারা অবৈধভাবে তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এমনকি তাদেরকে অবৈধ তালিকাতেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বৈধ তালিকাতেও তাদের নাম নেই। তাহলে কী করে তারা এসব ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক হাসপাতাল চালাচ্ছে তা নিয়ে বিস্ময় ও ক্ষোভের অন্ত নেই সাধারণ মানুষের।
তার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে ফতুল্লা শিবু মার্কেট এলাকার কুতুবআইলে হাজী সাইজুদ্দিন মাদ্রাসার পূর্ব পাশে হাজী নুরু উদ্দিন প্লাজার ২য় তলায় সেতু জেনারেল হাসপাতাল এন্ড মেডিকেল সার্ভিস রয়েছে।
আর সেটা কোন রকম অনুমোদন ছাড়াই প্রকাশ্য সাধারণ মানুষকে অবৈধভাবে চিকিৎসা সেবার নামে বহুদিন যাবৎ প্রতারিত করে যাচ্ছে। তবে সিভিল সার্জনের ব্যাপক অভিযানে চোখে পড়েনি এই অবৈধ সেতু জেনারেল হাসপাতাল এন্ড মেডিকেল সার্ভিসটি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ফ্লাট বাসা ভাড়া নিয়ে কোন রকম অনুমোদন না নিয়েই তারা দিব্যি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আবার সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়াই অনভিজ্ঞ ডাক্তার কিংবা আয়া বুয়া দিয়ে করা হচ্ছে নানা ধরনের অপারেশন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা ।
এ বিষয়ে সেতু জেনারেল হাসপাতাল এন্ড মেডিকেল সার্ভিস এর মালিক মিজানুর রহমানের স্ত্রী জানান, আমরা সিভিল সার্জনের কাছে আমাদের এই হাসপাতালের অনুমোদনের জন্য কাগজপত্র জমা দিয়ে রেখেছি । আর আমরা এখন শুধু নরমাল ডেলিভারি করাই আমি, যতটুকু জানি নরমাল ডেলিভারী করতে কোন রকম অনুমোদন লাগে না।
আমরা এখনো আমাদের হাসপাতালটি সম্পূর্ণভাবে চালু করিনি এখনো কোন মেশিন পত্র কেনা হয়নি। আমরা ঢিলেঢালে ভাবে এই হাসপাতালটি চালাচ্ছি অনুমোদন পেলে সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসা সেবা দিব। প্রতিদিন দুই একজন রোগী আসে আর সেটা দিয়ে আমরা আপাতত ভাড়া চালাচ্ছি আমরা চেষ্টা করছি খুব শীঘ্রই অনুমোদন নিয়ে সম্পূর্ণভাবে এ হাসপাতালটির কার্যক্রম করবো ।
ইতিমধ্যে জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে ৫ টি ক্লিনিক সিলগালা করা হয়েছে । এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান জেলা সিভিল সার্জন । তবে একটা বিষয় যা অনেককেই হতাশ করেছে সেটি হচ্ছে সিভিল সার্জনের অভিযান টিম বারবার ঘুরে ঘুরে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালালেও ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহরে তেমন অভিযান চোখে পরেনি ।
জেলা স্বাস্থ্য সূত্রে জানা যায় , ৫টি উপজেলায় ১৫৪ টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা দ্বিগুনের থেকেও বেশি। এর মধ্যে নিবন্ধন আছে ১৫৪ টির।
তবে এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে অনেক ক্লিনিকের নাম বৈধ তালিকার মধ্যে নেই| এমনকি অবৈধের তালিকার মধ্যেও নেই| কিন্ত সেই সকল ক্লিনিক, ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলো কিভাবে চলছে ,এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা, জেলা সিভিল সার্জন কি করছে ?
তাদের দুর্বলতা কোথায় রয়েছে যার জন্য তারা ঠিকভাবে অভিযান পরিচালনা করছেনা। তারা দাবি করছেন এসকল অবৈধ ক্লিনিক, ডায়গনস্টিক এর মাধ্যমে সাধারণ জনগণ আর কত প্রতারিত হলে সিভিল সার্জনের ঘুম ভাঙ্গবে।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, আমরা গতকালও ফতুল্লায় অভিযান চালিয়েছি ,আমাদের চোখে পড়েনি যেহেতু আপনারা এখন জানিয়েছেন আমরা খোঁজ নিচ্ছি এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।এসএম/জেসি


