# পুলিশের উপর হামলা করেও পার পেয়ে যান
# বিভিন্ন কায়দায় নারীদের মাধ্যমে মাদক আনে
ফতুল্লার তল্লা এলাকার মাদকের ডন শাহিনের মাদক ব্যবসা আগের মত জমজমাট হয়ে পরিচালিত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলছেন তার মাদককারবারী আগের থেকে আরও জমজমাট হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে তার মাদক স্পটে পুলিশ অভিযান চালাতে গেলে শাহিনের বাহিনী পুলিশের উপর হামলা করেও পার পেয়ে যায়। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মামলা হলেও গ্রেপ্তার হয়নি তিনি। তাই তার মাদক ব্যবসা আগের থেকে আরও জমজমাট হয়ে চলছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। অথচ প্রশাসন বরাবর বলে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় নেই। অভিযোগ রয়েছে পুলিশকে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই মাদককারবারী করে যাচ্ছে। পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় পার পেয়ে যাওয়া সে আরও বেশি সাহসের সাথে মাদক ব্যবসা করে যুব সমাজকে ধ্বংস করছে।
পুলিশের দাবী মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজের এবং দেশের শত্রু। মাদককারবারি করে কেউ পার পাবে না। ফতুল্লা রেললাইন তল্লা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শাহিন। তল্লা এলাকায় গেলে স্থানীয়রা জানান, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী শাহিনের অত্যাচারে জিম্মি হয়ে আছে এলাকাবাসী। সেই সাথে তার বেপারে ছবির সিনেমাকে হার মানানো গল্প বের হয়ে আসে। তিনি বিভিন্ন মসিজদ মাদ্ররাসায় টাকা পয়সা দান করে দানবীর সেজে আছেন।
অন্যদিকে মাদকের মাধ্যমে যুব সমাজকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তার নিয়ন্ত্রণে ফতুল্লা রেললাইন থেকে শুরু করে তল্লা হাজীগঞ্জ পর্যন্ত মাদক ব্যবসা চলে। সম্প্রতি জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে মাদকের হার্ট চানমারি বস্তি উচ্ছেদ হওয়ার পর তার ব্যবসা বেশি বিক্রি বেড়ে যায়। মাদক সেবনকারীরা এখন তার লোকজনের কাছে গিয়ে মাদক পায়।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ওয়ান এলিভেনের আগে চানমারি রেললাইন থেকে শুরু করে আজমেরী বাগ ও তল্লা জেমস ক্লাব পর্যন্ত আদিপত্য বিস্তার করে হেরোইন ব্যবসা করতেন সারোয়ার নামের এক ব্যক্তি। সারোয়ারের জায়গায় গত ১০ বছর যাবৎ আদিপত্য তৈরী করে ওই এলাকা গুলোতে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করেন পুলিশের উপর হামলার মূল হোতা শাহিন। এই ১০ বছরে শাহিন মাদকের ডন হিসেবে পরিচিত লাভ করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, ২০০৯ সনে শাহিন ও তার পরিবার তল্লা পোরা মসিজেদের পিছনে একটি টিনের ঘরে ভাড়া থাকতেন। তখন তার পিতা রাজমিস্ত্রী হিসেবে কাজ করতেন আর শাহিন হেল্পার হয়ে কাজ করতেন। পরবর্তীতে তিনি একটি গার্মেন্টস কারাখানার প্রিন্ট সেকশনে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরী করেন।
এই অল্প টাকার রোজগারে তাদের পরিবার তেমন একটা ভালো ভাবে চলতনা। বেশি টাকা উপার্জনের জন্য এক পর্যায়ে সারোয়ারকে সরিয়ে মাদকের ডন এই শাহিন ওই এলাকায় আদিপত্য বিস্তার করে। পর্যায় ক্রমে মাদক ব্যবসা করে রাতারাতি তিনি হয়ে উঠেন বৃহত্তর তল্লা এলাকার মাদক সম্রাট। এই মাদক ব্যবসার বদৌলতে রাতারাতি কোটি টাকা আয় করে বর্তমানে ফতুল্লা বন্দরে ৬টি বাড়ির মালিক তিনি। ফতুল্লা চটলার মাঠ এলাকায় ১০ তলা ফান্ডেশনের ৩ তলা কমপ্লিট বাড়ি রয়েছে তার। এছাড়াও বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় শাহিন এবং তার পিতা মাতার নামে বাড়ি রয়েছে। তার অন্য কোন ব্যবসা বাণিজ্য না থাকলেও তিনি কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে যান এই ১০ বছরে। তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয় না। তার নিয়ন্ত্রণে এখন কয়েকশ যুবক চলে। এমনকি এই শাহিনের জুতা পর্যন্ত আরেকজনে পরিয়ে দেয়। যা অনেক সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।
এদিকে পুলিশের উপর হামলার অন্যতম আসামী ও মাদক সম্রাট শাহিন এই শাহিনের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় বিশেষ পেশার লোকেরাও আর্থিক সুবিধা নেন বলে অভিযোগ উঠে। সেই সাথে পুলিশের কিছু সদস্য নিয়মিত আর্থিক সুবিধা পান বলে জানান তার কাছের লোকজন। এই মাদক সম্রাটের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে আছেন শাহ আলম। মূলথ শাহ আলমের নেতৃত্বে মাদক ব্যবসা চলে। সেই সাথে যুব সমাজকে বাচাতে হলে তাকে যেন চিরতরে এই এলাকা থেকে বিতারিত করা হয় সেই দাবী তোলেন।
অন্যদিকে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে জানান, ফতুল্লা তল্লা রেললাইন এলাকায় হাজীগঞ্জ পর্যন্ত শাহিনের নেতৃতে দিব্বি মাদক ব্যবসা পরিচালিত হয়। তার এই মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য কবির হোসেন বাবু সহ ২০ থেকে ৩০ জন ছেলে নিযুক্ত থাকে। সন্ধ্যা হলেই ওই এলাকার ওলিতে গলিতে তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে মাদক ব্যবসা করে থাকেন। এই মাদক বিক্রেতাদের পরিচালনা করেন মাদকের ডন শাহিন। মাদককারবারী শাহিন তল্লা এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় গোপনীয় ভাবে সিসি ক্যামেরা ফিট করে রেখেছে। ওই এলাকায় যখন পুলিশ পোশাক পরে প্রবেশ করে তখন তিনি তা ক্যামেরার মাধ্যমে মোবাইলে দেখতে পান বলে জানান স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য এএসআই রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তারা সঙ্গীয় দুই কনেষ্টেবল নিয়ে চালক জাহিদুল ইসলামের সিএনজি যোগে পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে ফতুল্লার তল্লা এলাকায় (১৩ ফেব্রুয়ারী) অভিযান চালায় ফুতল্লা পুলিশ। এসময় পুলিশ দেখে ৩জন লোক দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তখন একজনকে আটক করে দুইজন পালিয়ে যায়। তখন মাদকের ডন শাহিনের বাহিনী তাদের উপর হামলা করে। এই ঘটনা তখন ফতুল্লা থানায় মামলাও হয়। তাছাড়া শাহিনের নামে প্রায় ৬ থেকে ৮ টি মাদক মামলা রয়েছে। শাহিনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় ৬টি এবং সদর মডেল থানায় ২ টি মাদক মামলা রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানাযায়, গতবছর ১২ মার্চ ফতুল্লা সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১লক্ষ ২৩ হাজার ইয়াবাসহ শাহিন গ্রেপ্তার হয়, তার সহযোগী শাহ আলম, আল আমিন, নাছির, আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে।
এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ২০১৫ সনে ২০ এপ্রিল মাদক দ্রব্য গাঁজা, ২০১৭ সনে ৪ অক্টোবর,২০১৮ সালের ২৪ জুন ইয়াবা মামলা রয়েছে শাহিনের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সনে আজমেরীবাগ এলাকা থেকে ১৬শ ইয়াবা পিছ সহ গ্রেপ্তার হন তিনি। এছাড়াও গতবছরের ৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম তল্লা এলাকা থেকে ৭শ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট, এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ৭শ৫০ পিছ ইয়াবা সহ গ্রেপ্তার হন এই মাদক ব্যবসায়ী শাহিন।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রিজাউল হক বলেন, আমি তার বিষয়ে খোজ ঘটনার সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নিবো। তার বিষয়ে খোজ নিয়ে দেখছি।এমই/জেসি


