সিদ্ধিরগঞ্জে যুবলীগ কর্মীর উপর সন্ত্রাসী সজু বাহিনীর হামলা
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২২, ০৭:১১ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে বড়ভাইয়ের কাছে বিচার দেয়ায় রাতের আঁধারে যুবলীগ কর্মী সাগর (২৯) এর উপর দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে দুধর্ষ সন্ত্রাসী ও কিশোরগ্যাং লিডার তানজিম কবির সজু বাহিনী। এ ঘটনায় সাগরসহ দুইজন আহত হয়েছেন।
এসময় সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সাগরের মাথায় রক্তাক্ত জখম হয়। শুক্রবার (১০ জুন) রাত সাড়ে ১১টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) সিদ্ধিরগঞ্জের ৭নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলী গ্যাস রোড এলাকায় সবুজ-শ্যামল সামাজিক সংঘের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
আহতরা হলো, কদমতলী উত্তরপাড়া এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে সাগর ও কদমতলী গ্যাস রোড এলাকার ডা: কাজী রওশন আলীর ছেলে মাহবুবুর রহমান বাবু (৩১)। হামলার শিকার যুবলীগ কর্মী সাগরের বাবা রুহুল আমিন সাবেক ৭নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি এবং বর্তমান ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক এবং তার মা সেলিনা আক্তার নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সভানেত্রী।
হামলার শিকার সাগর জানায়, অনেকদিন ধরে সজু তার লোকজন দিয়ে আমাকে নানা ভাবে হয়রানী করে আসছে। আমি বিরক্ত হয়ে এ বিষয়গুলো সজুর বড় ভাই মুন্নার কাছে জানিয়ে এর জন্য বিচার চাই। এতে সে আমার উপর আরো বেশী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। শুক্রবার রাতে আমি আমার দুই বন্ধুর সাথে কদমতলী গ্যাস রোডে সবুজ-শ্যামল সামাজিক সংঘের অফিসে বসে কথা বলছিলাম।
তখন সজুর নির্দেশে তার সহযোগী ফরহাদ, মহসিন, মিলন, বাবু ও মেহেদীসহ আরো অজ্ঞাত ১০/১৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় ধারালো অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমাকে টার্গেট করে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার কপালে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয় এবং আমার নাক দিয়ে প্রচন্ড রক্ত ক্ষরণ হয়।
এছাড়া আমার সাথে থাকা আমার দুই বন্ধুকেও তারা মারধর করে। এসময় আমাদের ডাক চিৎকারে আশ-পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আমাকে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়। এ ঘটনায় রাতেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
হামলার শিকার সাগরের বাবা রুহুল আমিন জানায়, আমরা বংশগতভাবে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি এক সময় ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলাম বর্তমানে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক এবং আমার স্ত্রী নারায়ণগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু মহিলা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা সভা নেত্রী।
আর আমার ছেলে যুবলীগের রাজনীতি করে। বর্তমানে দেশে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও আমরা বিএনপির সন্ত্রাসীদের হাতে মার খাই। থানা পুলিশ আমাদের কথা শুনে না, শুনে বিএনপির লোকজনের কথা। সজুর বাবা একজন চিহ্নিত বিএনপির লোক। বিএনপি নেতার ছেলে হয়েও সজু এলাকায় যা খুশি তাই করে বেরাচ্ছে।
এই দেশের সকল মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের নিয়ে সজু একটি বাহিনী তৈরী করে এলাকাটিকে সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিনত করেছে। কেউ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে না। তাদের বাপ-ছেলের অত্যাচারে নারীরা ঘরে ঘুমাতে পারে না। আমরা প্রতিবাদ করি বলেই বার বার আমাদের উপর তারা অত্যাচার করে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে তানজিম কবির সজুর মোবাইল ফোনে একাধিক বার কল করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাফিজুর রহমান মানিক জানায়, এ ঘটনায় উভয় পক্ষই অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।এসএম/জেসি


