নদী দখল করে আ’লীগ নেতার বালু ব্যবসা
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২২, ০৮:৪২ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে অবৈধভাবে বালু ব্যবসা করার অভিযোগ উঠেছে তাজিম বাবু নামের এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। তার এই বালু ব্যবসার কারণে শীতলক্ষ্যা নদীর ওয়াকওয়েসহ এলাকার রাস্তায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। এলাকার রাস্তার উপর দিয়ে যাওয়া ড্রেজারের পাইপের কারণে প্রতিনিয়ত সড়কে চলাচলকারীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।
তাজিম বাবু সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক এবং নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী নূর হোসেনের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা। তিনি প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নীরব ভূমিকা পালন করছে। এতে ক্ষুব্দ এলাকাবাসী। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম পাড় থেকে শুরু করে নদীর মধ্য-অংশ পর্যন্ত ড্রেজারের ভাসমান ঘাট বসিয়ে ট্রলার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। যার কারণে নদীতে ড্রেজার বসানো ওই অংশ দিয়ে নৌযান চলাচল করতে পারছে না। ড্রেজারের কারণে নদী সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
জানা যায়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অনুমোদন না নিয়ে এভাবে দীর্ঘদিন ধরে নদী দখল করে বালুর ব্যবসা করে আসছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ড্রেজারে কর্মরত এক শ্রমিক জানান, বিআইডব্লিউটিএর লোকজনকে ম্যানেজ করেই তারা এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তিনি বলেন, পাইপের মাধ্যমে বালু রংধনু সিনেমা হলের পাশে বালুর গদিতে রাখেন। অতঃপর সেই বালু ট্রাক দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ, ডেমরাসহ আশেপাশের এলাকায় বিক্রি করা হয়।
ভোগান্তির শিকার হওয়া আবদুল মজিদ নামে এক রিকশাচালক জানান, ড্রেজারের পাইপের কারণে রাস্তায় রিকশা নিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। মাঝেমধ্যে এখানে ছোট ছোট দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানান, শীতলক্ষ্যা নদী দখল এবং অবৈধ বালু ও পাথর ব্যবসা ঠেকাতে ২০১৪ সালে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো এলাকা থেকে ঢাকার ডেমরা ঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নির্মাণ করা নির্মাণ করা হয় সৌন্দর্যমণ্ডিত ওয়াকওয়ে। ছুটির দিনগুলোতে এখানে দর্শণার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু তাজিম বাবুর এই ড্রেজারের পাইপের কারণে ওয়াকওয়ের একটি অংশ ভেঙে গিয়েছে। এতে করে পথচারীদের ওয়াকওয়েতে চলাচল করতে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
দিদারুল আলম নামে সিদ্ধিরগঞ্জের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে এসব অবৈধ দখলদারিত্বের কারণে শীতলক্ষ্যা নদী জৌলুস হারাচ্ছে। মাঝেমধ্যে অবৈধ ড্রেজারসহ নদীর তীরে গড়ে উঠা এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তা আগের রূপ ফিরে আসে। এতে করে দিন দিন শীতলক্ষ্যা নদী সংকুচিত হচ্ছে।
জসিম মিয়া নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ড্রেজারের পাইপের কারণে রাস্তায় মাটি দিয়ে ২-৩ ফুট উঁচু করায় ছোট ছোট ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পাঁচ-ছয়জন যাত্রী নিয়ে পার হতে হিমশিম খায়। শুধু তাই নয় বৃষ্টির মৌসুম এলেই পাইপের উপরে দেওয়া মাটি সরে গিয়ে পাইপ পিচ্ছিল হয়ে থাকে। সব থেকে বেশি সমস্যায় পড়ে বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল চালকরা। জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক তাজিম বাবু নদী দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরেই বালুর ব্যবসা করে আসছেন। কিন্তু শীতলক্ষ্যা নদী দখল করে বালুর ব্যবসা করে কিনা তা আমার জানা নেই। বিআইডব্লিউটিএর নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মাসুদ কামাল জানান, আমরা খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ রাজু জানান, আমরা শীঘ্রই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।এমই/জেসি


