Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

আসামি গ্রেফতারে সিদ্ধিরগঞ্জ রণক্ষেত্র

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২২, ০৬:০৩ পিএম

আসামি গ্রেফতারে সিদ্ধিরগঞ্জ রণক্ষেত্র
Swapno

 

# পুলিশের উপর হামলার মামলায় ৩২ জনকে আটকে ঘটনার সূত্রপাত
# পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ-র‌্যাব, আহত -২০

 

শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী বিহারী ক্যাম্প জামে মসজিদে পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। এতে ৩২জনকে আটক করা হয়। এরজের ধরে বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দারা সড়কে বিক্ষোভ ও পুলিশের বাধায় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ-র‌্যাব ও বিহারীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।  সোমবার (১৩ জুন) ভোরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় এ সংঘর্ষ ঘটে। ক্যাম্পের বাসিন্দাদের ইটপাটকেলের জবাবে শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল মেরে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় র‌্যাব-পুলিশ।

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার আদমজী জেনেভা ক্যাম্প এলাকার মসজিদে জুমার নামাজের আগে বক্তব্য দেওয়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় হওয়া মামলায় রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে ৩২ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিদ্দিরগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকশ নারী-পুরুষ।

 

এক পর্যায়ে তারা সড়কের ওপর কাঠের টেবিল, চৌকি ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে নারায়ণগঞ্জ-আদমজী-ডেমরা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। তাদের সড়ক থেকে সরে যেতে আহ্বান জানায় পুলিশ। তবে তারা সরে না যাওয়ায় পুলিশ ও র‌্যাব একসঙ্গে লাঠিপেটা করে এবং শটগানের গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

 

এ বিষয়ে আদমজী বিহারী ক্যাম্পের চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের সময় শাহী মসজিদে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় রোববার রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক পুলিশ ক্যাম্পে অভিযান চালায়। পুলিশ অনেক নারী-পুরুষকে মারধর করেছে। যারা ঘটনার সময় মসজিদে যায়নি এবং হামলায় ছিল না তাদেরও গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পের অধিবাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আমি থানায় গিয়ে বিষয়টি ডিউটি অফিসারকে জানিয়ে চলে আসি।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আদমজী বিহারী ক্যাম্প জামে মসজিদে পুলিশের এসআই সৈয়দ আজিজুল হকের উপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় ১১ জুন রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মির্জা শহীদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৫০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১২৫ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নং-১৭) দায়ের করেন। এই মামলা দায়েরের পর সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ আদমজী বিহারী ক্যাস্পে অভিযান চালিয়ে ৩২ জনকে আটক করে। পুলিশের এই গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সকাল থেকে আদমজী-চাষাড়া সড়ক অবরোধ করে রাখে বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দারা।

 

সকাল সোয়া ১০টার দিকে ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সিরাজুল ইসলাম মন্ডল ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষোভকারীদের সাথে কথা বলে তাদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা বেলা সাড়ে ১০টায় রাস্তা থেকে সরে যায়। বেলা পৌনে ১১টায় বিহারীরা আবার আদমজী নতুন বাজারে এসে অবস্থান নেয় এবং আবারো ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগ করে। এসময় নাসিক ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান ঘটনাস্থলে এসে বিহারীদের বুঝিয়ে আবার ক্যাম্পের ভেতরে নিয়ে যায়।

 

এর আগে আদমজী ইপিজেডের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর হামলা করে বিক্ষোভকারীরা। অপরদিকে ১৫ জন বিহারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে কারো নাম জানা যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মশিউর রহমান।

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আমির খসরু বলেন, শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় রবিবার রাতে ৩২ জনকে আটক করা হয়। তাদের মুক্ত করার লক্ষে সোমবার সকালে বিহারী ক্যাম্পেরা বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। যানযট নিরসনে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও র‌্যাব যৌথভাবে যানজট নিরসনে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা আক্রমনাত্মক হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে পুলিশ অর্ধ শতাধিক টিয়ারসেল ও শতাধিক ফাঁকা রাবার বুলেট ছোড়ে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও স্বাভাবিক রয়েছে।

 

এর আগে ভারতে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)কে কটুক্তি ও অপমানের বিষয়ে গত ১০ জুন শুক্রবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জে বিহারী ক্যাম্প জামে মসজিদে বক্তব্য দিতে গিয়ে হামলার শিকার হন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সৈয়দ আজিজুল হক। এসময় তাকে রক্ষা করতে গিয়ে মসজিদের সভাপতি জয়নাল আবেদীন এবং সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন রবিনসহ প্রায় ১০/১২ জন মুসুল্লি আহত হন।

 

আদমজী বিহারী ক্যাম্প জামে মসজিদে জুম্মার নামাজে ভারতের ঘটনার বিষয়টি উল্লেখ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই সৈয়দ আজিজুল হক বলেন, ভারতের বিষয়টি যাতে আমাদের দেশে কোন প্রভাব ফেলতে না পারে এবং কোনো বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য যেন সৃষ্টি না হয়। এ বক্তব্যের জের ধরে কিছু উশৃঙ্খল যুবক তার উপর হামলা করে ও মারধর করে গুরুতর আহত করে।

 

মামলায় বলা হয়, এসআই সৈয়দ আজিজুল হক নাসিক ৬নং ওয়ার্ডের বিট ইনচার্জ হিসেবে ওই এলাকায় বেশ কিছুদিন যাবত মাদক ও কিশোর গ্যাং বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। মামলায় উল্লেখিত এবং অজ্ঞাতনামা আসামীরা তার উপর পূর্ব আক্রোশ থেকেই এই ঘটনা ঘটায়।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন