রিক্সাচালক হানিফ এখন অঢেল সম্পত্তির মালিক
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২২, ০৯:২৯ পিএম
বিশ টাকা জমায় রিক্সা চালক হানিফ ওরফে রিক্সাওয়ালা হানিফ এখন অঢেল সম্পত্তির মালিক। অলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মত হঠাৎ ফুলে-ফেপে বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক বনে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে কৌতুহলের অন্ত নেই। রিক্সা চালিয়ে কিভাবে এত বিপুল পরিমান অর্থ বিত্তের মালিক বনে গেছেন এই প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। এ যেন সিনেমার গল্পকেও হারমানার মত।
তবে, বিভিন্ন সূত্র বলছে রিক্সা চালিয়ে নয় বরং মাদক, জাল স্ট্যাম্প ও প্রতারণার ব্যবসা করেই সে এই বিপুল অর্থ বিত্তের মালিক বনে গেছেন। জানা যায়, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর গ্রামের সুলতান খলিফার ছেলে হানিফ অভাবের জ্বালায় ১৯৯৬ সালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর রেল লাইন এলাকায় তার খালার বাসায় আশ্রয় নেয়। ১৯৯৬-১৯৯৯ সালে নাসিক ১নং ওয়ার্ডের সড়কপাড়া এলাকার মো: নূর মহাজনের গ্যারেজে বিশ টাকা জমায় রিক্সা চালিয়ে কোন মতে সংসার চালাতো এই রিক্সাওয়ালা হানিফ। সেখান থেকে পরিচয় হয় মোস্তাফা নামে আরেক রিক্সাওয়ালার সাথে। তার বাসায় যাওয়া আসার কারণে এই রিক্সাওয়ালা মোস্তাফার মেয়ে মোকসেদার সাথে তার বিবাহ হয়।
সড়কপাড়া এলাকার মো: নূর মহাজনের বিশ টাকা জমার রিক্সা রেখ রাজধানী ঢাকার গেন্ডারিয়া গিয়ে রিক্সা চালিয়ে জীবন নির্বাহ করে সে। পরে সেখান থেকে এসে ২০০০-২০০৫ সাল থেকে আবারো সিদ্ধিরগঞ্জ বাজারের মো: শাহাজাহান মহাজনের গ্যারেজের ত্রিশ টাকা জমায় রিক্সা চালানো শুরু করে। রিক্সা জমার টাকার জন্য প্রায় সময় রিক্সার মহাজন বাশেঁর সাথে বেধে রাখতো এই রিক্সাওয়ালা হানিফকে। এই কারণে রিক্সা চালানো ছেড়ে দিয়ে নতুন করে প্রতারণার ব্যবসা শুরু করে এই রিক্সা ওয়ালা হানিফ। ২০০৫-২০০৮ সাল থেকে শুরু করে পিতল গলিয়ে স্বর্নের চেইন, চুড়ি, কানের দুল, গলার হাড় বানিয়ে রিক্সা ওয়ালা হানিফ তার স্ত্রী, শাশুরি, খালা শাশুরি, তার শশুর মোস্তাফাকে দিয়ে বিভিন্ন জেলায় নিরীহ মানুষকে ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে বা লবনের পোটলা ধরিয়ে দিয়ে অজ্ঞান করে টাকা পয়সা লুট করে নিয়া আসে।
এই প্রতারণার কারণে রিক্সা ওয়ালা হানিফের স্ত্রী, শাশুরি, খালা শাশুরি, তার শশুর মোস্তাফা কে রংপুর জেলায় স্থানীয় লোকজন আটক করে উত্তম মাধ্যম দিয়ে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে প্রসাশনের কাছে তুলে দেয়। প্রতারণার ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে শুরু করে আবার জাল স্ট্যাম্প ব্যবসা। শুরুতে ব্যবসা ভালো হলেও শেষ টা ভালো হয়নি রিক্সা ওয়ালা হানিফের। যেতে হয়েছে কারাগারে। ২০০৫ সালে পুলিশ বাদী হয়ে হানিফের বিরুদ্ধে জাল স্ট্যাম্প ব্যবসা করার আপরাধে রাজধানী ঢাকার শ্যামপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। যাহার মামালা নং- ৫৩, তাং-২৫/০৪/২০০৫, ধারা: (২৫)ক। তখন রিক্সাওয়ালা হানিফ মিজমিজি শিরিন সুলতানার বাড়ীতে বসবাস করত। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
এ ব্যাপারে রিক্সাওয়ালা হানিফ জানায়, আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা। আমি সিদ্ধিরগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা। আমি সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্ছার। ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে এসব সম্পদ করেছি।এমই/জেসি


