ঢাকা বাইপাস সড়কের পাশে শতাধিক চোরাই তেলের খুপড়ি ঘর
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২২, ০৯:৫১ পিএম
ঢাকা চট্টগ্রাম ও ঢাকা সিলেট এবং ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের চলমান যানবাহনগুলো নিয়ন্ত্রনে রাজধানীর বাইরে দিয়ে চলাচলের জন্য তৈরী করা হয়েছে ৪৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এশিয়ান হাইওয়ে বা ঢাকা বাইপাস সড়ক।
এ সড়কটি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মদনপুর থেকে রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন,কাঞ্চন পৌরসভা ও পূর্বাচল নতুন শহর দিয়ে গাজীপুরের কালীগঞ্জ, পূবাইলের মিরের বাজার, গাছা থানা হয়ে জয়দেবপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত বিস্তৃত। এ সড়কটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নারায়ণগঞ্জ অংশে ৩টি পুলিশ ফাঁড়ির অবস্থান রয়েছে। এসব ফাঁড়ি হলো ভোলাবো তদন্ত কেন্দ্রের কাঞ্চন পুলিশ ফাঁড়ি, ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ি ও সোনারগাঁও থানার তালতলা পুলিশ ফাঁড়ি।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০৬ ইং সনের পর থেকে এ সড়কে মালবাহি গাড়ী চলাচল শুরু হলে এর পাশে অসাদু চোরাই তেল ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব ব্যবসায়ীরা বিগত দিনে দালাল মাধ্যমে জেলা পুলিশকে ম্যানেজ করে চালাতো ব্যবসা। স্থানীয় ৩টি পুলিশ ফাঁড়ির রহস্যজনক ভুমিকায় এখনো সক্রিয় শতাধিক চোরাই তেল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। এসব ব্যবসায়ীরা সড়কের পাশে দিন দুপুরে গাড়ী থামিয়ে তেল সংগ্রহ করে। এসব জ্বালানী ও ভোজ্য তেল বিক্রি করে বিভিন্ন মিল কারখানার অসাদু গাড়ী চালক ও হেলপাররা।
শুধু তাই নয়, ব্যক্তিগত গাড়ী, সরকারী পরিবহন থেকে ব্যবহৃত তেলের ট্যাংক থেকে বিশেষ পাইপের মাধ্যমে বিক্রি করা তেল স্বল্প মুল্যে কিনে নেয় তারা। আর ওইসব ক্রয় করা তেল পুনরায় স্থানীয় বাজারের খুচরা দোকানে পৌছে দেয়। এসব তেল কমদামে পাওয়াতে চাহিদাও থাকে বেশি। আরো অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা বাইপাস সড়কের পাশে থাকা শতাধিক অবৈধ চোরাই তেল ক্রয়ের খুপড়ি দোকানগুলো থেকে ফাঁড়ি পুলিশ প্রতিদিন গড়ে ১০ লিটার তেল ঘুষ হিসেবে নিয়ে ব্যবসার সুযোগ করে দেয়। একইভাবে যার যার ফাঁড়ি অঞ্চলের তেলের দোকান তাদের মনোনিত দালাল দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখে। এসব বিষয়ে স্থানীয় বৈধ তেল ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় অভিযোগ দিয়েও কোন প্রকার সুরাহা পাননি।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা বাইপাস সড়কের শুধুমাত্র রূপগঞ্জ অংশেই রয়েছে ৫০টির অধিক চোরাই তেলের খুপড়ি দোকান। এসবের মাঝে গোলাকান্দাইলের জুয়েল,ফারুক মার্কেট এলাকার রাকিব,হঠাৎ মার্কেট এলাকার নাজমুল, ফয়সাল, সাগর, আকাশ, মোবারক, কাঞ্চন ব্রিজের পশ্চিমপাশে সেলিম মিয়া, লালমাটি এলাকায় সাইফুল, পলখান এলাকায় শরীফ, কালনী এলাকায় রাজিব, রাশিদুল,সাজু, উজ্জল, মায়ারবাড়ি এলাকায় জাহাঙ্গির, ৩শ ফুট এলাকায় আসলাম, রাকিবসহ একটি সংঘবদ্দ চক্র সক্রিয়।
তাদের মালিকানায় সড়কের পাশে সামনের দিয়ে বন্ধ থাকা আবার কোনটার খোলা সাটারের সামনে রাখা খালি ড্রাম আর পাইপ ঝুলিয়ে চালাচ্ছে এমন ব্যবসা। এ সড়কে চলাচলরত বিভিন্ন প্রকার মালবাহী গাড়ীতে বহন করা তেল, চাল, ডালসহ বিভিন্ন চোরাইভাবে বিক্রি করা মালামাল ক্রয়ে রয়েছে এ সিন্ডিকেট। তাদের কারো নামে থানায় মামলা হলে তারা নিজেরা চাঁদা দিয়ে সংঘবদ্দভাবে মোকাবেলা করে। আর এসব খুপড়ি দোকান চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। পাশাপাশি স্থানীয় ৪টি পুলিশ ফাঁড়ির অসাদু সদস্যদের যোগসাজসে চলে এসব ব্যবসা।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মায়ারবাড়ি এলাকার তেল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গির আলম বলেন, পিকআপ ভ্যানে করে আমাদের তেল দিয়ে যায়। কিছুটা কমে পাই। বিক্রি করে লাভ একটু বেশি তাই এসব তেল ক্রয় করি। আমরা টাকা দিয়ে তেল ক্রয় করে চোরের খাতায় নাম দেব কেন? যারা চুরি করে তেল বিক্রি করে তাদের দোষ এটা। অপর তেল ব্যবসায়ী সাগর বলেন, আমার খুকুমনি টেডার্স নামে বৈধ লাইসেন্স রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ভালো থাকায় ঢাকা বাইপাস সড়কের পাশে খুপড়ি দোকান দিয়েছি।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ট্রাক চালক বলেন, আমরা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় মালামাল বহন করি। মাঝপথে আমাদের খাবারের টাকা জোগানের জন্য কোম্পানীর তেল বিক্রি করতে বাধ্য হই। তবে অনেকে আছে পেশাদার চোর। তারা বিক্রির জন্য ডিপো থেকে বা কোম্পানী থেকে রশিদের মাধ্যমে অপকৌশল করে থাকে। তারা নিয়মিত চোরাই মালামাল ব্যবসায় লিপ্ত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোলাবো তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ঢাকা বাইপাস সড়কে তদন্ত কেন্দ্রের কোন পুলিশ অসাদু লেনাদেনায় জড়িত বলে জানা নাই। তেল নেয়া তো নয়ই। তবে এসব চোরাই তেলের খুপড়ি ঘরগুলো পুলিশের একার সিদ্ধান্তে উচ্ছেদের সুযোগ নেই। নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মহোদয়দের আদেশ প্রয়োজন পড়ে। এদিকে ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মাহবুবুর বলেন, মহ্সাড়কের পাশের যে কোন অপরাধ দেখার দায়িত্ব হাইওয়ে পুলিশের । তাই ভুলতা ফাঁড়ি পুলিশ এসব কাজে হস্তক্ষেপ করে না। এদিকে চোরাই তেলের ব্যবসার সুযোগ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তালতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জাকির রাব্বানী। তিনি বলেন, আমাদের অভিযান দেয়ার সুযোগ নাই।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, আমরা রূপগঞ্জ থানা পুলিশ বিগত দিনে মামলা দিয়েছি। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জন্য আবেদন করেছি। এ সড়কের পাশে কাউকে এ চোরাই তেল ক্রয়ের ব্যবসা করতে দেয়া হবে না। শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করে এসব খুপড়ি ঘর উচ্ছেদ করে চোরাই তেল কারবারিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।এমই/জেসি


