Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ফতুল্লাবাসীর কাছে বর্ষা প্রকৃতির অভিশাপ

Icon

পরিচয় প্রকাশ গুপ্ত

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২২, ০৫:৪৩ পিএম

ফতুল্লাবাসীর কাছে বর্ষা প্রকৃতির অভিশাপ
Swapno

 


#একই বৃষ্টি শহরবাসীকে স্বস্তি দিলেও ফতুল্লাবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলছে

 

 

ভূপৃষ্ঠে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঊষ্ণতা রেড়ে গেছে। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানের শহরগুলোতে এখন  তীব্র দাবদাহ চলছে। আজ ৬ আষাঢ়। দিনপঞ্জী অনুযায়ী বাংলাদেশে এখন বর্ষাকাল হলেও গ্রীষ্মের প্রভাব কমেনি। তীব্র গরমের সঙ্গে বাতাসে আদ্রতার কারণে ঘাম ও গরমে মানুষের হাঁসফাঁস অবস্থা। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুও প্রবেশ করেছে। যে বায়ু হাজার হাজার টন জলীয় বাষ্প নিয়ে আকাশপথে ঘুরে বেড়ায় এবং সারা দেশে পাঁচমাসব্যাপী বৃষ্টিপাত ঘটায়।

 

নারায়নগঞ্জে এখনও মুষলধারে বৃষ্টি না হলেও দু’তিন দিন এক পসলা করে বৃষ্টি হয়েছে। এ বৃষ্টি নারায়ণগঞ্জ শহর ও ফতুল্লায় পৃথক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। গরমের মাঝে এ সামান্য বৃষ্টি শহরবাসীকে স্বস্তির পরশ বুলালেও একই বৃষ্টি ফতুল্লাবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। এক পসলা বৃষ্টিতেই ফতুল্লার অলিগলি কাদাপানিতে ভরে উঠেছে। ফতুল্লা অঞ্চলটি ডিএনডি বাঁধের অভ্যন্তরে অবস্থিত।

 

এ এলাকার নিষ্কাশন খালগুলো প্রভাবশালীরা দখল করে সেখানে ঘরবাড়ি, দালানকোঠা ও শিল্পকারখানা গড়ে তুলেছে। এ কারণে পূর্বের স্বাভাবিক নিষ্কাশন ব্যবস্থাটি ভেঙ্গে পড়েছে। বর্তমানে তাই বৃষ্টি হলেই এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ জন্য বর্ষাকালকে ফতুল্লাবাসী প্রকৃতির অভিশাপ বলে মনে করে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে মানুষ শুধু শুনে আসছে ড্রেন সংস্কার ও জলাবদ্ধতা সমাধানের কাজ চলছে। তবে, কবে এ অভিশাপ থেকে তাদের মুক্তি মিলবে তা কেউ বলতে পারছে না। এলাকার এমপি তাদের একের পর এক প্রজেক্ট আসার গল্প শুনাচ্ছেন এবং বলছেন, এ প্রজেক্টগুলো সম্পন্ন হলেই ফতুল্লা শহরের চেয়েও বেশী উন্নত হবে।


এলাকাবাসীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, গত তিন-চার বছর ধরে জলাবদ্ধতা সামাল দিতে শুধুই এলাকার রাস্তাগুলো উচুঁ করা হয়েছে। ফলে, অবস্থা এমন  হয়েছে যে, ঘরের মেঝে থেকে পাশের রাস্তা এখন দু’তিন ফুট বেশী উচুঁ। এই জন্য রাস্তা ডুবার আগেই বৃষ্টির পানিতে ঘর ডুবে যায়।

 

এ ব্যপারে আলাপকালে ইসদাইরবাসী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম জীবণ বলেন, ইসদাইর, গাবতলী, টাগারেরপাড়, লালপুর, ফতুল্লা পাইলট স্কুল, এসব এলাকার মানুষ বছরের পাঁচ মাস কেউ হাটু পানি, কেউ কোমর পানি ভেঙ্গে হাট বাজার, স্কুল কলেজ ও অফিস আদালতে যাতায়াত করে। এ সব এলাকার লোকজনের কাছে তাই বর্ষাকাল মানে প্রকৃতির অভিশাপ। এলাকার এমপি শুধুই আশ্বাসের বাণী শোনান, ডিএনডি প্রজেক্টের কাজ শেষ হলেই সমস্যার অবসান ঘটবে। এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডিএনডি প্রজেক্টের কাজ চলছে। কবে শেষ হবে, তা কেউ বলতে পারছে না।এমই/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন