সরকারি হাসপাতালের রিপোর্ট জালিয়াতি করে ফাঁসানোর চেষ্টা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২২, ১০:১১ পিএম
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রিপোর্ট জালিয়াতি করে আদালতে সেই রিপোর্ট জমা দিয়ে নিরীহ এক ব্যক্তিকে ফাঁসানোর ঘটনা ঘটেছে। জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে ফাঁসানো ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনায় মামলায় আসামি হওয়াকে কেন্দ্র করে সেই আসামিরাই এঘটনা ঘটিয়েছে এবং শায়েস্তা করার জন্য এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান দুলালকে মে মাসে মারধরের ঘটনা ভাইরাল হলে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার, মালিক তার পক্ষে মামলা করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে সবাইকে আসামি করে গায়েবী মামলা করে তা প্রমাণের জন্য এই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, গত ১৭ মে সোনারগাঁ থানার জাইদেবগাও এলাকায় ডিপলেড ওয়্যার লিমিটেড ফ্যাক্টরীতে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান দুলালকে ন্যাক্কারজনভাবে মারধর করা হয়। মারধরের এ ঘটনাটি সামাজকি যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, এসএম জামালউদ্দিন, মো. মামুন, মুন্না, খোরশেদ আলম, জসিমউদ্দিন ও সাগরকে আসামি করে মামলা দায়ের করে ডিপলেড ওয়্যার লিমিটেডের ম্যানেজার লিগ্যাল মো. গোলাম কবির বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।
এই মামলায় আসামিরা আদালত থেকে জামিন নেয়। পরে ঘটনা অন্যদিকে প্রবাহিত করার জন্য তারা ডিপলেড ওয়্যার লিমিটেডের মালিক ও এমডি হাবিবুর রহমান, পরিচালক আঃ লতিফ, লিগ্যাল ম্যানেজার গোলাম কবির, সুপার ভাইজার স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান দুলাল, ফ্যাক্টরীর ম্যানেজার খলিলুর রহমান, নিরপত্তা প্রহরী মো নাছির ও অন্যান্য পদে কর্মরত ওবায়দুল ও শহীদকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এই মামলার বাদী হন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান দুলালকে পেটানোর মামলার আসামি জাহাঙ্গীর হোসেনের ভাগ্নে মো. আল মামুন। এই মামলায় মামুন দাবি করে, মামলার ৪নং আসামি স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান দুলাল মামুনকে পিস্তলের নল দিয়া কানে গুতা মারলে তার কানের পর্দা ফেটে গেছে। এবং স্থায়ীভাবে সে শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলেছে।
আদালতে মামুন তার চিকিৎসাপত্রের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্হিবিভাগের একটি টিকেট দাখিল করেন। ঘটনার সাথে মিল না থাকলেও আদালতে বাদী মামুন হাসপাতালের এই কাগজ দাখিল করলে আদালত ডিপলেড ওয়্যার লিমিটেডের অন্য আসামিদের জামিন দিলেও মাহমুদুল হাসান দুলালকে কারাগারে প্রেরণ করেন। কিন্তু আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতে দাখিল করা মেডিক্যাল রিপোর্টটি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। যার ভিত্তিতে আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনারগাঁ থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্বাসকে আদালতে জমা দেয়া মামুনের মেডিকের রিপোর্টটি যাঁচাইয়ের জন্য চারদিনের সময় দেন। এসআই মোস্তাফিজুর রহমানের আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন দিনের মাথায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায় মামুনের সরবরাহ করাটি মেডিকেল রিপোর্টটি ভুয়া।
মামলার আইও মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্বাস যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আদালতের বেধে দেয়া সময়ের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজে মামুনের বহির্বিভাগের টিকেট নম্বরসহ যাঁচাইয়ের আবেদন করি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে , প্রাথমিক রেজিষ্টার খাতা যাচাই করে দেখা যঅ, যে ভিকটিম/রোগী আল মামুনের রেজি নং-৫৭৭/২২৯৭৭এর সংযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্রটি সঠিক নয়। খাতার সিরিয়ালে আল মামুন নামে কোন নাম নথিভুক্ত পাওয়া যায়নি।’
এদিকে গতকাল বুধবার মামুনের দায়ের করা মামলায় সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুন্নাহারের আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান দুলাল।এমই/জেসি


