Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ফতুল্লার টাগারেরপাড় ও আশপাশে বেপরোয়া সন্ত্রাস-মাদক ব্যবসা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২২, ০৬:১৯ পিএম

ফতুল্লার টাগারেরপাড় ও আশপাশে বেপরোয়া সন্ত্রাস-মাদক ব্যবসা
Swapno

 

# অসহায় ও দিশেহারা সাধারণ মানুষ
# পুলিশে আস্থা নেই, র‌্যাবের হস্তক্ষেপ চায় মানুষ

 

আরমান,কালাম আর শান্ত সহ ১৫/২০ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ফতুল্লা থানার টাগারের পাড় এবং আশপাশের এলাকায় বেপরোয়া তান্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। এই সন্ত্রাসীরা মিলকারখানার জুট নেয়াকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হলেও তারা এখন সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে ব্যাপক চাঁদাবাজীতে লিপ্ত রয়েছে। এলাকাবাসী জানিয়েছে বিগত দুই/তিন বছর ধরে এদের ব্যাপক উথ্যান ঘটেছে। বিগত দিনে এরা এলাকার বহু নীরিহ সাধারন মানুষকে ধরে নিয়ে মারধোর করেছে। এরা টাগারের পার, পশ্চিম ইসদাইর এবং গাবতলী এলাকায় সন্ত্রাসের জাল বিস্তার করেছে। এতে গোটা এলাকা জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী ফতুল্লা থানা পুলিশের কাছ থেকে তেমন কোনো সাহায্য সহযোগীতা পাচ্ছে না।

 

ফলে এলাকাবাসী মনে করেন থানা পুলিশের সাথে তাদের সখ্যতা রয়েছে। এসব সন্ত্রাসীরা এলাকায় মাদক ব্যবসা করছে অনেকটা প্রকাশ্যে। আর এই মাদকের টাকার ভাগ তারা পুলিশকে দিয়েই মাদক ব্যবসা করছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী। তাই পুলিশের প্রতিও মানুষের কোনো আস্তা নেই। এলাকাবাসী র‌্যাবের হস্তক্ষেপ চাইছে। তারা বলেন র‌্যাব সামান্য খোঁজ খবর নিলেই এসব সন্ত্রাসীদের নানা অপকর্মের সত্যতা পেয়ে যাবে।

 

এদিকে সম্প্রতি এরা ফতুল্লা থানার গাবতলী এলাকায় মধ্যযুগীয় কায়দায় দুই যুবকের উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে। যুবকদ্বয়কে বাঁচাতে ফতুল্লা থানায় বার বার টেলিফোন করা সত্বেও তাদেরকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। সন্ত্রাসীরা এই দুই যুবকরে উপর কেবল অত্যাচার করেই ক্ষান্ত হয় নাই বরং তাদেরকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করেছে। শুধু তাই নয় যুবকদের একজন ফতুল্লা থানায় সন্ত্রাসীদের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করলেও সেই অভিযোগও প্রত্যাহার করতে তাকে বাধ্য করা হয়েছে। তাই এলাকাবাসী জানিয়েছে ওই এলাকার মানুষ এখন একেবারে জিম্মী হয়ে পরেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৯ জুন রবিবার।

 

নির্মম নির্যাতনের শিকার নয়ন (২৭) অজ্ঞাত স্থান থেকে তার মোবাইল নাম্বার ০১৯১৬৭৫৭৮৪২ থেকে জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাবতলীর মনিরের সেলুনে চুল কাটার কাজ করে আসছেন। কিন্তু রবিবার ওই এলাকার ডেকোরেটর মজিবরের ছেলে মাদক ব্যবসায়ী শান্ত এসে নয়নকে মাদক ব্যবসায় জরানোর কথা বলে। মাদক ব্যবসায়ী শান্ত তাকে বলে তার সেলুনে রেখে ইয়াবা বিক্রী করতে হবে। এতে তাকে প্রতি দিনই বিক্রী অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমান টাকার ভাগ দেয়া হবে। কিন্তু নয়ন কিছুতেই মাদক ব্যবসা করতে রাজী হন নাই। নয়নের সাথে একই প্রস্তাব দেয়া হয়েছিলো নয়নের বন্ধু জুবায়েদ(২৭) কে। কিন্তু জুবায়েদও এই ব্যাবসায় জরাতে রাজী হন নাই। আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে মাদক ব্যবসায়ী শান্ত তার সাথে আরো ১০/১২ জন সন্ত্রাসীকে নিয়ে এসে তাদেরকে তুলে নিয়ে যায়। এবং সেলুনে তালা মেরে চাবি নিয়ে যায়। তাদেরকে একটি নির্জন ঘরে নিয়ে হাত পা বেধে নির্মমভাবে পিটানো হয়।

 

দফায় দফায় পিটিয়ে তাদেরকে রক্তাক্ত যখম করা হয়। সন্ত্রাসীরা এ সময় দম্ভোক্তি করে বলে এটা ফুটবলার মনিরের এলাকা। এই এলাকা তার নির্দেশে চলে। মনির হাজী সাহেবের লোক। তাই তাদের কথায় রাজী না হওয়ায় তাদেরকে মেরে ফেলার অর্ডার হয়েছে। এভাবে দফায় দফায় পিটিয়ে ওদের হাত পা বাধা অবস্থায় রেখে সন্ত্রাসীরা বাহিরে গেলে নয়ন তার প্যান্টের পকেটে রাখা মোবাইল ফোনটি বের করে তার বড় বোন মরিয়মকে ফোন দিয়ে জানায়। এ সময় অন্য স্থানে অবস্থানরত মরিয়ম পুলিশের জরুরী বিভাগে ৯৯৯ এ টেলিফোন করেন। এতে ঘটনা স্থলে পুলিশ গেলে উল্টো মাদক ব্যবসায় সন্ত্রাসীরা এ দুই নীরিহ যুবককে মাতক ব্যবসায়ী হিসাবে আখ্যায়িত করে। পুলিশ তাদের কথা শুনে দুই যুবককে উধার না করেই চলে যায়। পরে নয়ন আবারও তার বোনকে জানালে তার বোন আবারও ৯৯৯ এ ফোন করে বিস্তারিত জানায়। তখন ৯৯৯ থেকে ফতুল্লা থানাকে নির্দেশ দেয়া হয় অবিলম্বে দুই যুবককে যেনো উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ আবার গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে এবং খানপুর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।

 

পরে তাদেরকে থানায় নিয়ে একটি অভিযোগ লিখে তাদেরকে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দিয়ে ছেড়ে দেয়। পরে হাতে পায়ে ব্যান্ডিজ নিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে তার নিজেরে বাসায় ফিরলে আবারও মাদক ব্যবসায়ীরা সঙ্গবদ্ধ হয়ে তাদের কাছে গিয়ে অভিযোগ না তুললে একেবারে জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তখন তার বলে ফতুল্লা থানা পুলিশ নাকি তাদের পকেটে। পুলিশকে নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই নাকি তারা মাদক ব্যবসা করে। তাই বাঁচতে চাইলে এখনই থানায় গিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তখন অসহায় নয়ন থানায় গিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করে গাবতলী এলাকা ছেড়ে তাদের গ্রামের বাড়ি চলে যায়।

 

এদিকে এলাকাবাসী জানায় স্থানীয় বাড়িওয়ালা শহীদের দোকান ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ বহুদিন ধরে সেলুনের ব্যবসা করে আসছে মনির। আর এই মনিরের সেলুনের কর্মচারী ছিলো নয়ন। কেবল মাত্র মাদক ব্যবসা করতে রাজী না হওয়ায় এমন অমানুষ্কি নির্যাতনের শিকার হলো নীরিহ দুই যুবক। ফলে এই ঘটনায় স্থানীয় থানা পুলিশের ভূমিকা ব্যাপক ভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

 

প্রসঙ্গত সম্প্রতি গাবতলী এলাকায় নতুন করে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীরা। হাজী সাহেবের নাম ভাঙ্গিয়ে নীরিহ সাধারন মানুষের উপর এমন নির্মম নির্যাতন চালানো হলেও হাজী সাহেব এ ব্যাপারে তেমন কিছুই জানেন না বলে জানা গেছে। আরো আগে থেকেই হাজী সাহেব বার বার বলে আসছেন আমার নাম ভাঙ্গিয়ে কোনো এলাকায় কেউ যদি কোনো রকম সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে করে তাহলে তাদেরকে পুলিশে দিন। কিন্তু সন্ত্রাসীদের ভয়ংকর আচরণে কেউ থানায় পর্যন্ত যেতে সাহস পাচ্ছে না। আর কেউ থানায় গেলেও কোনো ফল লাভ হয় না, বরং উল্টো নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তাই এখনই এ বিষয়টি সঠিক তদন্ত করে পুলিশ সুপার ও র‌্যাব কর্মকর্তারা ব্যাবস্থা না নিলে ওই এলাকায় আবারও যেকোনো সময় খুনের মতো ভয়ানক ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন