Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

মদনপুর সিএনজি স্ট্যান্ডে পুলিশের নামে চাঁদাবাজি

Icon

বন্দর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২২, ০৯:৫৪ পিএম

মদনপুর সিএনজি স্ট্যান্ডে পুলিশের নামে চাঁদাবাজি
Swapno

 

বন্দরের মদনপুর সিএনজি স্ট্যান্ডে পুলিশের নামে চাঁদাবাজির মহাৎসব গড়ে তুলেছে স্থানীয় বাবুল মিয়া নামের এক সন্ত্রাসী। চালকদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সিএনজি থেকে প্রতিদিন চাঁদা আাদায় করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীদের চালকদের অভিযোগ। প্রতিদিন পুলিশের নামে চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় গত এক সপ্তাহে কমপক্ষে ১০/১২ জন চালককে মারধর করেছে সন্ত্রাসী বাবুল। বাবুল বাহিনীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে মদনপুর-প্রভাকরদী-আড়াইহাজার ও ফেরিঘাট সড়কে চালাচলরত প্রায় সাড়ে ৪শ সিএনজি থ্রী হুইলার চালক/ মালিক। 

 

মদনপুর স্ট্যান্ডে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি একক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কামরুজ্জামান কামু ও সুরুত আলী বাহিনীর মধ্যে গত দেড় যুগে ২৪ জন হত্যাকান্ডের শিকার হলেও সাম্প্রতি খলিল মেম্বার ও আমির হোসেন বাহিনী চাঁদাবাজি ছেড়ে দেয়ায় বাবুল মিয়ার একক নিয়ন্ত্রণে চাঁদাবাজি। এদিকে পুলিশের নামে মদনপুর সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে চাঁদাবাজির বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে অস্বীকার করলেও বাবুল রাতে পুলিশ ডিউটির জন্য প্রতিদিন সিএনজি পাঠায় বলে স্বীকার করেছেন।

 

তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, বন্দর উপজেলার মদনপুর স্ট্যান্ড থেকে সোনারগাঁও উপজেলার ওপর দিয়ে আড়াইহাজার, প্রভাকরদী ও আড়াইহাজার ফেরিঘাট সড়কে চলাচল করে প্রায় সাড়ে ৪শ সিএনজি থ্রী- হুইলার। এসব সিএনজি থেকে বন্দর উপজেলার আন্দিরপাড় গ্রামের সোহারাব মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া গত এক বছর যাবত প্রতিদিন চাঁদাবাজি করে আসছে বলে চালক মালিকদের অভিযোগ। বাবুলের একক নিয়ন্ত্রণে মদনপুর সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট সাড়ে ৪শ সিএনজি চালক ও মালিক। বাবুলকে প্রতিদিন চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গত এক সপ্তাহে ১০/১২ জন চালককে মারধর করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ । 

 

সিএনজি চালক শাহজালাল জানান, গত সপ্তাহে এ রুটে সিএনজি ভর্তি বাবদ ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে বাবুল । তার দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আমাকে মারধর করে দুই হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বাবুল। সিএনজি চালক আতাহার জানান, পুলিশের ডিউটি বাবদ ৫শ টাকা না দেয়ায় বাবুল পুলিশের ভয়ভীতি দেখায় এবং মারধর করে টাকা আদায় করে নেয়। 

 

সিএনজি চালক রাজিব ও হেমায়াত জানান, মদনপুর স্ট্যান্ডের পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির একক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্ত্রাসী কামরুজ্জামান কামু ও সুরুত আলী বাহিনী সহ প্রায় ২৩/২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। কামু সুরুত আলী বাহিনী নিস্ক্রিয় হওয়ার পর মদনপুর সিএনজি স্ট্যান্ড একক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আমির হোসেন। তার কাছ থেকে স্ট্যান্ড দখল করতে খলিল মেম্বার বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক গার্মেন্ট শ্রমিক নিহতের ঘটনায় পুলিশ প্রসাশন আমির ও খলিল মেম্বার বাহিনীর কাউকে মাঠে নামতে না দেয়ায় বেশ কিছুদিন মদনপুর সিএনজি স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজি বন্ধ থাকে।

 

গত এক বছর যাবত পুলিশের ডিউটির অজুহাত দেখিয়ে কৌশলে পুলিশের নামে প্রতিদিন চাঁদাবাজির মহাৎসব গড়ে তুলেছে বাবুল। অভিযুক্ত চাঁদাবাজ বাবুল মিয়া জানান, মদনপুর সিএনজি স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রহীন হয়ে পড়ে। স্টান্ডের দায়িত্বে কেউ না থাকায় পুলিশের টহল ডিউটিতে ঠিকঠাক মতো সিএনজি পাঠানো হচ্ছিলো না। পরে পুলিশের অনুমতি নিয়ে সিএনজি স্ট্যান্ডের দায়িত্ব নিয়ে প্রতিদিন পুলিশ ডিউটির জন্য সিএনজি পাঠানো হয়। কোনো সিএনজি পুলিশ ডিউটিতে যেতে না পারলে ওই সিএনজি থেকে ৫ শত টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ডিউটি ছাড়া কারো কাছ থেকে কোনো চাঁদাবাজি করা হয় না। 

 

পুলিশের পক্ষ থেকে সোনারগাঁ থানাধীন তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর রাজিব জানান, রাতে পুলিশের টহল ডিউটির জন্য প্রতিদিন একটি করে সিএনজি পাঠায় বাবুল। বাবুল চাঁদাবাজি করলে তাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী হাতে তুলে দিন। বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা জানান, মদনপুর সিএনজি স্ট্যান্ড পুলিশের নামে চাঁদাবাজির বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।এন .এইচ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন