Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

সোনারগাঁয়ে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা

Icon

আশরাফুল আলম

প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২২, ০৮:১৫ পিএম

সোনারগাঁয়ে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা
Swapno

ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ঈদ পূর্ব মুহুর্তে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের স্থানীয় কামার শিল্পীরা। বর্তমানে প্রযুক্তি নির্ভর কৃষিতে লোহায় তৈরি পুরাতন সব উপকরন বিভিন্ন যন্ত্রাশেংর গ্রহন যোগ্যতা এখন আর নেই বললেই চলে। তাছাড়া তথ্য প্রযুক্তির এসময়ে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে কৃষি কাজে ব্যবহৃত দেশীয় তৈরি সব পুরাতন উপকরন আর তেমন ব্যবহৃত হচ্ছেনা।

 

কৃষি উপকরন সহ বিভিন্ন যন্ত্রাশং তৈরিতে জড়িত কামার শিল্পীদের প্রায় সারা বছর মন্দাভাব নিয়ে সংসারের গ্লানি টানতে হয়। তার পরেও প্রতি বছর কোরবানী ঈদ পূর্ব সময় কয়েক দিন মহা ব্যস্ত সময় পার করেন কামার শিল্পীরা। ঈদ পূর্ব সময়ে একটু বেশি কাজের চাপ বাড়ায় বেশি রোজগারের আশায় মহাব্যস্ত  কামার শিল্পে জড়িত কামার পরিবারগুলো। কাজের চাপে দম ফেলবারও যেন ফুরসুরত নেই তাদের। কোরবানীতে পশু জবাই করার জন্য লোহার তৈরি দা, বটি, চাকু, ছুরা, কুড়াল, চাপাতিসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি প্রস্তুত করতে দিনরাত টুং টাং শব্দে মুখরিত সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন হাট-বাজার। সরেজমিন উপজেলার বিভিন্নস্থানে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, কাইকারটেক, নয়াপুর, তালতলা, মিরেরটেক, কাঁচপুর, মেঘনাঘাট, মঙ্গলেরগাঁও, বারদী ও আন্দবাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে স্থানীয় পেশাদারি কামার শিল্পীদের মাঝে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা।

 

বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার অধিক সংখ্যক দা, বটি, চাকু, ছুরা, কুড়াল, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করছেন কামার শিল্পীরা। একটা সময় ছিল কামার শিল্পীদের লোহার তৈরি এসব ব্যবহার্য জিনিস স্থানীয় চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্নস্থান থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা অগ্রিম অর্ডার দিয়ে কিনে নিয়ে যেত। কামাররা স্থানীয় বাজার থেকে পুরাতন লোহা কিনে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে দা, বটি, চাকু, ছুরা, কুড়াল, চাপাতিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করতেন। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের বছরজুড়ে দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আযাহার সময় তাদের কর্মব্যস্ততা অনেকটা বেড়ে যেত।

 

পাশিপাশি সারা বছরের মন্দা কাটিয়ে ঈদ পূর্ব সময়ে অনেক আয় রোজগার হত। সেই আয় রোজগার দিয়ে সারা বছর কামার শিল্পীদের সংসার চলত। স্থানীয় কামার শিল্পী বাসুদেব কর্মকার জানান, এক সময় কামারদের যথেষ্ট চাহিদা ও কদর ছিল, বর্তমানে তা আর নেই। মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে। যার ফলে আমাদের তৈরি যন্ত্রপাতির প্রতি মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে, হয়তো বা একসময় এই পেশা আর থাকবেনা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তবে কোরবানির ঈদের সময় আমরা একটু আশাবাদী হই। ঈদ পূর্ব মুহুর্ত ছাড়া সারা বছরই কামার শিল্পীদের সংসার অভাবে চলে। তবে প্রতি বছরই কোরবানীর সময় এলে একটু আয় রোজগার বেশি হয়। তা দিয়েই সারা বছর সংসার চালাতে হয়। বাসুদেব কামার আরো বলেন, বংশ পরমপরায় বাপ, দাদার কালের এই পেশার সঙ্গে জড়িত আছি প্রায় ৫০ বছর ধরে। আমার লেখাপড়া জানা ছিলনা, সেই জন্য অন্য কোন কাজে যেতে পারিনাই। তবে আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই কাজ করে আসছে, তাই বংশ পরমপরায় আমাকেও বাধ্য হয়েই এই কাজ করতে হচ্ছে। সারাবছর তেমন কোন কাজ না থাকলেও কোরবানির সময় আমাদের কাজের চাহিদা অনেক গুন বেড়ে যায়।

 

কিন্তু  কয়েক বছর করোনার কারনে আমাদের কাজের অনেক মন্দাভাব ছিল। বাসুদেব কর্মকারের স্ত্রী সবিতা রানী বলেন, কবিতা, সর্মীলা, উর্মীলা তিন মেয়েসহ আমাদের পাঁচ সদস্যের সংসার। সারা বছর তেমন কোন কাজ থাকেনা বলে অভাবেই চলে, কিন্তু কোরবানী ঈদের আগে কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়। আমার স্বামী একা মানুষ, সংসারে ছেলে না থাকায় অভাবের সংসারে স্বামীর সঙ্গে আমাকেও কাজ করতে হয়।

 

এব্যাপারে লোহায় তৈরি বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রেতা কামার শিল্পীরা বলেন, এই পেশায় আমরা যারা আছি তারা খুবই অবহেলিত। বর্তমান বাজার মূল্যের যে ঊর্ধগতি সব জিনিসের দাম বেশি হওয়াতে সে অনুযায়ী আমরা আমাদের কাজের ন্যায্য মূল্য পাইনা। এই পেশায় থেকে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। কামার শিল্পীরা মনে করেন সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা ও কোন আর্থিক সহযোগিতা না পেলে হয়তো এ শিল্প অচিরেই একদিন হারিয়ে যাবে।এমই/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন