রূপগঞ্জে পুলিশ-গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় ৫০ জনকে আসামী করে মামলা
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২২, ০৬:৩৫ পিএম
রূপগঞ্জে তিতাস গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় নামীয় ৫০ জন অজ্ঞাত ২/৩’শ জনকে আসামী মামলা দায়ের করেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ। তবে, স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ এ সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মাঝে অনেকের বাদ দিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকা নিরীহ সাধারণ মানুষের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বরপা এলাকায় কয়েক শতাধিক তিতাস গ্যাসের অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। ওইসব অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। পরে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট পুনরায় সংযোগ দেয়ার জন্য অবৈধ ভাবে ব্যবহার করা লোকজনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্গের টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে পুনরায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে দেয়। গত রবিবার ৩ জুলাই সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে তিতাস গ্যাসের একটি দল বরপা এলাকার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে আসে। এসময় গ্রামবাসী ও পুলিশের মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত ৪ জুলাই পুলিশ বাদী হয়ে নামীয় ৫০ জন ও অজ্ঞাত ২/৩’শ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, মামলার এজাহারে উল্লেখিত ৪ নং আসামী বাসিন্দা বাবুল শিকদার, ৮ং আসামী ইলিয়াছ শিকদার, ১৮ নং আসামী মুক্তাদির, ৬নং আসামী ফয়সাল ভুইয়া, ১০ নং আসামী রফিকুল ইসলাম, ১১ নং আসামী দিপু ভুইয়া, ৭ং আসামী আরজু ভুইয়া, ১৪ নং আসামী মুয়াসেল ভুইয়া, ১৫ নং আসামী আয়েছ আলী ভুইয়া, ১৭ নং আসামী হযরত আলী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না। তাদের মাধ্যে কেউ শিক্ষার্থী, নিরীহ ব্যবসায়ী। বিভিন্ন আক্রোশের জেরে তাদের মিথ্যা মামলা ফাসাঁনো হয়েছে। প্রশাসন সঠিকভাবে তদন্ত না করেই প্রকৃত অপরাধীদের বাচাঁতে নিরীহ মানুষের নামে মামলা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। অপরদিকে, রাজনৈতিক প্রভাবের জেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকাদের মাঝে অনেকের বাবার নাম অজ্ঞাত ও বয়স কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া দাবি জানায় এলাকাবাসী। দ্রুত নিরীহদের নামে মামলা প্রত্যাহার না করলে স্থানীয় এলাকা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করবে বলে হুশিয়ারি দেন। এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়, তদন্ত করে তাদের বাদ দেয়া হবে। আর যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।এমই/জেসি


