ক্রিকেটের জুয়ার টাকা জোগাড়ে জোড়া খুন করেন সাদিকুর
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২২, ০৪:৪০ পিএম
আইপিলের জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে ভাবি রাজিয়া সুলতানা ও ভাইপো তালহাকে (৮) খুন করেন সাদিকুর। নারায়ণগঞ্জের জোড়া খুনের মামলায় সাদিকুরকে গ্রেপ্তার করার পর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান অতিরিক্ত মহা পরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার।
আট দিন আগে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাসা থেকে গৃহবধূ রাজিয়া ও তাঁর সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রাজিয়ার প্রতিবেশী পোশাককর্মী সাদিকুরকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এই জোড়া খুনের দায় স্বীকার করে নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে সাদিকুর গতকাল রোববার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, রাজিয়া ও তাঁর সন্তান তালহা সেমিপাকা ঘরে থাকতেন। তাঁর স্বামী কয়েক বছর আগে মারা যান। ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে প্রতিবেশী সাদিকুর বাসার সামনে আসেন। ভাবি বলে ডাকতে থাকেন। রাজিয়া সাধারণত বাসায় ঢোকার কলাপসিবল গেট বন্ধ করে রাখেন। বাসার ভেতর থাকলেও গেট তালাবদ্ধ রাখেন। তবে সেদিন রাতে গেট খুলে সাদিকুরকে ঘরের ভেতর প্রবেশ করতে দেন।
বনজ কুমার মজুমদার বলেন, এলাকায় ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত সাদিকুর রাজিয়ার কাছে ১০ হাজার টাকা ধার চান। রাজিয়া তখন সাদিকুরকে বলেছিলেন, বাসায় কোনো টাকা নেই। একপর্যায়ে রাজিয়া আলমিরার তালা খুলে সাদিকুরকে দেখান, আছে মাত্র ১০০ টাকা।
তখন সাদিকুর আলমিরার ভেতরে একটা বাটিতে রাখা স্বর্ণালংকার দেখতে পান। তখন চেয়ারে বসে থাকা রাজিয়ার হত্যার জন্য ওড়না দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য পাশে থাকা ইস্তিরি দিয়ে আঘাত করেন। পরে ঘরে থাকা বঁটি দিয়ে রাজিয়াকে জবাই করেন সাদিকুর। আর ছেলে তালহা এ ঘটনা দেখে ফেলায় তাকেও জবাই করে হত্যা করেন সাদিকুর।
হত্যার কারণের বিষয়ে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, সাদিকুর এলাকার ভদ্র ছেলে হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তবে সাদিকুর আইপিলের জুয়া খেলে ৭০ হাজার টাকা ঋণগ্রস্ত হন। পাওনাদারদের টাকা ফিরিয়ে দিতে চাপ দেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান সাদিকুর। ওই টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তিনি এ নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনা সংঘটিত করেছেন।
হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের ব্যাপারে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, জোড়া খুনের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে বাড়ির পেছনে সুপারিগাছে মাটি দেখতে পাওয়া যায়। এই সুপারিগাছ ব্যবহার করে রাজিয়ার ঘরে প্রবেশ করা যায় না। তবে সুপারিগাছ ব্যবহার করে ওপরে উঠে ঘরের ভেতরের বাথরুমের কিছু অংশ দেখা যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজিয়ার ঘরের পেছনে ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে স্থানীয় কিছু যুবক গেম খেলেন।
তখন খোঁজ নিয়ে অজিদ কাজী নামের এক যুবককে সন্ধান মেলে। জিজ্ঞাসাবাদ অজিদ জানান, সেদিন রাতে ঘরে চিৎকার শুনে সুপারিগাছ ব্যবহার করে ওপরে উঠে ভেন্টিলেটর দিয়ে সাদিকুরকে দেখতে পান। পরে ঘর থেকে দ্রুত বাইরে যেতে দেখেন। তবে অজিদ কাজী এই ঘটনা কাউকে জানাননি। তবে হত্যাকাণ্ডের পর সাদিকুর অজিদ কাজীকে হত্যার হুমকি দিয়ে এ ঘটনা কাউকে না জানাতে বলেন।
এদিকে নিহত রাজিয়ার বৃদ্ধ মা খন্দকার তাসলিমা বেগম বলেন, ‘আমার নিরীহ মেয়ে ও তার ছেলেকে হত্যা করেছে সাদিকুর।’ আমি সাদিকুরের ফাঁসি চাই।


