Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

সোনারগাঁয়ে গণহারে বাড়ছে ভিক্ষাভিত্তিতে জড়িত মানুষের সংখ্যা

Icon

সোনারগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২২, ১০:৫৭ পিএম

সোনারগাঁয়ে গণহারে বাড়ছে ভিক্ষাভিত্তিতে জড়িত মানুষের সংখ্যা
Swapno

 

শিল্পাঞ্চলখ্যাত, অর্থনৈতিক জোন ও পর্যটন নগরী সোনারগাঁয়ে প্রতিদিন গনহারে বেড়েই চলছে বহিরাগত ভিক্ষাভিত্তিতে জড়িত মানুষের সংখ্যা। ভিক্ষাভিত্তিতে জড়িত অনেকের কাজ করে খাওয়ার মত পুরোপুরি শারীরিক সক্ষমতা থাকার পরেও কোন কাজ না করে, ভিক্ষাভিত্তি অর্থ উপার্জনের সহজ মাধ্যম হওয়ায় ঘৃর্ণীত এপেশায় দল বেধে জড়িয়ে পড়ছেন অনেক নারী, পুরুষ ও শিশুরা।

 

এছাড়া টাকার জন্য অহরহ ভিক্ষুকদের অশোভন আচরন, চলার পথে রাস্তার পাশে, বাসস্টান্ডে ও ফুটওভার ব্রিজে অবস্থান করা এসব ভিক্ষুকদের কারনে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও সাধারন মানুষ। সোনারগাঁয়ের বিভিন্নস্থানে ভিক্ষাভিত্তিতে জড়িত প্রায় ৪ শতাধিক মানুষের চাপে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন স্থানীয় মুদিদোকানী, ফল ব্যবসায়ী, কাপড় ব্যবসায়ী, বিপনি বিতান, ফার্মেসি ব্যবসায়ী, চা দোকানী ও রাস্তার পাশে নানান পসরা সাজিয়ে বসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনাঘাট, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, উদ্ধবগঞ্জ, মদনপুর, কাঁচপুরসহ বিভিন্নস্থানে সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর পূর্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ মঙ্গা কবলিত এলাকার কিছু মানুষ ও করোনা মহামারীর পার্দূরভাবে কর্মহীন হয়ে পড়া বহু মানুষ কেবল সোনারগাঁ শিল্পাঞ্চলে কাজের খোজে এসে কাজ না পেয়ে ভিক্ষাভিত্তিতে জড়িয়ে রাত কাটাচ্ছে ফুটপাতে অথবা কারো আস্রিতা হয়ে।

 

যার ফলে ক্রমেই পর্যটন নগরী সোনারগাঁয়ে বেড়েই চলছে বহিরাগত ভিক্ষাভিত্তি ও অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা। ক্ষুদা ও দারিদ্র বিমোচনে কাজের সন্ধানে এসে সমাজের বিত্তশালীদের অবজ্ঞা আর অবহেলায় কর্মহীন নারী, পুরুষ ও শিশুরা জড়িয়ে পড়ছে ভিক্ষাভিত্তিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সঙ্গে। রাজধানী ঢাকার পাশ্ববর্তী ড্যান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় উচ্চ বিত্ত বৈভব ও অঢেল টাকার মালিকসহ রাতারাতি বেড়ে যাচ্ছে অনেক ধণাঢ্য ব্যক্তির সংখ্যা, অপর দিকে দারিদ্র্যের সর্ব নিম্ন সীমারেখা থেকেও ছিটকে পড়ছে শতশত মানুষ। 

 

একদিকে বিস্তৃত হচ্ছে নগরায়ন, গড়ে উঠছে নতুন নতুন বিশালকার অট্টালিকা, অন্যদিকে পিছু হটছে হতদরিদ্র মানুষের সংখ্যা। একদিকে শহরে বাড়ছে বস্তি ও ভাসমান মানুষের সংখ্যা, অন্যদিকে গ্রামে বাড়ছে কর্মহীন শ্রমজীবি বেকার মানুষের ভিড়। এমনও লোক রয়েছে যাদের জমিজিরত তো দূরের কথা, মাথা গোঁজার ঠাঁই পর্যন্ত নেই। মানুষের স্বাভাবিক জীবন ধারনের জন্য মৌলিক যে পাঁচটি উপাদানের কথা বলা হয় তা হল খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা তার সবকটিই অবহেলিত ছিন্নমূল হতদরিদ্র মানুষের হাতছাড়া। অর্থাৎ না মরা না বাঁচার মাঝামাঝি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন এসব চালচুলোহীন উদ্ধাস্ত মানুষ। প্রতি বছরই সরকার তথা অর্থনীতিবিদরা বরাবর দারিদ্র বিমোচনের লক্ষে যে তত্ত্ব আউড়িয়ে আসছেন, আদতে তা পুরোপুরি কাজেই লাগছে না।

 

‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ (কাবিখা), ‘ন্যায্য মূল্যে চাল বিতরণ’ ইত্যাদি কর্মসূচি এতটাই সীমাবদ্ধ যে, হতদরিদ্র মানুষ তার সুফল পাচ্ছে কদাচিৎ। এর উপরে রয়েছে দুর্নীতি, লুণ্ঠনের অভিযোগ। কাবিখার চাল-গম লুট করছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা এমন সংবাদও এদেশে বিরল কোন ঘটনা নয়। এ অবস্থায় হতদরিদ্র মানুষের জন্য অনাহার-অর্ধাহার তাদের নির্ধারিত নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। নিত্যনতুন শপিংমল, আকাশচুম্বী ভবন, রাস্তাঘাট, উড়াল সেতু নির্মাণ, নতুন নতুন যানবাহন বেড়ে যাওয়াকে সামনে রেখেই উন্নয়নের জরিপ কষছেন অর্থনীতিবিদরা। তাছাড়া গণদারিদ্র্যের হার কমানোর জন্য এ পর্যন্ত কোনো সরকারই লাগসই কোনো পরিকল্পনা নিতে পারেনি। সাধারণভাবে দেখা যায়, সমাজে উচ্চবিত্তের সংখ্যা যত বাড়ে, নিম্নবিত্ত ও দরিদ্রের সংখ্যাও তত বেড়ে যায়। স্বাধীনতার পর দেশের প্রতিটি সরকার বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় এসে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। 

 

তাছাড়া বেশ কয়েকবার ‘ভাতের বদলে আলু ভক্ষণ’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিভিন্ন সরকার। শেষ পর্যন্ত এক-এগারোর মহানায়করা আলু-খাদ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছিলেন। বস্তুত সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া এ দারিদ্র থেকে পরিত্রাণের উপায় নেই। কাবিখা, কাবিটা, ওএমএস দারিদ্র্য দূরীকরণের স্থায়ী সমাধান নয়। গণমানুষ কেন্দ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাইলে এজন্য দরকার গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি অবকাঠামোগত বিনিয়োগ বৃদ্ধি। পাশাপাশি বিদেশে জনশক্তি রফতানি সব সময় সচল রাখতে হবে। গতিশীল করতে হবে জন্মনিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রচার পচারনার বিভিন্ন কর্মসূচি। এটাই এখন হওয়া উচিত সরকারের অপরিহার্য কর্মসূচি বলে মনে করেন সচেতন নাগরিক ও সুশীলসমাজ।
 
 
ঈদের পর বেচাকেনার অবস্থা জানতে চাইলে সবজি ব্যবসায়ী মো. আসলাম জানান, বাজারে বেচাকেনার অবস্থা বেশি একটা ভাল না। ঈদের ছুটির পর বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ায় আমাদের ব্যবসা অনেকটা ক্ষতির দিকে। তাছাড়া ঈদের ছুটির কারণে বাজারে ঠিক মতো সবজি আমদানি হচ্ছে না। সবজির বাজার ঠিক হতে আরও পাঁচ থেকে ছয় দিন লাগবে বলে জানান তিনি।


 
মো. রুবেল নামে আরেক ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে পেয়াজের প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) ১৯০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজিতে ২/৩ টাকা করে লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হচ্ছে আমাদের। এছাড়াও আদা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, রসুন (চায়না)  প্রতি কেজি ১২০ টাকা।


 
বাজারের অন্যান্য সবজির বর্তমান দরও অনেকটা কম দেখা যায়। বেগুন প্রতি কেজি ৩০টাকা, শশা ৮০ টাকা, পটল ২০ টাকা, লতি ২০ টাকা, জিঙ্গে ৪০ টাকা, লাউ ৩০-৪০ টাকা, ধুন্দুল ২০ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, কহি ৩০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, ধনিয়া পাতা ১৬০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা, কক্ মুরগি প্রতি কেজি ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।এমই/জেসি  
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন