আড়াইহাজারে একরাতে স্থানীয় দুই বাড়িতে দুর্র্ধষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই বাড়ি থেকে নগদ ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। খবর পেয়ে রাতেই আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল হক হাওলাদার ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের (সি-সার্কেল) আবির হোসেনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন। তবে কাউকে আটক করতে পারেনি।
গত রবিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের কালিবাড়ি হাটখোলাপাড়া ও পাঁচগাও দেওয়ানপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। একই রাতে পরপর দুইটি বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আশপাশের এলাকায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচগাও দেওয়ানপাড়া এলাকার ঠিকাদার হারুন রশীদ খান বলেন, রাত পৌনে চারটার দিকে ১২-১৫ জনের মুখোশ পরিহিত একদল ডাকাত দ্বিতীয় তলা ভবনের একটি কক্ষের জানালার গ্রিরিল কেটে ভিতরে প্রবেশ করে। পরে তারা আমাকে, আমার স্ত্রী এবং মেয়েকে একটি কক্ষে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আটক করে রাখে। পরে তারা প্রায় ঘন্টাব্যাপী বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্রসহ আলমারী তছনছ করে ফেলে। এ সময় তারা প্রায় ৪০ ভরি ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৪ হাজার (ইউএস) ডলার ও ৪ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। হারুন আরও বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকবার তার বাড়িতে ডাকাতরা হানা দেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বাড়িতে স্থাপন করা মাইকে চিৎকার দিলে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। কিন্তু এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি তার। দুস্কৃতিকারীরা বাড়িতে ঢুকেই প্রথমে বাড়িতে থাকা মাইকের তার কেটে সংযোগ বিছিন্ন করে দেয়। এতে তিনি এবার মাইকে ডাকাতের উপস্থিতি মানুষকে জানাতে পারেনি।
একই রাতে স্থানীয় কালিবাড়ি বাজার সংলগ্ন হাটখোলাপাড়া এলাকায় হাজী বাবুল ভূঁইয়ার বাড়িতেও ডাকাতরা হানা দেয়। এই বাড়ি থেকে প্রায় ২০ ওজনের বিভিন্ন স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়। বাবুল ভূঁইয়া বলেন, ঘরে প্রবেশ করেই ডাকাতরা তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি রক্তাক্ত আহত হন। তিন লাখ টাকা তিনি স্থানীয় একটি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন আর বাকী দুই লাখ টাকা ঘরেই ছিল বলে জানান। বাবুল ভূঁইয়ার স্ত্রী বলেন, কক্ষে প্রবেশ প্রথমে শিশুদের গলায় ছুরি ধরে টাকা দিতে বলেন। আলমারীর চাবি দিতে দেরি হলে তালা ভেঙে ৫ লাখ টাকা ও প্রায় ২০ ভরি স্বর্ণালঙ্কা তারা লুট করে। বাবুল ভূঁইয়া বলেন, এ সময় ডাকাতরা “মাস্টার” বলে একাধিকবার একে অপরকে ডাকাডাকি করতে শোনা যায়। অপরদিকে একই রাতে দুইটি বাড়িতে বড় ধরনের ডাকাতির ঘটনায় আশপাশের এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতেই খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলগুলো পরির্দশন করেন। কিন্তু কাউকে আটক করতে পারেনি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সিনিয়র (সি-সার্কেল) আবির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন সূত্রধরে ঘটনার তদন্ত চলছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সক্ষম হব। এমই/জেসি


