সিদ্ধিরগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে বন্ধুর হাতে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র খুন,
সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২২, ০৭:৫৭ পিএম
সিদ্ধিরগঞ্জে কিশোরগ্যাং চক্রের সদস্যদের ছুরিকাঘাতে ইমন (২৭) নামে এক ছাত্র নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো দুইজন। গত বুধবার সন্ধ্যায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় বাঘমারা এলাকায় মামা ভাগিনা গলিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মশিউর রহমান রাজু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খুনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবীতে মহাসড়ক অবরোধ করে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে নিহতের স্বজনরা।
নিহত ইমন সিদ্ধিরগঞ্জের আদর্শনগর এলাকার শাহ আলমের ছেলে। সে স্থানীয় আলী আকবর মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র ছিলেন। আহতদের মধ্যে শাহরিয়ার জয় অনার্সের ও তরিকুজ্জামান রনি সোনারগাঁয়ের নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া ডিগ্রী কলেজের ছাত্র। তারা আশঙ্কা জনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) বিকালে নিহতের স্বজনরা খুনীদের গ্রেফতারের দাবীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সানারপাড় বাস স্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে অবরোধ করে। এসময় তারা নিহতের লাশ নিয়ে ৩০ মিনিট বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে মিনিট পর রাস্তা থেকে নামিয়ে দেয়।
নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওহাব জানান, নিহত ইমন ও হামলাকারী কিশোরগ্যাং গ্রুপের নেতা রাসেল ওরফে ডংকু রাসেল বন্ধু ছিলেন। রাসেল বিপদগামী হয়ে অপকর্মে জড়িয়ে পড়ায় ইমন তার সঙ্গ ত্যাগ করেন। এতে রাসেলের সঙ্গে ইমনের শুত্রুতা তৈরি হয়। ক্ষিপ্ত হয়ে রাসেল বুধবার সকালে তার গ্যাংয়ের আট দশজন সদস্য নিয়ে ইমনকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে মারধর করে। পরে সন্ধ্যার দিকে ইমন, শাহরিয়ার জয় ও তরিকুজ্জামান রনিকে বাঘমারা মামা ভাগিনা গলিতে পেয়ে রাসেল ও তার সঙ্গীরা হামলা চালায়। এসময় ইমন ও জয়কে সন্ত্রাসী রাসেল ও মশিউর রহমান রাজু ছুরিকাঘাত করে। পরে স্থানীয় লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত জয়ের আবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানায় তার বোন ফারজানা।
নিহতের মা শাহিনুর বেগম বলেন, আমার ছেলের উপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে জানতে পারি এঘটনায় জড়িত রয়েছে সন্ত্রাসী রাসেল, মশিউর রহমান রাজু, স্বপন, আব্দূল খলিল, মো. ইয়াসিন, রাজিব ও বিজয়। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হাফিজুর রহমান মানিক জানান, মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে সড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তারা ১৫/২০ মিনিট মহাসড়কে অবস্থান করেছিল।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মো. মশিউর রহমান জানান, নিহত ইমন ও রাজুসহ উভয় গ্রুপের সদস্যদের ছিনতাই ও অপহরণের মামলায় র্যাব-১১ গ্রেপ্তার করেছিল। তাদের গ্রেপ্তারের পেছনে একে অপরকে দায়ী করে আসছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। পরে ইমন ও জয়কে মারধর ও ছুরিকাঘাত করা হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার ইনমকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় জয় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিহত ইমনের পরিবারের দাবি, রাসেল বাহিনীর রাসেল, রাজু, স্বপন, আব্দুল খলিল, ইয়াসিন, রাজিব, বিজয়সহ অজ্ঞাত আরো ৮/১০ জন এ ঘটনার সাথে জড়িত।এমই/জেসি


