ব্ল্যাকমেইলিং করে মুক্তিপণ আদায় চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার
ফতুল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২২, ১০:০৪ পিএম
নারী দিয়ে বাসায় এনে শারীরিক মিলনের দৃশ্য গোপনে ধারণসহ আটকে রেখে ব্ল্যাক মেইলিং করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের এক নারী সদস্যসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। এ সময় মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের কবল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আটক করে রাখা যুবক মোক্তার সর্দারকে (৩০)।
শুক্রবার (৫ আগস্ট) বিকেলে ফতুল্লা থানার শিয়াচর এলাকা থেকে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার সহ উদ্ধার করা হয়েছে যুবককে। এর আগে ঘটনার শিকার যুবক মোক্তার সর্দারের স্ত্রী মোসাঃ নাজমা বাদী হয়ে তার স্বামী আটকে রেখে টাকা চাওয়ার অভিযোগ এনে ফতুল্লা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
মোক্তার সর্দার বরিশাল জেলার হিজলা থানার লক্ষিপুরের সেকান্দার সর্দারের পুত্র ও ঢাকা জেলার দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার খলামুড়া জিয়ানগরীর আলী আহমেদের ভাড়াটিয়া। সে পাগলা ভাসমান রেস্তোরার কর্মচারী। গ্রেফতারকৃতরা হলো রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি থানার জামালপুর ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের মৃত কাদের শেখের পুত্র রিয়াজ ও ফতুল্লার শিয়াচর এলাকার রোকসানা সুলতানার ভাড়াটিয়া এবং মুক্তিপন আদায়কারী চক্রের নারী সদস্য মোছাঃ রুমা বেগম (৩০)।
জানা যায়, উদ্ধার হওয়া যুবক বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটার দিকে নিজ কর্মস্থল থেকে বাসার উদ্দেশ্যে বের হয়। সে তখন তার স্ত্রী কে বাসায় ফোন করে জানায় কিছুক্ষনের মধ্যে বাসায় ফিরে আসবে। কিন্তু সে বাসা না ফিরে তার পূর্ব পরিচিত ব্ল্যাক মেইলিং গ্রুপের সদস্য রুমা বেগমের সাথে শিয়াচর এলকায় গ্রেফতারকৃত রিয়াজের ভাড়া বাসায় যায়।
সেখানে তারা শারীরিক মিলনে লিপ্ত হয়। তাদের মিলনের দৃশ্য জানালার ফুটো দিয়ে মোবাইল ফোনে ধারণ করে গ্রেফতারকৃত রিয়াজ সহ তার সহোযোগিরা। এক পর্যায়ে রিয়াজ ও তার সহোযোগিরা মুক্তার সর্দার কে ব্ল্যাক মেইলিং করতে শুরু করে। তারা, মোক্তারের মোবাইল নাম্বার দিয়ে তার স্ত্রীর নিকট ফোন করো এক লাখ টাকা মুক্তিপন হিসেবে দাবী করে।
অপরদিকে মোক্তার কে বলে টাকা না দিলে ধারনকৃত ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিবে। এমনকি মোক্তারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। মোক্তার অনেকটাই বাধ্য হয়ে তার স্ত্রীর নিকট ফোন করে ব্ল্যাক মেইলিং চক্রের দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে।
মোক্তারের স্ত্রী বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ মোবাইল ট্র্যাকিং ও একটি বিকাশ নাম্বারের সূত্র ধরে শিয়াচর এলাকা থেকে মোক্তারকে উদ্ধার করা হয় এবং সহ গ্রেফতার করা হয় রিয়াজ ও রুমাকে। এ সময় পুলিশ যৌন মিলনের দৃশ্য ধারন করা মোবাইল ফোনটি জব্দ করে। তবে জাকির নামক অপর এক যুবকের জড়িত থাকার বিষটি জানতে পেরেছে পুলিশ।
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী ফতুল্লা মডেল থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানায়, ‘গ্রেতারকৃতরা পেশাদার অপরাধী; অভিযানের সময় মাদক সেবনের বেশ কিছু আলামত পাওয়া গেছে। নারী দিয়ে ফাঁদ পেতে অর্থ আদায়ের বিষয়টি তারা দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে। এই চক্রের সাথে কারা কারা জড়িত রয়েছে তাদের কে গ্রেফতার চেষ্টা করছে পুলিশ। এন.এইচ/জেসি


