সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালের কাছে জিম্মি রোগীরা
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২২, ০৭:৪২ পিএম
# ডাক্তারের চেম্বারের থেকে বের হলেই শুরু হয় রোগীকে নিয়ে দালালদের টানা-টানি
# ডাক্তাররা রোগীদেরকে কৌশলে তাদের বাসা বা প্রাইভেট চেম্বারে যেতে বাধ্য করেন
সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা দালাল ও দুটি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কাছে জিম্মি। সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর সামনে অনুমোদনহীন, অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার, হাসপাতাল আর ডাক্তারদের দালালদের হাতে জিম্মি হাসপাতালে আসা রোগীরা। তাদের এই অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, তারা এর পরিত্রান চায়।
জানা গেছে, সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো রোগী গেলে ডাক্তার রোগীর রোগ সম্পর্কে কিছু না শুনেই ইচ্ছে মতো ওষুধ ও টেষ্ট লিখে দেন। তাদের যে ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিকের সাথে চুক্তি থাকে তাদের কাছে খদ্দের বা রোগীকে পাঠিয়ে বলে ওমুক ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে টেষ্টটা করে নিয়ে আসেন। তাদের নির্ধারিত ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ছাড়া অন্য কোন ডায়াগনষ্টিক সেন্টার থেকে টেষ্ট করালে হবে না।
আবার হাসপাতালের সামনে থাকে অসংখ্য ঔষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টটিভ। কোন রোগী হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে বের হওয়া মাত্র তারা রোগীর লোকদের কাছে থেকে তাড়াতাড়ি স্লিপটি নিয়ে একটি ছবি তুলে নিয়ে বলে ওই দোকানে যাবেন ওখানে ভাল ঔষুধ পাওয়া যায়। একজন রোগীকে ব্যবস্থা পত্র দেওয়ার পর ডাক্তারের চেম্বারের থেকে বের হলেই শুরু হয় রোগীকে নিয়ে দালালদের টানা হেছরা।
চেম্বারে যারা রোগী দেখেন রোগীর সব খোঁজ-খবর নিয়ে তারপর ব্যবস্থাপত্র দেন। এক্ষেত্রে যেসব ডায়াগনষ্টিক সেন্টার তাদের এখানে নিয়ে আসেন তাদের খুশি করতে দু-একটি টেষ্ট দিলেও ডাক্তার ও সেন্টারের মানুষের অমায়িক ব্যবহারে তারা তা ভুলে যান। সরেজমিনে গিয়া দেখা যায়, জসিম মিয়া বাড়ী বারদী গ্রামে, চেম্বার থেকে বের হতেই দুই দালাল রোগীর প্রেসক্রিপশন নিয়া টানা হেছড়া শুরু করে দিয়েছে, ডাক্তারের দেওয়া টেষ্টগুলোর জন্য।
অনেক সময় হাসপাতালে থাকা চিকিৎসকরা কৌশলে ওয়ার্ড বয় ও দালালদের সাহায্যে হাসপাতালে আসা রোগীদেরকে তাদের বাসা বা প্রাইভেট চেম্বারে পাঠান। কিছুক্ষণ পর নিজে গিয়ে টাকার বিনিময়ে রোগী দেখে আসেন।
এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. সাবরিনা হক জানান, আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে। তাদের প্রাপ্য সেবা তাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। হাসপাতালে দালাল প্রবেশ ও ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে। এন.এইচ/জেসি


