# প্রতিদিন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেই চলেছে
# টহল টিম বাড়ানো হবে : অফিসার ইনচার্জ (ওসি)
দিন দিন আতংকের নগরীতে পরিণত হয়ে উঠছে ফতুল্লা মডেল থানা এলাকা। ঘটছে একের পর ছিনতাই ও হত্যাকান্ডের ঘটনাও। বিক্ষিপ্ত এ ঘটনাগুলোতে ফতুল্লাবাসীর আতংকে দিন কাটছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের অদূরে চানমারী এলাকায় ইজি বাইক চালক দুলালকে হত্যা করে ইজি বাইকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
রবিবার ভোরে ফতুল্লার পঞ্চবটিস্থ মেথর খোলা এলাকায় ছিনতাইকারীদের হাতে থুন হয়েছেন সাইফুল নামের একজন ব্যাক্তি। এই দুটি ঘটনা বাদেও প্রতিদিন ফতুল্লার বিভিন্ন স্পটে রাত ৩ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত চলে ছিনতাইয়ের ঘটনা। পুলিশী ঝামেলা এড়াতে থানা পুলিশের দ্বারস্থ হন না বলেও জানিয়েছেন অনেকে।
আবার অনেকে থানায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ করলে অদৃশ্য কারণে তড়িৎ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়না বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে ফতুল্লা পুলিশের দাবী, টহল টিমের জন্য পুলিশের নিজস্ব যানবাহন সংকট রয়েছে। এ সংকট উত্তোরণ করতে পারলে অপরাধ প্রবণতা অনেকটা কমে আসবে বলেও দাবী করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রিজাউল হক দিপু।
বিগত কয়েক বছরের তুলনায় সম্প্রতি ফতুল্লায় বেড়েছে অপরাধ প্রবণতা। ডেঞ্জার জোনগুলোতে প্রতিদিনই রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। ফতুল্লার বিশেষ করে মেথর খোলা, শাসনগাওয়ের আরএস গার্মেন্টসের মোড়, হাবিবুল্লার দোকান, কাশিপুর জেলে পাড়া ব্রিজ, কাশিপুর হাটখোলা,পঞ্চবটির বহুতল ভবনের সামনের সড়ক মাসদাইর তালা ফ্যাক্টরী মোড়,মাসদাইর পাকাপুল,চানমারী,ঈদগাহর সামনের সড়ক,ইসদাইর রেল লাইন, ইসদাইর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামের মোড়, পাগলা মেরী এন্ডারসনের সামনের সড়কে প্রতিদিন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেই চলেছে। ছিনতাই রোধে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ বরাবরের মতো জিরো টলারেন্সের কথা বললেও কার্যক্ষেত্রে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা বলে মন্তব্য করেছেন ভুক্তভোগীরা।
মাসদাইর এলাকার বাসিন্দা জানান, কয়েক মাস আগে ভোর ৬টার দিকে তিনি একটি মিশুকে করে মাসদাইর বাজারর এলাকায় পৌছানোর পর বেশ কয়েকজন কিশোর তার মিশুকটির গতি রোধ করে। এসময় প্রত্যেকের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিলো। ছিনতাইকারীরা তার হাতে থাকা মোবাইল ও নগদ সাড়ে ৫ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ করার পরও কোনো রকম সহযোগীতা তিনি পাননি।
শাসনগাঁও এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান জানান, মেথর খোলা মোড়ে প্রতিদিন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে দক্ষিণ বঙ্গের মানুষগুলো ভোরে ফতুল্লা লঞ্চঘাট থেকে আসার সময় ছিনতাইকারীরা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করে। সুযোগ মতো তাদের কাছ থেকে সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায় তারা।
ছিনতাইয়ের কাজে বেশির ভাগ সময় ছিনতাইকারীরা নাম্বার প্লেট বিহীন সিএনজি ও ইজি বাইকও ব্যবহার করে থাকে। তাদের সিএনজির ভেতরে হাতুর,শাবল, ও রডও রাখা থাকে। সুযোগ মতো তারা সিএনজি বা মিশুক থেকে নেমে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটিয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যায়।
ফতুল্লাবাসীর দাবী,ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে জনসংখ্যা তুলনামূলক বেশি। যে সমস্ত এলাকায় রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে ঐ সমস্ত এলাকায় পুলিশী টহল বাড়ালে ছিনতাই কিছুটা হলেও রোধ হবে। পুলিশ মিশুক বা সিএনজিতে করে ডিউটি করলে অপরাধীরা একটি এলাকায় অপরাধ করতে সময় বেশি পায়। আর এ সুযোগটিই তারা কাজে লাগাচ্ছে দিনের পর দিন।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ রিয়াজুল হক দিপু যুগের চিন্তাকে বলেন, ছিনতাই রোধে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য যে পরিমাণ পুলিশ সদস্য প্রয়োজন তা নেই। সেই সাথে লজিস্টিক সাপোর্টও নেই। ফতুল্লা থানায় পুলিশের ডিউটি করার জন্য একটি মাত্র সরকারী গাড়ি রয়েছে। তাও আবার বিকল থাকে মাঝে মাঝে। অফিসার ইনচার্জের জন্য বরাদ্দকৃত যে গাড়ি রয়েছে তাও ভিআইপি ডিউটিতে বেশির ভাগ সময় ব্যাস্ত থাকে। ছিনতাই রোধে টহল টিম বাড়ানো হবে বলেও তিনি জানান। এন.এইচ/জেসি


