আবারো রাজু বাহিনী আতঙ্কে কাশিপুরবাসী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৬:৪৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডটিতে যেন ক্রমেই অপরাধীদের রাম-রাজত্ব বেড়েই চলছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান কিংবা মেম্বার তো দূরের কথা পুলিশ প্রশাসনকেও তোয়াক্কা করছেন না, সন্ত্রাসী ও মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মকারীরা। আর এ সকল অপকর্মের মুলহোতা হলেন স্থানীয় রিয়াজ প্রধানের ছেলে রাজু প্রধান।
রাজু প্রধান ৭নং ওয়ার্ডের নুর মসজিদ এলাকায় ৩০/৩৫ জন বিপথগামী ছেলে নিয়ে গড়ে তুলেছে অপরাধের বিশাল সাম্রাজ্য। যে গ্রুপটি চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই মাদক বিক্রি, জমি দখল, বাড়ি দখলসহ এমন কোন অপরাধ নেই যা তাদের দ্বারা সংগঠিত হয়না।
নারায়ণগঞ্জ সদর ও ফতুল্লা মডেল থানায় রাজু প্রধানের বিরুদ্ধে নামীয় ও নাম ভুলে প্রায় ১৮টি মামলা রয়েছে। গত কয়েকদিন যাবত এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে রাজু প্রধান ও তার বাহিনীর সদস্যরা যাকে শায়েস্তা করতে এলাকাবাসী তো দূরের কথা খোদ পুলিশ প্রশাসনের পক্ষেও সম্ভব হচ্ছেনা।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত, ফতুল্লা মডেল থানার একাধিক পুলিশ সদস্যদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে মাসোহারা দিয়েই রাজু প্রধান, তার বাহিনী দিয়ে এলাকাতে নতুনভাবে অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছে। গত ১ সেপ্টেম্বর ভোলাইলে পূর্ব শত্রুতার জেরে মাকসুদা বেগম (৩৫) এক নারীকে হত্যার চেষ্টাও চালায় রাজুর বাহিনীর সদস্যরা।
এ ঘটনায় ফতুল্লা মডেল থানায় ভুক্তভোগীর স্বামী রিয়াজ আলী বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাত ১০/১২ জনকে আসামী করে অভিযোগটি দায়ের করেন।
অভিযুক্ত আসামীরা হলেন- ভোলাইল এলাকার সফর আলীর ছেলে সালু, আব্দুল ছাত্তারের ছেলে মুসলিম, দেলোয়ারের ছেলে ইমরান, আব্দুল ছাত্তারের ছেলে ইসলাম, মারফত আলীর ছেলে নোবেল, সফর আলীর ছেলে হীরা, কমর উদ্দিনের ছেলে দেলোয়ার, লিয়াকত আলীর ছেলে হিমেল, দেওভোগ প্রধান বাড়ির এবাদলের ছেলে আবজাল, দেওভোগ বাড়ৈভোগ এলাকার রফিকুল ইসলাম ওরফে আকাশ সহ অজ্ঞানামা ১০/১২ জন।
সেই ঘটনায় থানা পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করলেও অপরাধের মুলহোতা রাজু প্রধান ও তার বাহিনীর সদস্য সাল্লু ও মুসলিম গংদের গ্রেফতার করতে পারেনি। যার ফলে প্রতিদিনই রাজু বাহিনীর সদস্য নুর মসজিদ এলাকায় তাদের অপরাধমূলক ক্ষমতা প্রদর্শন করে এলাকায় তান্ডব চালাচ্ছে।
এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাস্তার উভয় পাশে থাকা দোকান মালিকরা। এতকিছুর পরও থানা পুলিশ কর্তৃক সন্ত্রাসী রাজু প্রধান ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার না করায় স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয় অনেকেই বলছেন, এ যেন সর্ষের ভেতরে ভূতের অবস্থান। অর্থ্যাৎ থানা পুলিশ এর কতিপয় অর্থলোভী সদস্যদের নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে নুর মসজিদ ও আশপাশে বিভিন্ন অপকর্ম চালাচ্ছে রাজু প্রধান ও তার বাহিনী।
যার ফলে রাজুকে সঙ্গীয়সহ আটক করতে পারছেনা পুলিশ। কারণ অপারেশনে আসার আগেই হয়তোবা রাজুর কান পর্যন্ত পৌছে যায় পুলিশি অভিযানের সংবাদটি। যার ফলে দ্রুত সটকে যেতে পারে রাজু প্রধান গং।
এদিকে নুর মসজিদ এলাকায় রাজু প্রধান ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয় বিক্ষোভ মিছিল করেছিলো বৃহস্পতিবার বিকেলে। কিন্তু রাজুর পক্ষে থেকে এলাকাবাসীর বিপক্ষে নেয় রাজুর এক চাচা। যিনি বিক্ষোভের পরই রাজুর কিছু সদস্য নিয়ে নিজ বাড়িতে হামলা চালিয়ে ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে অপতৎপরতা চালায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক বাসিন্দা জানান, এলাকাতে এমন কোন অপকর্ম নেই যা রাজু প্রধান ও তার বাহিনী দ্বারা হয়নি। মাদক, সন্ত্রাস, দেহ ব্যবসা, জমি দখল, বাড়ি নির্মাণ কাজে বাধা, বাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ে টাকা আদায়, নতুন বাড়ি নির্মাণে তার কাছ থেকে বাধ্যগতভাবে নির্মাণ সামগ্রী ক্রয় (তার মনগড়া দামে) করতে হয়।
তারা আরও বলেন, আমরাতো সামান্য ভাড়াটিয়া কিংবা বাড়ির মালিক। এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার, পঞ্চায়েত কিংবা পুলিশও পারছেনা রাজু প্রধান ও তার বাহিনীর অত্যাচার থেকে ৭নং ওয়ার্ডবাসীকে রক্ষা করতে। তাহলে কি রাজু প্রধান তাদের সকলের চেয়েই প্রভাবশালী। আমরা স্থানীয়রা অনতিবিলম্বে রাজু প্রধান ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা পুলিশ সুপার ও র্যাবের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি। এন.এইচ/জেসি


