আড়াইহাজারে এক বছরেও হয়নি রাস্তা সংস্কার, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ
আড়াইহাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:৩২ পিএম
আড়াইহাজার পৌরসভা বাজার থেকে স্থানীয় দক্ষিণপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা এক বছরেও সংস্কার করা হয়নি। এতে চরম ভোগান্তিতে স্থানীয় বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ। রাস্তাটি আগে চলাচলের উপযুক্ত ছিল। কিন্তু পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার পানি নিস্কাশনের জন্য এই রাস্তায় এক বছর আগে পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। এতে রাস্তার পিচ উঠিয়ে ফেলা হয়েছিল। পরে আর মেরামত করা হয়নি। এর ফলে চলাচলে অনুউপযুক্ত হয়ে পড়ে।
সাধারণ মানুষসহ আশপাশের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়তে কষ্ট হচ্ছে। দিনে ছোট্র যানবাহন চলাচল করতে পারলেও রাতে চলে না কোন গাড়ী। এতে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তবে উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আড়াইহাজার উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণপাড়া হয়ে খাগকান্দা ঘাট পর্যন্ত রাস্তার উন্নয়ন কাজের দরপত্র আহবান প্রক্রিয়াধীন। দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুমোদন হতে পারে সংস্কার কাজের অনুমতি। আজ মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে আড়াইহাজার উপজেলা সদরে আসতে এই রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকেন।
এক বছর আগে আড়াইহাজার পৌরসভা এলাকার পানি নিস্কাশনের জন্য রাস্তা কেটে পাইপ স্থাপন করা হয়। এর পর রাস্তাটি চলাচলের অনুউপযুক্ত হয়ে পড়ে। পুরো রাস্তা জুড়েই অসমতল। এতে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে কয়েকদিন। রাস্তার পাশেই রয়েছে ‘আড়াইহাজার মডেল একাডেমী’ নামে একটি নার্সারি স্কুল। এতে রয়েছে প্রায় তিন শতাধিক ক্ষুদে শিক্ষার্থী। প্রতিদিন তাদের স্কুলে আসা-যাওয়ার করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। রাস্তায় নিয়মিত যাতায়ত করেন দক্ষিণপাড়া এলাকা কৃষক সাবেদ আলী।
তিনি বলেন, আমি দুধ বিক্রি করতে প্রতিদিন উপজেলা সদরে যাই। রাস্তা দিয়ে যাতায়ত করতে গিয়ে অনেক সমস্যা হয়। অনেক সময় গর্তে পড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, দিনে ছোট্র যানবাহন চলাচল করলেও রাতে রাস্তায় যানচলাচল পুরোপুরিই বন্ধ হয়ে যায়। একই এলাকার স্কুল শিক্ষক রশীদ মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তার এমন অবস্থা। চলাচল করার কোন সুযোগ নেই। তার পরও কষ্ট করেই চলাচল করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে রাস্তা জুড়েই বিভিন্ন স্থানে জমে থাকে হাটু পানি। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজন কয়েক কিলোমিটার ঘুরে যাতায়ত করতে হচ্ছে।
দেখা গেছে, এই রাস্তার পাশে রয়েছে ‘আড়াইহাজার মডেল একাডেমী’ নামে একটি নার্সারি স্কুলসহ আরও কয়েকটি বিদ্যাপিঠ। কমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। সামান্য এক ঘন্টার বৃষ্টিতেই অসমতল পুরো রাস্তা জুড়েই পানি জমে থাকে কয়েকদিন। এতে শিশুসহ আহত হচ্ছেন অনেকেই।
আড়াইহাজার মডেল একাডেমী’র দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আল-বুসরা অনন্যা বলেন, স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় আমার অনেক সমস্যা হচ্ছে। প্রায় সময় গর্তে পড়ে বই-খাতা ভিজে যাচ্ছে। আমি নিজেও আহত হয়েছি। রাস্তাটি যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে ঠিক করে দেওয়া হয়।’ একই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা বলেন, আগে আমরা স্কুলে আসা-যাওয়া করতাম বিদ্যালয়ের ভ্যানে। রাস্তা ভাঙা থাকায় পায়ে হেটে আসতে হয়। এতে আমাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের স্থানীয় এক নারী অভিভাবক বলেন, আমার দুইটি সন্তান স্কুলে পড়ছে। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার করতে বাচ্চাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। প্রায় এক কিলোপথ পায়ে হেটে স্কুল আসতে গিয়ে বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে যায়। রাস্তাটি চলাচলে উপযুক্ত না হওয়ায় বিদ্যালয়ের নির্ধারিত ভ্যানটিও বন্ধ রয়েছে। আমার দাবী দ্রুত সময়ের মধ্যেই যেন রাস্তাটি চলাচলের উপযুক্ত করা হয়। উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই উন্নয়ন কাজ হাতে নেওয়া হবে। আশা করছি আগামী তিন মাসের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে।


