রূপগঞ্জের বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী তীরে দখলদার
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২২, ০৮:২২ পিএম
রূপগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমদিকে রাজধানী ঢাকা ঘেষা বালু নদী ও মধ্যভাগে বয়ে যাওয়া শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে দেখা মেলে না কাশবন। একসময় নদী তীরে শরৎকাল এলে কাশবনে কাশফুল দেখতে গেলেও এখন আর নেই সেই চিরচেনা দৃশ্য। নদী দুটির উভয় পাড়ে এখন দখলদারদের দৌড়াত্ম্য। তবে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্রভাবে উপজেলার আশপাশের মৌজায় আবাসন কোম্পানির বালি ফেলার কারনে নতুন করে তৈরি হয়েছে কাশবন। আর এ কাশবন সড়কের দুধারে দেখা যায় বেশি।
এসব কাশবনের ফুলের নরম ছোঁয়া পেতে কিংবা ছবি তুলতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থীদের আনাগোনাও দেখা গেছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর ডেমরা থকে বালু নদীর মোহনা এবং কায়েত পাড়া, রূপগঞ্জ সদর, কালীগঞ্জ ও টঙ্গী পর্যন্ত কোথাও নদীর পাড়ে দেখা মেলেনি কাশবন। এ নদীর উভয় পাশে বসত ভিটা,কলকারখানাসহ ডকইয়ার্ড স্থাপনার দখলে।
একইভাবে শীতলক্ষ্যা নদীর তারাবো পৌরসভা এলাকা থেকে মুড়াপাড়া, রূপগঞ্জ সদর, কাঞ্চন পৌরসভা, ভুলতা, ভোলাবো দাউদপুরের সব অঞ্চলে নদী পাড়ে গড়ে ওঠেছে হাট বাজার, ময়লার ভাগার, প্রাচীর, শিল্প কারখানা, ডকইয়ার্ডসহ নানা স্থায়ী প্রতিষ্ঠান। ফলে এ নদী পাড়ে তীরঘেষা কাশবনের অস্তিত্ব নেই। এদিকে ব্যতিক্রম চিত্র দেখা যায় আবাসন কোম্পানির ফেলা বালিতে।
উপজেলার রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের মোগলান, গুতিয়াবো, জাঙ্গীর মৌজায় আনন্দ হাউজিং নামীয় বালির উপর গত ২ বছর ধরে শরত এলে ফুটে কাশফুল। প্রায় ৮ গ্রামের মাঝামাঝি এ হাউজিং কোম্পানির বিশাল মাঠে সাদা সাদা কাশফুলে মেঘমালার মতো সেজে থাকে। এবারও ব্যতিক্রম নয়। পূর্বাচলের ৩নং সেক্টর এলাকা থেকে মুশুরী পর্যন্ত সড়কের দুধারে শত শত একর জমিতে এ কাশফুলের অবস্থান দেখা গেছে।
কাশবনে ঘুরতে আসা পাঁচাইখা এলাকার গৃহীনি ফারজানা আক্তার হাসনাহেনা বলেন, এতোদিন আমার বাপের বাড়ি সোনারগাঁও মেঘনা তীরে এ কাশবন দেখতাম, এখন দেখলাম সড়কের পাশেই। দৃষ্টিনন্দন এসব কাশবন ও কাশফুল দেখে মন ভরে যায়। অপর দর্শনার্থী হাফেজ আব্দুর রহিম বলেন, রূপগঞ্জের আবাসন কোম্পানির বালি গুলো মেঘনা নদী থেকে কার্গো জাহাজের মাধ্যমে, ড্রেজার দিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে ওই কাশফুলের বীজ থাকাতে এমন সৌন্দর্যে রূপ নিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সময়ের ব্যবধানে রূপগঞ্জের মানুষ এমন কাশফুল দেখার সৌভাগ্য পাবেন না। কারন, নদী তীরে সব কর্ম ব্যস্ততা বেড়েছে। ফলে দখল দুষনের কারনে আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ।
এদিকে কাশ ফুলের সৌন্দর্যে যেমন দর্শনার্থীরা মুগ্ধ তেমনি কাশফুলের ডাটা সংগ্রহ করে তা দিয়ে ঝাড়ু ও হাতের তৈরী নানা সামগ্রীর উপকরন কাটতে অপেক্ষা করছে স্থানীয় দরিদ্র হস্তশিল্পের লোকজন। আবার পূর্বাচলের অস্থায়ী ছনের ঘর তৈরী করতে কাশফুলের ঘাসগুলো সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে অনেককে।
বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী অঞ্চল কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও ভিন্ন একটি সূত্র জানায়, নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করতে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। ফলে কাউকে দখল করতে দেয়া হবে না। তবে দু-এক স্থানে দখলদাররা নিজের মালিকানা দাবী করে আদালতে মামলা দায়ের করায় সব উচ্ছেদ করা যায়নি।


