মাসুম হারলে মির্জা আজমের কথাই সত্য হবে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২২, ০৯:২৯ পিএম
# ইকবাল, মামুনুল তাণ্ডব কাণ্ডের মামলার আসামী
জাতীয় নির্বাচনের আগেই সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগ নেতকর্মীদের বিশ্বস্তততার পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩নং ওয়ার্ডের সদস্যপদের নির্বাচনে এটি পরীক্ষা করা যাবে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারনার শেষ সময়ে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সোনারগাঁ উপজেলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থীরা শেষ সময়ে প্রতিটি ভোটার দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়ে বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় তথ্য অনুযায়ী, এবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পদে দুজন প্রার্থী হয়েছে।
তার মাঝে উপজেলা আওয়ামী লীগ সমর্থিত হাতী মার্কা প্রতীক নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম ভোটার দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। ভোটাররাও আবারও তাকে উন্নয়নের জন্য জয়ী করতে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
তিনি গতবারও জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য হিসেবে জয়ী হয়ে রাস্তাঘাট সহ অবকাঠামো উন্নয়ন করেন বলে জানান। সেই সাথে করোনার সময় মানুষের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন।
অপর দিকে তার বিপরীতে তালা প্রতীক মার্কা নিয়ে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন আবু নাইম ইকবাল। ইকাবালের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ রয়েল রিসোর্টে মামুনুল কান্ডে মামলা রয়েছে। মামুনুলকে ছাড়ানোর বিষয়ে সেখানে হামলা করে ওই মামলায় তার নাম রয়েছে। আবু নাইম ইকবাল জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটির সাবেক সদস্য পদে ছিলেন। এবার সোনারগাঁ ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য পদে ওখানেরই ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার, পৌরসভা, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের ভোটে সদস্য নির্বাচন করা হবে।
ইতিমধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মহানগর আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি বাবু চন্দনশীল নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে সদস্য পদে। গত দুই মেয়াদের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে (সোনারগাঁ) জাতীয় পার্টির সাংসদ রয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে ইকবালের পক্ষে এমপি খোকা প্রকাশ্যে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন। আর এনিয়ে তাকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সতর্ক করার পরেও তিনি থামেন নাই।
এখন গোপন মিটিং করে কিংবা গোপনে মেম্বারদের বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়ে যাচ্ছেন। ইকাবলকে পাশ করাতে তিনি মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন। তার পরেও পেরে উঠতে পারবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে জটিল সমীকরণ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশেষ করে হেফাজত নেতা মামুনুল হক কাণ্ডে এখানে জাতীয় পার্টির নেতারা ইমেজ সংকটে পরে। কিন্তু এরপরেও চলমান জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে জাতীয় পার্টির তরফে সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা জাপার প্রার্থী জেল জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম ইকবালকে জয়ী করতে মরিয়া। যদিও এই আবু নাঈম ইকবাল মামুনুল হক কাণ্ডে হেফাজতের তান্ডব মামলার আসামী।
স্থানীয় আওয়ামী লীগে নেতারা জানান, সোনারগাঁ উপজেলার ১০ ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন টিকেট নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ৯ জন। একটি ইউনিয়নে শুধুমাত্র রয়েছে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।
এছাড়া সোনারগাঁ উপজেলা চেয়ারম্যান ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক এড. শামসুল ইসলাম ভূইয়া, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ওমর বাবু। আওয়ামী লীগের সীল নিয়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান, মেম্বার, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানরা এখন আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দেন কিনা, তাই এখন দেখার বিষয়।
অভিযোগ রয়েছে দলীয় কোন্দলের কারণে এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা অন্যদলের প্রার্থীর সাথে পরাজিত হন। যা কেন্দ্রীয় নেতারা পর্যন্ত জানেন। তবে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয়েছে। যদিও সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকার সাথে আওয়ামী লীগের একটি অংশের ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে, বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে সদস্য পদে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান মাসুমের পক্ষে ইতিমধ্যে সাবেক সাংসদ আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, সভাপতি সামসুল ইসলাম ভূইয়া, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম নান্নুসহ আওয়ামীলীগ নেতাদের বড় একটি অংশ মাঠে নেমেছেন।
অন্যদিকে গত মাসের ৩ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে সোনারগাঁ ৩ আসনে নৌকার প্রার্থী দেয়ার জোরালো দাবী উঠে। এই দাবীর প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, আগামীতে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না আসলে ২০০১ সালের চেয়ে খারাপ হবে।
২০০১ সনে শামীম ওসমানের মত নেতাকেও দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। সোনারগাঁয়ের স্থানীয় নেতাদের নৌকার দাবী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনাদের দাবীর কথা আমরা নেত্রীকে জানাবো। এখানে যেন নৌকা দেয়া হয়।
তবে সোনারগাঁয়ে কিন্তু এর আগে নৌকা প্রার্থী দেয়া হয়েছে তখন নিজেরা গ্রুপিং এবং ভেদাভেদ সৃষ্টি করে নৌকাকে ডুবিয়ে দেয়ার নজির আপনাদের আছে। আবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেয়া হবে আর আপনারা নিজেদের মাঝে গ্রুপিং করে নৌকাকে ডুবাবেন তার চেয়ে জাতীয় পার্টিকে দেয়া অনেক ভালো।
মোস্তাফিজুর রহমান মাসুম জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের ভোট বেশি। এখানে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ আমার পক্ষে মাঠে নেমেছে। তবে ইকবালের পক্ষে এখানকার এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছেন।
একজন জনপ্রতিনিধি গোপনে বা প্রকাশ্যে কোন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে পারেন নাই। আমি তার বিরুদ্ধে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। আমি জয়ী হবো সেই প্রত্যাশা করি, কেননা ভোটাররা আমাকে ভালো সাড়া দিচ্ছে।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সোনারগাঁ ভোটাররা যদি দলের সমর্থিত প্রার্থী হাতী মার্কায় ভোট না দিয়ে অন্য দলের প্রার্থীকে জয়ী করে তাহলে কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আজম যে বক্তব্য দিছে তাই সত্য বলে গণ্য হবে।
আর এতে করে আগামী নির্বাচনে এখানে আবারও নৌকার প্রার্থী পাওয়া নিয়ে ধোঁয়াশায় থাকতে হবে। তাই আগামী নির্বাচনে নৌকা পেতে হলে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হাতী মার্কা প্রতীক পাওয়া মোস্তাফিজুর রহমান মাসুমকে জয়ী করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের আগে সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের নেতাদের মানসিক অবস্থা বোঝা যাবে এবারে এই সদস্য পদ নির্বাচনে। জেলা পরিষদ সদস্য পদে মোস্তাফিজুর রহমান মাসুমকে জয়ী হবেন কি হবেন না; সকলেই সে বিষয়ে দৃষ্টি রেখে চলেছেন।
কারণ এই জয়-পরাজয়ের মাধ্যমে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য প্রার্থীর বিষয়টি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সচেতন রাজনৈতিক বোদ্ধামহল। আওয়ামী লীগের ভোটারদের পরীক্ষার প্রমাণ হবে আগামী ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের ফলাফলের মাধ্যমে। এন.এইচ/জেসি


