গৃহবধূর আত্মহত্যা, প্ররোচনার অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২২, ০৬:১২ পিএম
শহরের জামতলা থেকে নাসিমা বেগম (২৫) নামক এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ফতুল্লা মডেল থানার জামতলার মামুন চৌধুরীর বাড়ীর ৪র্থ তলা থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহরের জেনারেল(ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।
নিহতের মা সালেহা বেগম শুক্রবার(১৪ অক্টোবর) দুপুরে বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে নিহতের স্বামী আলমসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২-৩ জনকে অভিযুক্ত করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছে। এ ঘটনায় মামলার অভিযুক্ত এজাহার নামীয় আসামী নিহতের স্বামী আলম কে রাতেই পুলিশ গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আলম (৩০) নীলফামারী জেলার সদর থানার রামকলার মোঃ জিন্নাহর পুত্র ও ফতুল্লা মডেল থানার জামতলা শাহিন ডাক্তারের গলির মামুন চৌধুরীর চতূর্থ তলার ভাড়াটিয়া। নিহত নাসিমা বেগম শরিয়তপুর সদরের আবদুল জলিল ব্যাপারী মেয়ে। তিনি স্বামী ও সন্তান নিয়ে জামতলার এলাকার মামুন চৌধুরীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক গোলাম সারোয়ার জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে বৃহস্পতিবার রাত সাতটার দিকে নিহত গৃহবধূ বিষপান করে। বিষয়টি জানতে পেরে তার স্বজনেরা রাত আটটার দিকে প্রথমে খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে রাত নয়টার দিকে জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত দশটার দিকে সে মারা যায়। পরে লাশ বাসায় নিয়ে আসে।
এর আগে বিকেল চারটার দিকে স্বামী - স্ত্রীর মধ্যে কোন এক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এতে করে স্বামী নিহতকে চড় -থাপ্পড় মেরে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে নিহত নাসিমা বাসা থেকে বের হয়ে পুনরায় রাত সাড়ে ছয়টার দিকে বাসায় ফিরে আসে। ধারনা করা হচ্ছে সে বাইরে থেকেই বিষপান করে বাসায় আসে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
সংবাদ পেয়ে রাত এগারোটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ লাশের সুরহতাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যু কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।
নিহতের মা সালেহা বেগম বলেন, পাঁচ বছর পূর্বে নিহত নাসিমার সাথে আলমের বিয়া হয়। তাদের সংসার জীবনে তিন বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। এক সময় শ্বশুড়-শ্বাশুড়ির সংসারেই থাকতো। শ্বশুড়-শ্বাশুড়ির সাথে বনিবনা না হওয়ায় গত দেড় মাস যাবৎ তারা বাসা ভাড়া নিয়ে পৃথকভাবে বসবাস শুরু করে।
কিন্তু পৃথক হলে স্বামী আগের মতোই সামান্য কিছুতে মারধর করতো। ঘটনার দিনেও নিহতকে তার স্বামী মারধর করেছে বলে দাবী নিহতের মায়ের।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি রিজাউল হক জানান, ‘নিহতের স্বামীর আলম পেশায় চা দোকানি। নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। মামলার এজাহার নামীয় আসামী নিহতের স্বামী আলম কে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।’ এন.এইচ/জেসি


