কলেজের জমি আত্মসাতের অভিযোগ সভাপতির বিরুদ্ধে
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২২, ০৭:০৩ পিএম
# ফেরতের কথা উঠলেই করেন নানা টালবাহানা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যবাহী হোসেনপুর এসপি ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজের জমি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সভাপতি মো. আবদুল আউয়াল গংদের বিরুদ্ধে। অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি মরহুম আফাজউদ্দিন ও তার পরিবারের দানকৃত সম্পত্তির উপর নির্মিত।
তবে নানা টালবাহানা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ৩০ শতাংশ জমি সভাপতি স্থানীয় আরো বেশ কয়েকজন নিয়ে আত্মসাত করেছেন বলে এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। দিব দিচ্ছি বলেও এখনো আত্মসাতকৃত সম্পত্তি ফিরিয়ে না দেয়ায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৪ সালে ঐতিহ্যবাহী হোসেনপুর এসপি ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজের জন্য ৭১ শতক নাল জমির মধ্যে ৩০ শতক জমি দান করেন। মরহুম আলহাজ আফাজউদ্দিন আহম্মেদের ছেলে আফতাবউদ্দিন আহম্মেদ দানকৃত জমির দলিলও করেন।
কিন্তু নানা টালবাহানা করে পরবর্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব মো. আবদুল আউয়াল, মো. আবদুল বাতেন, মো.আবদুল মতিন, মো. রেজাউল করিম, মো. ইকবাল হোসেন, মো, সেলিম ২০১৭ সালের ১৪/১২/২০১৭ তারিখে নিজেদের নামে জায়গা আত্মসাত করে জমি নিজেদের নামে নামজারি করে নেন।
মূলত বর্তমান সভাপতি আবদুল আউয়াল তার প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকৌশল প্রয়োগ করেই এই অপকর্মটি করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি স্থানীয়দের চাপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জমি ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সময় গড়িয়েছে, সভাপতি আবদুল আউয়াল ভোল বদলেছেন। কিন্তু জমি ফেরত দেননি।
নানা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সভাপতি হওয়ায় কলেজের এই সম্পত্তি ফেরত নেওয়ার সুযোগও দেনকি কাউকে। যখনই কলেজের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন আসে নানা বাহানায় তিনি জমি ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তিনি এই জমি ফেরত দেননি। স্থানীয়ভাবেও নানা শালিস, বিচারেও সভাপতি আবদুল আউয়াল এই জমি ফেরত দেয়ার কথা বলেন।
কিন্তু আদতে তার কিছুই তিনি করেননি। উল্টো যারাই জমি ফেরত দেয়ার কথা বলেছেন তাদের কলেজের সাথে সংশ্লিষ্টতা রাখতে বাধা প্রয়োগ করেছেন তিনি। তার একচ্ছত্র প্রভাবে প্রতিষ্ঠানটি তার জায়গা এখনো বুঝে পায়নি। উড়ে এসে জুড়ে বসে দান করা সম্পত্তি গ্রাস করতে দেখে কষ্টের সীমা নেই স্কুল প্রতিষ্ঠানটির জন্য জায়গা দান করে দেয়া পরিবারের।
তারা বলছেন, সভাপতি নানা সময়ে যে জমি তিনি এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা গ্রাস করেছে তা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ফেরত দিয়ে দিবে। কিন্তু তারা ওই কথা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। নির্বাচন আসলেই তিনি ফেরতের কথা বলেন। নির্বাচন চলে গেলে এসব কথা আর কর্ণপাত করেননা। স্থানীয়ভাবে বহুবার তাকে বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে। কিন্তু কৌশলে তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি আত্মসাত করেই রয়েছেন।
এব্যাপরে হোসেনপুর এসপি ইউনিয়ন ডিগ্রী কলেজের প্রিন্সিপাল আবদুল লতিফ জানা, সভাপতি আবদুল আউয়াল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আত্মসাতকৃত জমি ফেরত দেয়ার কথা নানা সময়ে বলেছেন। তিনি শুধু কালক্ষেপণ করেছেন। এখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আত্মসাতকৃত জমি তিনি ফেরত দেননি। দিব-দিচ্ছি বলেও তিনি সেই জমি এখনো তাদের নামেই করে রেখেছেন। ফেরতের ব্যাপারে শুধু আশ্বাসই দিচ্ছেন। এখনো তিনি বলছেন ফেরত দেবেন, দেখা যাক কি হয়।


