সোনারগাঁয়ে জনবলের অভাবে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত, ভোগান্তিতে রোগীরা
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৩২ পিএম
সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্য সেবা চালানো হচ্ছে। এতে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারন রোগীরা। সরেজমিন গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা শতাধিক রোগীরা বর্হি বিভাগে একটি মাত্র কাউন্টারের মাধ্যমে নারী পুরুষ লাইন দাড়িয়ে টিকেট কেটে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করছেন।
চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হচ্ছে। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষের এই একটি সরকারি হাসপাতাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। হাসপাতালে প্রতিদিন বর্হি বিভাগে ৫’শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। তবে চিকিৎসক না থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ী ফিরে যান অনেকেই।
জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে ভবন উদ্বোধন করা হয়। সাধারন মানুষের আগের থেকে স্বাস্থ্য সেবার মান বাড়ার কথা থাকলেও হচ্ছে পুরো উল্টো ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে স্বাস্থ্য সেবা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এতে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা নিতে আসা শতশত রোগীরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটিতে শুধুমাত্র রক্ত পরীক্ষা করা হয়। অন্য সকল পরীক্ষা বাহিরের বেসরকারি ক্লিনিক গুলো থেকে করাতে হচ্ছে। হাসপাতালে ১৯ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র আছেন ৯ জন চিকিৎসক।
দীর্ঘ দিন ধরে হাসপাতালের সার্জারী কনসালটেন্ট এর পদটি শূন্য রয়েছে। এছাড়া দুইজন চিকিৎসক পেষণে রয়েছেন। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মী সহ ১৫২টি পদের মধ্যে ৩৯টি পদই শূন্য রয়েছে। হাসপাতালে একটি মাত্র সরকারী অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা।
বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের রাবেয়া আক্তার জানান, বুকে ব্যাথ্যা নিয়ে এক ঘন্টা ধরে লাইনে দাড়িয়ে থেকে টিকেট কেটে মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকের জন্য লাইনে দাড়িয়ে আছি। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা দম্পতি শারমিন ও হরযত আলী বলেন, দাতের ব্যাথ্যায় আমার স্ত্রী কথা বলতে পারছে তাই উপজেলা হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এসেছি কিন্তু দাতের ডাক্তার না থাকায় হাসপাতালের বাহিরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.সাবরিনা হক বলেন, জনবল বাড়ানো জন্য মন্ত্রনালয়ে চাহিদাপত্র দিয়েছি। অতিদ্রুত চাহিদাপত্র অনুযায়ী জনবল দেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।


