ফতুল্লা উন্নয়ন বঞ্চিত থাকা নিয়ে বিএনপি নেতাদের মতামত
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২২, ০৩:০৪ পিএম
# উন্নয়ন চোখে পড়ে না : রবি
# দুই বছর আগে অনেক গল্প শুনেছি : মামুন মাহমুদ
# ফতুল্লার উন্নয়নে ব্যর্থ বর্তমান সরকার : সাখাওয়াত
# তারা কি উন্নয়ন করেছে এটা ফতুল্লাবাসী জানে : রনি
# ফতুল্লায় উন্ন্য়নের বিন্দু মাত্র ছোঁয়া নাই : শাহেদ
নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের মধ্যে অন্যতম ফতুল্লা ইউনিয়ন; এই ইউনিয়ন ৭ লাখের ও বেশি ভোটার নিয়ে গঠিত। নগরীর সকলের কাছে এই এলাকা শামীম ওসমানের এলাকা বলেই পরিচিত। কিন্তু প্রায় যুগ যুগ ধরে সকল প্রকারের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছে এই সাংসদের এলাকা।
বন্যা হোক আর না হোক ১২ মাসই এই ইউনিয়নের মানুষ দুর্ভোগের শিকার। নেই কোনো ভালো রাস্তা যেগুলো রয়েছে সেগুলোর ও অচল অবস্থা জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও তাদের দ্বারা কোনো উপকার হয়নি এলাকাবাসীর। এই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এখন পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, সাধারন মানুষের বসবাসের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে।
এ নিয়ে নানাভাবে সাংসদ শামীম ওসমানকেই দোষারপ করছে এলাকার সাধারণ জনগণ। এলাকাবাসী এই নিয়ে নানা ধরণের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। এই ফতুল্লাবাসীর দুঃখ-কষ্ট নিয়ে বিএনপির অনেক নেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করলেন।
সূত্রে জানা যায়, এসব ইউনিয়নের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মতে শামীম ওসমান হলেন, একজন দাপুটে এমপি। তিনি কথাও কম বলেন না। নিজের এলাকা ডুবে থাকলে অন্যের সমালোচনা করতে পছন্দ করেন এই এমপি। তবে এখন সোস্যাল মিডিয়ার যুগ। তাই সাধারণ মানুষ নিজের মোবাইলে ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোড করছেন এবং এগুলো যে শামীম ওসমানের এলাকা সেটা পরিস্কারভাবেই লিখছেন।
এককথায় শামীম ওসমান যে উন্নয়নে ব্যর্থ হচ্ছেন সেটা বলার জন্য এখন আর তেমন কিছুৃর প্রয়োজন পড়ছে না। তার ব্যর্থতার কারণেই আজ চরম দুর্ভোগে পতিত হয়েছে তার এলাকার লাখ লাখ মানুষ। তার মাঝে এনায়েত নগর ইউনিয়ন, ফতুল্লা ইউনিয়ন, কুতুবপুর ইউনিয়ন এই তিনটি এলাকায় সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমান সরকার শুধু বলে উন্নয়ন-উন্নয়ন-উন্নয়ন; চারদিকে শুধু উন্নয়নের প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে, অথচ এখানে উন্নয়ন দৃশমান আমরা দেখি নাই।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘ডিএনডি এই প্রজেক্টের মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল জলাবদ্ধতার সমস্যা আমার ২ বছর আগে থেকে অনেক গল্প শুনেতে পেয়েছি যে জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রকল্প পাশ হয়েছে। ৬০০ কোটি বা ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ শামীম ওসমান সাহেব এনেছেন।
কিন্তু সেই উন্নয়নের টাকা কোথায় গেল জলাবদ্ধতাতো রয়েই গেল। ফতুল্লা এলাকার রাস্তা ঘাটের যে খারাপ অবস্থা । তারা একটি রাস্তা দেখাতে পারবে না যেই রাস্তাটার উন্নয়ন হয়েছে। ২০ বছর আগে যে রকম ছিল এখনো সেভাবেই পড়ে আছে ৪ আসনের উন্নয়ন কোথায় হয়েছে এই মুহুর্তে আমি বলতে পারবো না।
কুতুবপুরের দেলপাড়ার বিভিন্ন জায়গায় আমি দেখেছি যে, এই জলাবদ্ধতার সমস্যা, রাস্তার বেহাল দশা। আশা করি কথায় কেউ বড় না হয়ে, প্রকৃত জনসেবক হিসেবে যেন নিজেকে তুলে ধরতে পারি। আর বরাদ্দ হয়; তার পরেও জন দুর্ভোগ থেকেই যায় এটা থেকে পরিত্রান চাই আমরা।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘ফতুল্লা একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকা এই এলাকাটার মানুষ সবসময় উন্নয়ন বঞ্চিত এবং দীর্ঘদিন যাবৎ এই ফতুল্লার মানুষ জলাবদ্ধতা, ড্রেনের অব্যবস্থার অভাব এইসব কারণে পানির নীচে ডুবে থাকে।
১৫ বছর যাবৎ এই সরকার ক্ষমতায় কিন্তু ফতুল্লার উন্নয়ন করতে তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এই ফতুল্লায় প্রায় সাত লাখের মত ভোট রয়েছে। এই এলাকায় মানসম্পন্ন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নাই এবং ভালো একটি হাসপাতালও নাই। এই সকল অবস্থা মিলিয়ে আমি মনে করবো, নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে অবহেলিত এলাকা ৪ আসনের ফতুল্লা এলাকা।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আসলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার যে বিষয়টা উন্নয়ন কাজ; শামীম ওসমান সাহেব তার জায়গা থেকে যতটুকু পেড়েছে করছে। কিন্তু আমরা এর থেকে আরো বেশি আশা করেছিলাম। একজন জনপ্রতিনিধি তার মূল টার্গেট থাকে জনগণের সেবা করা।
তিনি জনগণের সেবা করার শপথ নিয়েই কিন্তু জনপ্রতিনিধি হয়েছেন। তার পরে ও সে জনগণের সেবা না করে থাকে; তাহলে এটা ব্যর্থতা। সে কতুটুক কাজ করেছেন, এটা সাধারণ মানুষই যানে । সেটা তারা ফল পাবে সামনে যে আন্দোলন সংগ্রাম হচ্ছে; সেখানে যেদিন সাধারণ মানুষ আমাদের সাথে একত্রিত হয়ে রাজপথে নামবে; তারা যদি উন্নয়ন করে থাকে তাহলে আমাদের সাথে রাজপথে জনগণ নামবে না।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি ও যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘বাংলাদশের সরকারের যে উন্নয়নের রোল মডেল যে বক্তব্যে দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের যে চিত্র ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জে একই চিত্র।
উন্নয়নের যদি বিন্দু মাত্র ছোয়া লাগতো ফতুল্লার জনগণ তাহলে দুর্ভোগে থাকতো না। এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা গত ১৫ বছরে আমি মনে করি না কোনো প্রকারের উন্নয়নের ছোয়া ফতুল্লায় লেগেছে।’ এন.এইচ/জেসি


