ভিটে মাটি রক্ষা করতে না পেরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা
সোনারগাঁ প্রনিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২২, ০৭:১৯ পিএম
বসত ভিটে রক্ষা করতে না পেরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে দুই সন্তানসহ শিরিন আক্তার (৩৫) নামের এক নারী আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপস্থিত জনতা তাদেরকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে পাঠায়।
বর্তমানে ওই নারী শিরিন আক্তার (৩৫) ও তার মেয়ে শামীমা আক্তার (১৬), এবং ছেলে মোঃ জহির খান (১০) পুলিশ হেফাজতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর আগে গত ২০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতা হান্নানকে আসামী করে সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই ভুক্তভোগী পরিবার।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শিরিন আক্তার সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ভারগাঁও গ্রামে ৬ শতাংশ জমি ক্রয় করে দুই তলা ভবন নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন।
সম্প্রতি রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার বরপা গ্রামের মোঃ হান্নান, মোঃ আয়েছ আলী ভূঁইয়া, মোঃ ফজলুল হক, মোঃ সিরাজুল হকসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন তাদের বসত ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ বিভিন্ন ভাবে ভয় ভীতি ও হুমকি প্রদান করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ অক্টোবর সকাল ৯ টায় উল্লেখিত ব্যাক্তিরা তাদের লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক বসত বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ি-ঘরে ভাংচুর চালায়। একই সময় তারা শিরিন আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয়।
এ ঘটনা ওই দিনই শিরিন আক্তার বাদী ৫ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামী করে সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে শনিবার সকালে গায়ে কেরোসিন ঢেলে দুই সন্তানসহ শিরিন আক্তারের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় তার স্বজনদের দাবী, আইনের আশ্রয় নিয়েও সন্ত্রাসীদের হুমকি ধামকি অব্যহত থাকায় উপায়ান্তর না পেয়ে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ বিষয়ে শিরিন আক্তার সংবাদকর্মীদের জানান, আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান ও তার লোকজন শিরিন আক্তারকে বাড়ি ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে বাড়ি যেতে দিচ্ছেন না বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
এ ব্যাপারে হান্নানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার ছেলে রানা সাউদ তার বাবার বিরুদ্ধে আনা হত্যার হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে তারা বাবা যার কাছ থেকে পাওয়ার অফ এটর্নি নিয়েছিল ওই ব্যাক্তি তাদের অগোচরে ব্যাংক ঋণ নিয়েছিল। এনিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানার ওসি তদন্ত আহসান উল্লাহ জানান, শিরিন আক্তার ৮ বছর আগে যে ব্যাক্তির কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছেন। সেই ব্যাক্তি অর্থাৎ হান্নান গং ওই জমি বিক্রির পূর্বে জমির বিপরীতে ব্যাংক থেকে ঋণ উত্তোলন করেছিলেন। এখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণের টাকার তাদের চাপ দেওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।


