ফতুল্লার এসআইয়ের নওমুসলিম গৃহবধূকে তুলে নেয়ার চেষ্টা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২২, ০৭:০৩ পিএম
ফতুল্লা থানার এসআই সাইফুল ইসলামের সহযোগীতায় নওমুসলিম গৃহবধু জান্নাতুল ফেরদৌস (পূর্বের নাম মিশু রানী মন্ডল) (২২) কে তুলে নেয়ার চেষ্টা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল এই গুরুতর অভিযোগ করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌসের স্বামী হৃদয় হোসেন (২৩)। তিনি জানিয়েছেন গতকাল দুপুর একটা থেকে জান্নাতুল ফেরদৌসের অনার্স প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা ছিলো।
কিন্তু পরীক্ষা দিতে গিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস দেখতে পান তার পিতা অপরিচিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে সরকারী তোলারাম কলেজের গেইটে দাড়িয়ে আছে। এ সময় সে বোরখা পড়া থাকায় তার পিতা এবং সন্ত্রাসীরা তাকে চিনতে পারেনি। পরে হৃদয় হোসেনের এক বন্ধুর সহায়তায় সে কৌশলে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
হৃদয় হোসেন আরো জানান, তিনি ফতুল্লা থানার উত্তর মাসদাইর গাবতলী এলাকার বাসিন্দা, তার পিতার নাম মৃত আসলাম ঢালি। বিগত প্রায় এক বছর আগে পঞ্চবটি হরিহর পাড়ার সনাতন মন্ডলের কন্যা মিশু রানী মন্ডলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। অত:পর সম্প্রতি এই মিশু রানী মন্ডল ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন এবং মুসলিম রীতি অনুযায়ী তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বিবাহের আগে জান্নাতুল ফেরদৌস নাম ধারণ করেন।
কিন্তু তার পিতা সনাতন পাল মন্ডল এবং মা এই বিয়ে না মেনে তারা ফতুল্লা থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ফলে এই অভিযোগটি তদন্ত করার দায়িত্ব দেয়া হয় এসআই সাইফুল ইসলামকে। এসআই সাইফুল ইসলাম দেখতে পান এই নওমুসলিম নববধূ প্রাপ্ত বয়স্ক একজন বালিকা। তার বয়স বাইশ বছর। দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সে তার নিজের বিয়ের এবং ধর্মান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারেন এবং নিয়েছেন।
তারা দেশে বিদ্যমান বিবাহ আইন অনুযায়ী এফিডেফিট করে এবং কাবিন রেজিষ্ট্রি করে একে অপরকে বিবাহ করেন। এটা দেখে এবং জেনে বুঝেও এই এসআই অন্যায়ভাবে সনাতন মণ্ডলের পক্ষে অবস্থান নেন এবং নানা ভাবে হৃদয় হোসেন এবং তার পরিবারকে হয়রানী করতে থাকেন।
এসআই সাইফুল ইসলামের নির্দেশে পুলিশ লাইন এলাকার বাড়িওয়ালার ছেলে লিটন হৃদয় হোসেনদের বাসার মালামাল আটকে রাখেন। তারা লিটনদের ৬তলা বাড়ির পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন। গত মাসের ৩১ তারিখে তারা ওই বাসা ছেড়ে দেন। গতকাল পর্যন্ত তারা তাদের মালামাল ফেরৎ নিতে পারেননি।
এ দিকে বাসার মালামাল আটকে রাখার কারণে গত ১ নভেম্বর তারা বিষয়টি জানিয়ে উত্তর মাসদাইরের স্থানীয় ইউপি মেম্বার কামরুল হাসানের সহযোগীতা চেয়ে তার স্বরনাপন্ন হন। কিন্তু কামরুল হাসান এ বিষয়ে বার বার এসআই সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করেও তার কোনো সহযোগিতা পাননি। বরং এসআই সাইফুল বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে নববধূকে ফেরৎ দেয়ার জন্য হৃদয় হোসেনকে হুমকি ধমকি দিতে থাকে এবং তাকে খুঁজতে থাকে।
ফলে এসআই এর ভয়ে সে তার স্ত্রী ও মাকে নিয়ে পালিয়ে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এরই মাঝে গতকাল সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে তার স্ত্রীকে তুলে নেয়ার চেষ্ঠা করে সনাতন মন্ডল। এ দিকে এর আগে গত ২ অক্টোবর অভিযোগ পেয়ে এসআই সাইফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ বিষয়ে মেয়েটির বাবা অভিযোগ করলেও আমরা দেখতে পাই মেয়েটি যথেষ্ট সাবালিকা।
তাই দেশের আইন অনুযায়ী আমরা এ বিষয়ে কোনো এ্যাকশান নিতে পারি না। তবে মেয়ের বাবা মেয়েটির সাথে কথা বলতে চাইলে এ ব্যাপারে স্থানীয় মেম্বার কামরুল হাসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কামরুল হাসান মেয়েটির সাথে তার বাবা মাকে স্বাক্ষাত করার ব্যাবস্থা করে দিলেই আর কোনো সমস্যা থাকবে না।
মোবাইল ফোনে এসআই সাইফুলের কাছে মালামাল কেনো আটকে রাখা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি মালামাল আটকে রাখিনি। মালামাল আটকে রেখেছে বাড়িওয়ালা। তবে কামরুল মেম্বার যদি মেয়েটির বাবা মায়ের সাথে মেয়েটির দেখা করিয়ে দিতে পারেন তাহলে আমি বাড়িওয়ালাকে বলবো মালামাল ছেড়ে দিতে।
এদিকে এ বিষয়ে জানতে মেম্বার কামরুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমার কাছে হৃদয় হোসেন এবং তার স্ত্রী ও মা আসেন। আমি ২ অক্টোবর এসআই সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে বিষয়টি দেখতে বলেন। কিন্তু আমি তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে পরবর্তীতে বার বার এসআই সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলেও তিনি আমার ফোন রিসিভ করছেন না।


