Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

বজলুর বিরুদ্ধে তথ্য উদ্ধারে অভিযান

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫১ এএম

বজলুর বিরুদ্ধে তথ্য উদ্ধারে অভিযান
Swapno


# বাড়লো চনপাড়া ক্যাম্পে পুলিশের সংখ্যা
 

রাজধানীর উপকণ্ঠে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া বস্তি ঘিরে বহুল আলোচিত বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে তথ্য উদ্ধারের অভিযানে নেমেছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসার সঙ্গে নুন্যতম সম্পৃক্ততা সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানা গেছে।  

 

 

এদিকে চনপাড়া এলাকার চাঁদাবাজী, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা নির্মূলে র‌্যাব ও পুলিশের অভিযান বৃদ্ধি পেয়েছে। জিমিয়ে পড়া রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া ক্যাম্পে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সংখ্যা। এছাড়াও পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় চনপাড়া এলাকা অনেকটাই পুরুষ শূণ্য।

 

 

বিশেষ করে অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িতরা গ্রেফতার ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানা গেছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন হত্যা কাণ্ডের ঘটনায় আলোচনায় আসে চনপাড়া বস্তির অপরাধ কর্মকাণ্ডের ইতিহাস।

 

 

মৃত্যু ভয়ে সন্ত্রাসীদের ভয়ে চুপ থাকা সাদারণ ও নির্যাতিত এলাকাবাসী মুখ খুলতে শুরু করেছে। র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের কাছে এতোদিন কেউ কিছু না বললেও গতকয়েকদিন ধরে এলাকাবাসী তাদের সুবিধা অসুবিধা ও অপরাধীদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে।

 

 

রূপগঞ্জ থানা সূত্র জানায়, চাঁদাবাজী, হত্যা, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়ে আইনÑশৃৃঙ্খলা ব্যপক অবনতি হওয়ায় চনপাড়া এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ির আদলে একটি ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরুর থেকে তিন/চারজন পুলিশ সদস্য দিয়ে ক্যাম্প পরিচলা করা হয়।

 

 

তখন এলাকাবাসী ক্যাম্পের সুফল ভোগ করেছিল। কিছুদিন পর থেকে অর্থের কাছে পরাজায় বরণ করে পুলিশের সততা। ক্যাম্পে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণের থেকে অপরাধীদের কাছ থেকে আর্থিক ভাগ নিতে বেশি ব্যস্ত হয়ে যায়। ফলে ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে এলাকাবাসী আর আইনী সহায়তা পায়নি। উল্টো অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে। 

 

 

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অপরাধের ঘটনায় ক্যাম্পটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পুলিশ সুপারেরর কার্যালয়ে আসা বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের মধ্যে চনপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ভুমিকা উঠে আসে। গোয়েন্দা তথ্যে গুরুত্ব দিয়ে চনপাড়া পুলিশ ক্যাম্পে আট/দশ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগ দিয়ে পুনরায় সচল করা হয়েছে।

 

 

এই ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে অপরাধ আরো কমে আসবে বলে মনে করে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কর্মকর্তারা।  এদিকে চনপাড়া এলাকার ডন খ্যাত বজলুর নিয়ে বিপাকে পুলিশ সদস্যরা।

 

 

প্রতিদিন বিভিন্ন মহলের পাশাপাশি গণমাধ্যমে উঠে আসছে বজলু মেম্বরের অপকর্ম। কিন্তু পুলিশ কার্যত কনো পদক্ষেপ নিতে পাড়ছে না। কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, প্রায় দেড়যুগ ধরে চনপাড়া বস্তি ও আশপাশের এলাকায় অপরাধের রাজত্ব কায়েম করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বজলুর রহমান।

 

 

যখন তিনি নিজে সরাসরি বিভিন্ন অপরাধে অংশ নিতো, স্থানীয় সংসদ সদস্যের আর্শীবাদপুষ্ট হওয়ায় থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারেনি। অথচ এখানে অস্ত্র, মাদক, চাাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হয় তার লোকজনের মাধ্যমে। কিন্তু কেউ তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে কিছু বলছে না।
 

 

জানা গেছে, গণমাধমে সংবাদ প্রকাশ হবার পর থেকে র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা চনপাড়া এলকায় একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

 

 

প্রতিটি অপরাধের ঘটনায় বজলু মেম্বরের নাম আসলেও তাকে আটক বা গ্রেফতার করার মতো উপযুক্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও পৃথক পৃথক অভিযানে গত কয়েকদিন গ্রেফতার করা হয়েছে ১৫ থেকে ২০ জন।

 

 

থানা পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাবের অভিযানেও আটক হয়েছে কয়েকজন। কিন্তু কেউ বজলুর কর্মকান্ড সম্পর্কে মুখ খুলছে না। গ্রেফতার এড়াতে এলাকা অনেকটা পুরুষ শূণ্য হয়ে গেছে।
 

 

এসব বিষয়ে জানাতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, “চনপাড়া এলকায় গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় র‌্যাব কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচানা করে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে অভিযান অবহ্যত রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে চনপাড়া পুলিশ ক্যাম্প সচল করে কার্যকর করা হয়েছে।”
 

 

মেম্বার বজলুর বিরুদ্ধে এতো অভিযোগ তার বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা জানতে চাইলে এসপি বলেন, “তিনি জনপ্রতিনিধি অবশ্যই তিনি আইনের বাইরে নন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ অভিযান এরইমধ্যে শুরু হয়েছে।

 

 

যে কোন অপরাধে নূন্যতম সম্পৃক্তার প্রমান পওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর যদি অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় তাকে গ্রেফতার করা হবে।

 

 

যে কোন মানুষকে গ্রেফতার করার জন্য যথেষ্ট প্রমান না থাকলে আদালতে কি নিয়ে হাজির করা হবে বলেও মন্তব্য করেন পুলিশ সুপার।” এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন