Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

শ্রম অধিদপ্তরের নাম ভাঙিয়ে আজিজুলের চাঁদাবাজি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২২, ০৪:৪১ পিএম

শ্রম অধিদপ্তরের নাম ভাঙিয়ে আজিজুলের চাঁদাবাজি
Swapno


# নিউজ করায় সাংবাদিককে রাজপথে দেখে নেওয়ার হুমকি

# আমি চাঁদাবাজ না সাংবাদিকরা চাঁদাবাজ

# এ সকল পরিবহনের অনুমোদন দেইনি : পরিচালক, শ্রম অধিদপ্তর
 

নারায়ণগঞ্জে দিনের পর দিন বেড়েই চলছে ব্যাটারি চালিত অবৈধ অটো রিক্সা। অনুমোদন না থাকলেও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এই সকল অনিবন্ধিত পরিবহন দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আর এই সকল অনিবন্ধিত অটো মিশুক চালানোর সুযোগ করে দেয় কিছু চিহ্নিত চাঁদাবাজ।

 

 

যারা টাকার বিনিময়ে প্রতিটা ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা চালককে একটি নাম্বার প্লেট দিয়ে থাকে। বিশেষ করে ফতুল্লায় এই চাঁদাবাজদের একটি বিশাল চক্র রয়েছে যার নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন ফতুল্লার কুখ্যাত চাঁদাবাজ বরিশাইল্লাহ আজিজুল।

 

 

এক সময় তিনি সামান্য অটো চালক থাকলেও বর্তমানে এই পরিবহন চাঁদাবাজি করেই তিনিই এখন অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। জানা যায়, বাংলাদেশ শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাওছার আহমেদ পলাশের নাম ভাঙ্গিয়ে বছরের পর বছর চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে!! এই চিহ্নিত চাঁদাবাজ।

 

 

তার এই চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি যুগের চিন্তাকে জানান, “আমি রাস্তায় দাড়িয়ে চাঁদাবাজি করি না সংগঠনের যে সকল সদস্য রয়েছে তারা অফিসে এসে চাঁদা দিয়ে থাকে। আর আমাদের সংগঠনে কত সদস্য আছে সেটা বড় বিষয় না।

 

 

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা রিকসা চালক শ্রমিক ইউনিয়ন আর এটা চাষাড়া শ্রম অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নেওয়া যার রেজিঃনং ৩৭৩২।”

 

 

এরপর চিহ্নিত চাঁদাবাজ আজিজুল;  তিনি যুগের চিন্তা পত্রিকা অফিসে আবার ফোন দেন এবং তাকে ফোন করা প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে চান। পরবর্তীতে সেই প্রতিনিধি ফোন ধরলে আজিজুল ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিতে থাকে এবং সে বলতে থাকে আমি চাঁদাবাজ নই আপনি চাঁদাবাজ, আপনি স্টিকার লাগিয়ে চাঁদাবাজি করেন।

 

 

আপনারা সব সাংবাদিক চাঁদাবাজ আমার কাছে সব সাংবাদিকদের চাঁদাবাজির প্রমাণ আছে। আমি রাজপথে দেখে নেবো আমি চাঁদাবাজ না সাংবাদিকরা চাঁদাবাজ।”

 

 

এ বিষয়ে শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক খোরশেদুল হক জানান, “আমি এইখানে আসার পর এই সকল গাড়ির জন্য কোন ধরনের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। যদি কেউ দিয়েও থাকে সেটা আমার আসার আগে হয়েছে। যে বলছে অনুমোদন আছে তার নাম ফোন নাম্বার রেজিঃনং আমাকে পাঠান তাহলে ক্লিয়ার হতে পারবো। এই অনুমোদন আমাদের এখান থেকে দেওয়া হয়েছে কিনা।”

 

 

সূত্রে জানা যায়, এই অটো চালক আজিজুল বিভিন্ন গ্যারেজের অটো চালকদের নিয়ে ফতুল্লায় একটি সংগঠন গড়ে তোলে। আর এই সংগঠনটি প্রত্যেকটি পাড়া মহল্লায় যে সকল অটো চালক রয়েছে তাদেরকে নির্দেশনা দেন; এই ফতুল্লায় অটো চালাতে হলে প্রতিদিন ৩০ টাকা ও মাসে ৩০০ টাকা চাঁদা দিতে হবে।

 

 

তার এই কথা কিছু কিছু অটো চালক মেনে নিলেও বেশির ভাগ অটো চালকরা তার এই কথার বিরোধ জানালেও কোন লাভ হয়নি। যে সকল অটো চালকরা তার কথা মানেনি সেই সকল অটো চালকদের গাড়ির সিট নিয়ে যাওয়া হতো। কোন দিক-উপায় না পেয়ে তার কথা মেনে নিয়ে  দৈনিক আজিজুলকে চাঁদা দিতে শুরু করে অটো চালকরা।

 

 

শুধু তাই নয় এই ফতুল্লায় মধ্যে অটো চালাতে হলে আগে  ৩০০০ থেকে ৫০০০ টাকা দিয়ে রোড পারমিটের জন্য চাঁদাবাজ আজিজুলের কাছ থেকে প্লেট নিতে হবে। আর যে এই অটোর প্লেট নিতে পারবেনা; সে এই ফতুল্লায় অটো চালাতে পারবে না।

 

 

তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই তাকে চাঁদা দিয়ে এই রোডে অটো চালাতে হচ্ছে। আর এই সকল অটো চালকরা চাঁদাবাজ আজিজুলের কাছে এক প্রকার জিম্মি বললেই চলে।

 

 

এই পরিবহন চাদাঁবাজ বরিশাইল্লাহ আজিজুল দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কোন ভাবেই থামানো যাচ্ছেনা এই চিহ্নিত চাঁদাবাজ আজিজুলকে। চাঁদাবাজী করার কারণে বেশ কয়েকবার আজিজুল পুলিশের কাছে গ্রেফতারও হন।

 

 

সর্বশেষ গত বছরের ৫ অক্টোবর র‌্যাব ১১ হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা বারবার জেল খাটার পরেও এখনো বদলায়নি এই চাদাঁবাজ আজিজুল।  একে একে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় সমান হলেও সেটা নিয়ে তার নেই কোন ভাবনা।

 

 

তার শুধুৃ একটাই লক্ষ্যে কিভাবে চাঁদাবাজি করে অবৈধ সম্পদের মালিক হওয়া। শুধু চাঁদা নিয়েই থেমে থাকেননি এই চাঁদাবাজ বিভিন্ন সময় তার রিরুদ্ধে যাওয়া অটোচালকদের ওপর চলে তার নির্যাতন। এমনকি জানা গেছে চালকদের নির্যাতন করার জন্য; তার রয়েছে টর্চার সেল!!!

 

 

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক) সার্কেল নাজমুল হাসান ও ফতুল্লা থানা অফিসার ইনচার্জ রিজাউল হক দিপু জানান, “যেহেতু আপনারা তথ্য দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সহকারে দেখবো।” এন.এইচ/জেসি 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন