ভূয়া দলিলে মসজিদের জমি নামজারি করায় সাত জনের বিরুদ্ধে মামলা
সোনারগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৪৭ পিএম
প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে মসজিদের জমি ব্যক্তির নামে নামজারি করে দেয়ায় সোনারগাঁ উপজেলা ভুমি কার্যালয়ের কানুনগোসহ ৭ কর্মচারীর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা সারোয়ারের আদালতে মসজিদের পক্ষে পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তি।
পিটিশন মামলা নং ৪২৩/২০২২। গত ৭ ডিসেম্বর তিনি এ মামলাটি দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার বিবরন থেকে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে মাইজউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি জামে মসজিদের নামে দৌলতপুর মৌজায় ১১.৫০ শতাংশ জমি দান করেন।
এরপর থেকে ওই জমি মসজিদ কর্তৃপক্ষ ভোগ দখল করে আসছিল। পরে সোনাবান নামে জনৈক এক নারী এ জমির মালিকানা দাবি করে ২০১১ সালে জমিটি নিজের নামে নামজারি করে নেন। এ নামজারিতে ভূয়া দলিল উপস্থাপন, মিথ্যা তথ্য ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মামলার বাদি আবুল কালাম।
পরবর্তীতে এ নামজারির বিরুদ্ধে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে ভূল সংশোধনী মিস কেইস দাখিল করলে মিস কেইস চলমান থাকা অবস্থায় সোনাবান ওই জমি আব্দুল খলিল নামে অপর ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। ভূল সংশোধনী মিস কেইস চলমান থাকা অবস্থায়ই পুনরায় আব্দুল খলিল ভুমি কার্যালয়ে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে ওই জমি নিজের নামে নামজারি করেন।
এ ঘটনায় মসজিদের পক্ষে আবুল কালাম সোনারগাঁ ভূমি কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার ঢাকায় রিভিউ আপিল করেও প্রতিকার পাননি। পরে তিনি জমির মালিকানা দাবিদার সোনাবান, আউয়াল হোসেন ও আব্দুল খলিলের নামে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় আরো আসামী করা হয় সোনারগাঁ উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের কানুনগো ফারুক আলম, সাবেক সার্ভেয়ার নূরে আলম, ওমেদার ইমরান মিয়া ও সনমান্দি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা বিপুল চন্দ্রকে। এ জমির মিস কেইস এর মামলাটির প্রতিবেদন দাখিলের জন্যেও সার্ভেয়ার নূরে আলম বাদি আবুল কালামের কাছে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে মামলার বিবরণীতে।
মামলার বিবরনীতে বলা হয় ভুমি কার্যালয়ের উক্ত কর্মকর্তারা উৎকোচের বিনিময়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করে ভূয়া দলিল সৃজন করে জালিয়াতির মাধ্যমে মসজিদের জমি ব্যক্তি নামে নামজারি করে দিয়েছেন।
ভূয়া দলিলের বিষয়টি সন্দেহ হলে দলিলের নাম্বার অনুযায়ী তল্লাশী করে আবুল কালাম জালিয়াতির বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হন। এতে দেখা যায় এ দলিল নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা উপজেলার মাসদাইর মৌজার। উল্লেখিত জমি নয়।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী আবুল কালাম বলেন, মসজিদের নামে দানকৃত জমিটি ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে ব্যক্তি নামে নামজারি করে নিয়ে গেছেন সোনাবান নামে জনৈক এক নারী। এতে ভূমি কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারী জড়িত তাই তাদের বিরুদ্ধে আদালতে পিটিশন মামলা দায়ের করেছি।
সোনারগাঁ উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের কানুনগো ফারুক আলম বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি নামজারি কিংবা মিস কেইসের কাজের সাথে সম্পৃক্ত নই।


