সোনারগাঁ উপজেলা সদরের প্রধান সড়কে নিত্যদিন যানজট জনদুর্ভোগ চরমে
আশরাফুল আলম, সোনারগাঁ
প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:১১ পিএম
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সংযোগ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা সদরের প্রধান সড়কে নিত্যদিনের যানজটে দুর্বীসহ হয়ে উঠেছে নাগরিক জীবন। উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা থেকে বৈদ্যেরবাজার খেয়াঘাট পর্যন্ত মাত্র ৫ কিলোমিটার সড়কে চলাচলরত যাত্রীদের ১৫ মিনিটের গন্তব্যে এখন দেড় থেকে দুই ঘন্টারও অধিক সময় লাগছে। এসড়কে প্রতিদিন উপজেলা প্রশাসনের সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী, থানা পুলিশের কর্তাব্যক্তি ও পুলিশ সদস্য, সদর হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, রোগী, সাবরেজিষ্টার কার্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ব্যবসায়ীসহ সাধারন মানুষ চলাচল করলেও নিত্যদিনের যানজট নিরসনে কারো কোন উদ্যোগ নেই বললেই চলে।
প্রতিদিনের যানজট এখন রীতিমত মানুষের ঘাড়ে চেপে বসেছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন সোনারগাঁ উপজেলা বাসিন্দাদের পাশাপাশি কুমিল্লার হোমনা, মেঘনা ও পার্শ্ববর্তী আড়াইহাজার উপজেলার হাজার হাজার মানুষের চলাচল। স্থানীয় মোগরাপাড়া ও বৈদ্যেরবাজার এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ ব্যাটারী ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাশাপাশি এসড়কে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভারী যানবাহন চলার কারনে যানজটে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষ। তাদের দাবি ভোগান্তি নিরসনে সড়কটি আরো প্রশস্ত করা অত্যন্ত জরুরি।
জানা গেছে, জন গুরুত্বপূর্ণ এসড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। সড়কের পাশে কিছু কিছু অংশে বাঁশ মূলীর দোকান রয়েছে। তাছাড়া দিন দিন ব্যাটারী ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ ভারী যানবাহন চলাচল বাড়ছে। এতে সড়কটিতে যানজটের ভোগান্তি মানুষের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাড়িয়েছে। মাঝে মধ্যে যানজট প্রকোট আকার ধারন করলে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে আরো কয়েক গুণ বেশি সময় লাগে। সড়কের পাশেই রয়েছে সোনারগাঁ উপজেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়, থানা কার্যালয়, সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়, পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়, কয়েকটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিপনী বিতান-দুটি বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
প্রতিদিন যানজটের কারনে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবা নিতে আসা মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে। এছাড়া বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন ও পানাম নগরীতে ঘুরতে আসা দেশি বিদেশী পর্যটকরাও এসড়কটি ব্যবহার করেন। স্থানীয় কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক বছর ধরে সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ও বারদী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা অবিরত এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের পণ্যবাহী শত শত ভারী যানবাহন এসড়ক ব্যবহার করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ওঠে।
যার ফলে প্রতিদিনই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। উপজেলার চান্দেরকীর্তি এলাকার ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন বলেন, কোনো মুমূর্ষু রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকায় নিতে হলে এ সড়ক ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু যানজটের কবলে পড়ে সময় মতো রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছতে না পাড়ায় বিপদে পড়তে হচ্ছে অনেককে। জরুরি অনেক কাজে সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব হয় না। মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার মুদি ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ বলেন, যানজটের কারণে পণ্যসামগ্রী আনা-নেওয়া করতে প্রতিদিনই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ সড়কে যানজট নিত্যদিনের ঘটনা কবে যানজট মুক্ত হবে কেউ জানেনা?
সোনারগাঁ থানার ওসি মাহাবুব আলম জানান, এ সড়কের যানজট নিয়ে পুলিশও ভুক্তভোগী। সড়কটি সরু হলেও বিভিন্ন শিল্পকারখানার ভারী যানবাহন চলাচল করায় প্রতিনিয়ত যানজটের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যাও বেশি। এটি নিয়ে কাজ চলছে। শীঘ্রই যানজট সমস্যার সমাধান হবে। নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহানা ফেরদৌস বলেন, সোনারগাঁ উপজেলা সদরের প্রধান সড়কটি আরো প্রশস্ত করতে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। শিঘ্রীই সড়কটির কাজ শুরু হবে।
এস.এ/জেসি


