মামুন হত্যাকাণ্ডে ছেলের দোষে মা হত্যা মামলার আসামি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:৫৮ পিএম
# মাদক এর টাকা নিতো এখন দেই না বলে আমার বিরুদ্ধে মামলা : সীমা বেগম
# আমি মাদক এর বিরুদ্ধে সবসময় কাজ করেছি : সিদ্দিক
ফতুল্লার ইসদাইর স্টেডিয়াম সংলগ্ন নূর ডাইংয়ের পেছনের মাঠে গত ৫ ডিসেম্বর মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে মামুন (২২) নামক এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় আহত হয় নূর নবী (২১) নামক আরো এক যুবক। নিহতের বন্ধু শফিকুল জানায়, ফোন করে তার বাসার পেছনে আসে নিহত মামুন। এর কিছুক্ষণ পরেই সাইফুল, পায়েল, জয়-সাদসহ ১০-১৫ জন মামুন এবং নুরনবীকে পেয়ে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করে। এতে দুজনই মারাত্মক আহত হয়।
তাদেরকে উদ্ধার করে শহরের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে সেখানে মারা যায় মামুন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে, ফতুল্লা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয় সেখানে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে যার মধ্যে ৪নং বিজয় ও ৫নং শিপন আসামী হলেন এক সময়ের মাদক ব্যবসায়ী সীমা বেগম এর ছেলে যারা যুক্ত ছিলো মামুন হত্যাকাণ্ডের সাথে। কিন্তু তাদের মা সীমা বেগম ঘটনার সময় অবস্থান করছিলো মুন্সিগঞ্জ জেলায় তার পরেও নারায়ণগঞ্জে না থেকেও মিথ্যা হত্যা মামলার আসামী হয়েছেন সীমা বেগম এমন দাবি তার।
এবিষয়ে সীমা বেগম বলেন, আমি এক সময় ইসদাইরে বসবাস করতাম সেখানে বেশ কিছু দিন মাদক ব্যবসা করেছি কিন্তু আমি নিজে বাড়ি করে এখন মুন্সিগঞ্জ থাকি ৪/৫ বছর ধরে আমি ইসদাইরে থাকি না। আর যে মামুন মারা গেছে আমি তাকে কখনো দেখি নাই তাকে চিনিও না। আমার পিছনে লেগে আছে ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. সিদ্দিক কারন তার সাথে আমার কিছু ঝামেলা ছিলো তখন সে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে বলেছে তোকে দেখে নিবো।
তিনি আরো বলেন, আমি যখন মাদক ব্যবসা করতাম তখন তাকে প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা দিতাম সে এখন তো টাকা পায় না তাই এমনটা করছে আমার সাথে। তার সাথে আমার ছেলে নিয়ে একটি জামেলা আছে অনেক আগে থেকে। আমি জানি এটার সাথে সাথে আমার ছেলে ও তার বন্ধুরা জড়িত আছে কিন্তু আমার নাম দেয়ার কারন আমি বুঝলাম না। আমি আপনাদের কাছে এটার সঠিক বিচার চাই।
এবিষয়ে ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি সিদ্দিক যুগের চিন্তাকে বলেন, আমি যদি মাদক এর টাকা খাইতাম তাহলে কি তাদের বিরুদ্ধে নিউজ করতাম নাকি। আমি মামুন হত্যা কাণ্ডের ব্যাপারে কিছু জানি না। আমি তো মামলার বাদি না, পুলিশও না আমি কি করে তার নাম দিবো। আমি যদি দোষী হই তাহলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। আমি তো ইসদাইরে দুইটা স্কুল চালাই সেখানের ছেলেরা গাজাঁ খেয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তাই আমি মাদক এর বিপক্ষে কাজ করি সব সময়। এবিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) যুগের চিন্তাকে বলেন, আমরা তদন্ত করছি এটা শেষ হলে জানা যাবে কে আসল আসামী।
এস.এ/জেসি


