Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

পুলিশকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় রাজাকারের নাতি শুভ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:৩৬ পিএম

পুলিশকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায় রাজাকারের নাতি শুভ
Swapno

 

# মামলার তদন্ত চলমান আছে : তদন্ত কর্মকর্তা
# গলায় মাফলার পেচিয়ে পুলিশ সদস্যকে হত্যার চেষ্টা করা হয় : বাদী

 

বাংলায় একটি কথা প্রচলন আছে যে, ‘কচু গাছ কাটতে কাটতে মানুষ ডাকাত হয়’। তেমনি অবস্থা হয়েছে বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদের ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভ’র। কুখ্যাত রফিক রাজাকারের ছেলে মাকসুদের পরিবার খুন, হত্যা, ভূমিদস্যুতা, ধর্ষণ, ছিনতাই, লুটপাটসহ এমন কোন হেন অপরাধা নাই যা তারা করেনি। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে মানুষ হত্যা করা, যুদ্ধ ও যুদ্ধের পরবর্তী সময় মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করা এমনকি মানুষের মাথা কেটে তা দিয়ে ফুটবল খেলার ইতিহাসও আছে তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে।

 

মাকসুদ চেয়ারম্যান ও তার বাপ-চাচা, ভাই-ব্রাদারসহ তাদের পুরো পরিবারের বিরুদ্ধেই এই ধরণের বিভিন্ন ধরণের রোমহর্ষক ঘটনার গল্প স্থানীয়দের মুখে মুখে। মাকসুদ চেয়ারম্যান তার ছেলে মাহমুদুল হাসান শুভকেও সেই ছোট বেলা থেকেই দিয়ে যাচ্ছে পরিবারের সেই ঐতিহাসিক অপরাধের প্রশিক্ষণ। মাকসুদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগের কোন অন্ত নেই। এর আগে মাদক সিন্ডিকেট, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বেশ কিছু অপরাধের মাধ্যমে হাত পাকিয়ে শুরু করে কিডন্যাপ ও টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতন। আর সর্বশেষ অপকর্ম হলো ৪ পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে আহতসহ এক পুলিশ সদস্যকে গলায় মাফলার পেচিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা। এখনও তারা তাদের পারিবারিক ঐতিহ্য বজায় রেখেই যেন রাজাকার ও ডাকাত উপাধিটিকে ধরে রাখতে চায়। আর তাদের এই রাজাকার ও খুন খারাবির কথা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিডিয়ায়ও প্রকাশ পায়।  

 

প্রশাসনও তাদের অপকর্মকে অপরাধ বলে মনে করে না বলে স্থানীয় অনেক ভূক্তভোগীই বিভিন্ন সময় অভিযোগ করেন, কিন্তু তাতে প্রশাসনেরও যেন কিছু আসে যায় না। বরং বেশ কিছু ঘটনায় প্রশাসন তাদের আরও সহযোগিতা করে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়। যার প্রমাণ কিছুদিন আগে কামতাল এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি ধর্ষণের ঘটনা। যেখানে ধর্ষকরা মাকসুদ বাহিনীর সদস্য হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় এলাকা ছাড়া হয় ধর্ষিতার পরিবার।

 

এমনকি মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের ধরা হয় না বলে ধর্ষিতার পরিবারের অভিযোগ। তবে সম্প্রতি পুলিশকে মারধরসহ হত্যার চেষ্টার বিষয়টি নিয়ে এখন শুধু বন্দর নয়, পুরো নারায়ণগঞ্জ জুড়েই চলছে আলোচনা সমালোচনা। এই ঘটনায় গত ১৬ ডিসেম্বর বন্দর থানার কামতাল পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মো. শফিউল্লাহ বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২৬। পুলিশ সদস্য পিয়ালকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় মাফলার পেচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করেন বাদি এএসআই শফিউল্লাহ।

 

মামলার বিবরণসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর রাত পোনে একটার দিকে বন্দর উপজেলার কামতাল এলাকায় মহাসড়কের দায়িত্বরত অবস্থায় ছিলেন কামতাল তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই মো. শফিউল্লাহসহ কন্সটেবল মাসুদ, সোহেল ও পিয়াল। সে সময় মদনপুরের দিক থেকে লাঙ্গলবন্দের দিকে দুইজন আরোহীসহ একটি মোটর সাইকেল আসার সময় সন্দেহ হলে তাদের থামাতে বলেন দায়িত্বরত দায়িত্বরত পুলিশ।

 

সে সময় বাইক আরোহীরা কোন কাগজপত্র দেখাতে না পেরে তারা জানায় তারা স্থানীয় ইউনিয়ন (মুসাপুর) এর চেয়ারম্যান মাকসুদ এর লোক। এই বলে তারা কোন সুযোগ না দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পর মুসাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ এর পুত্র মাহমুদুল হাসান শুভ (২৭)’র নেতৃত্বে কালু মিয়ার ছেলে অন্তর (২৬), মুন্সী মিয়া শান্ত (২৫), আরাফাত (২৬) (পিতার নাম জানা যায়নি), গিয়াসউদ্দিন (মৃত)এর ছেলে রানা (৩৬), পিতা মহসীন (মৃত) জরিপ (৩২), নাদিম (৩২) (পিতার নাম জানা যায়নি), মৃত খালেক মিয়ার ছেলে আমিনুলসহ অজ্ঞাত আরও ১০/১২ জনের একটি দল সংঘবদ্ধভাবে লাঠিসোঠা নিয়ে হামলা চালায়।

 

অন্তর ও শান্ত পুলিশ সদস্য পিয়ালকে টানিয়া হেঁচড়াইয়া নিয়া যায় এবং রানা পিয়ালকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলায় মাফলার দিয়া টানিয়া ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এই সময় তারা সকলে মিলে এলোপাথারি কিল-ঘুষিসহ লাঠি দিয়ে পুলিশ সদস্যদের পিটাতে থাকে। পিয়ালকে বাঁচাতে অন্যান্য সদস্যরা আগাইয়া গেলে এএসআই শফিউল্লাহ ও পুলিশ সদস্য মাসুদ ও সোহেলকে কিলঘুষি মারতে থাকে শুভ বাহিনী। সে সময় শফিউল্লাহ বন্দর থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে এবং অপরাধীরা হুমকী দিয়ে চলে যায়। সে সময় রাজাকার নাতি শুভ ও তার বাহিনী মদপ্য অবস্থায় ছিল বলে জানা যায়।

 

এই বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শওকত আলী জানান, এখন মামলাটির তদন্ত চলমান আছে। এই ঘটনায় শুধু একজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এস.এ.জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন