আসছে বর্ষায় কপাল পুড়বে ফতুল্লাবাসীর
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৩, ০৮:৪২ পিএম
# বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয়রা
সদর উপজেলার ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত জনপদে জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে থাকে লালপুর, পৌষা পুকুরপার, টাগারপাড়, ইসদাইরসহ আশেপাশের এলাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে একদিন বৃষ্টি হলেই সপ্তাহব্যাপী পানি জমে থাকে হাঁটু সমান। পানি ও এত মারাত্মক পর্যায়ে দূষিত থাকে যার ফলে এই পানির সংস্পর্শে আসলেই সকলেই চর্ম রোগে আক্রান্ত হয়। গাড়ির পাটাতনেও উঠে যায় পানি ফলে গাড়ির বদলে নৌকা চলতে দেখা যায় সড়কে। ফতুল্লার জলাবদ্ধতা এই জনপদের মানুষের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই অভিশাপ থেকে কবে মুক্তি পাবে এই অঞ্চলের মানুষ? তারা এই অভিশপ্ত জনপদকে বাসযোগ্য জনপদে রূপান্তর করার প্রত্যাশা নিয়ে অধির আগ্রহে প্রহর গুনছে। এলাকাবাসী এ এলাকার জনপ্রতিনিধির দিকে তাকিয়ে আছে। তবে এ নিয়ে আশার বানী শোনাতে পারেননি ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন। যুগের চিন্তাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জলাবদ্ধতা নিয়ে আমি খুব বেকায়দায় ছিলাম। তবে অক্লান্ত পরিশ্রমের দ্বারা আমরা গত দুই বছর জলাবদ্ধতা সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীকে পানির বন্দিদশা থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত করতে পেরেছি। তবে এটা ক্ষণস্থায়ী।
তবে এই সমস্যার একটা স্থায়ী সমাধান করতে হবে। এটার স্থায়ী সমাধান অত্যন্ত ব্যয়বহুল। যেটা ফতুল্লা ইউনয়ন পরিষদ চেষ্টা করলেও সম্ভব হবেনা। এমপি মহোদয় এবং নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বে যারা আছেন তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, তারা যেনো এই সমস্যার স্থায়ী একটা সমাধান করার বন্দোবস্ত করে দেন। আমরা আপাতত পাম্পিং করে পানি নিষ্কাষন করছি। তবে একটা অঞ্চলের পানি পাম্পিং করে আর কতদিন চলা যায়। প্রতিমাসে প্রায় এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে। এটা এখন আর আমাদের পক্ষে বহন করা সম্ভব না। জানিনা আগামিতে পারবো কিনা।
অর্থাৎ তিনি আগামি বর্ষা মৌসুমের ফলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে শঙ্কিত কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধানের আশ্বাস দিতে পারছেন না। তিনি আরো জানান, ডিএনডি প্রজেক্টের আওতায় জদি এই জনপদকে না নেয়া যায় তবে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। কারন পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা মনে হয়না আমি আর বেশি দিন পারবো। কারণ ৪ টা ওয়ার্ড একই সময়ে পানির নিচে থাকে। তবে আমরা জেলা পরিষদে ৩ কোটি টাকা খরচে ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য আবেদন করেছি। সেটা হয়ে গেলে অনেকটাই সমাধান করা সম্ভব ।
তিনি এ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এখন বর্ষা মৌসুম না হওয়ায় অনেকটাই স্থিতিশীল আছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তবে এলাকাবাসির মুখের হাসি মুহুর্তেই বিলীন হয়ে যায় যখন তাদের মনে পরে বর্ষার জলাবদ্ধতার কথা। কারণ এই সমস্যার সমাধানে নেয়া হয়নি কোনো উপযুক্ত উদ্যোগ । আর কয়েক মাস পরেই শুরু হয়ে যাবে বর্ষা। সেই সাথে শুরু হবে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের আর্তনাদ। সকলেই এই জলাবদ্ধতা নামক বিষফোঁড়ার অবসান করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
এস.এ/জেসি


