Logo
Logo
×

নগরের বাইরে

ভূমিদস্যু নুরুজ্জামান ও আউয়ালের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০৭:৫৭ পিএম

ভূমিদস্যু নুরুজ্জামান ও আউয়ালের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ
Swapno



নারায়ণগঞ্জ বন্দর উপজেলার বেজেরগাঁও, মায়াপুর এলাকার নুরুজ্জামান ও আউয়ালের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। সে জন্য তাদের বিরুদ্ধে জায়গার মালিক; হামিদা খাতুনের নানী আমিনা খাতুনের পক্ষে তার ছেলে আস মাহমুদ ওরফে খোকন আম মোক্তার নামা বলে ১১/১২/২০২২ইং তারিখে নারায়ণগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ৬ নম্বর আদালতে প্রতারণার মামলা করেছে;  যার মামলা নম্বর ১৫৯/২০২২।  

 

 

একই সাথে তার বিরুদ্ধে অবৈধ ভাবে জায়গা দখলের অভিযোগ তুলে ০৫/১২/২০২২ইং তারিখে ১৪৫ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। যাহার মামলা নং-৯৪৯/২০২২। ভুক্তভোগির অভিযোগ; ভুমিদস্যূ নুরুজ্জামান ও আউয়াল আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক সন্ত্রাসী কায়দায় রাঁতের আঁধারে জায়গার মাটি কেটে, জায়গা নিজের দখলে নেয়ার পাঁয়তারা করছে।

 

 

আমিনার খাতুনের পক্ষে আম মোক্তার বা পাওয়ারের বলে আস মাহমুদ ওরফে খোকন মামলা গুলো পরিচালনা করছেন। খোকন জানান, “ভূমিদস্যু নুরুজ্জামান ও আউয়াল একজন পাকিস্তানি নাগরিকের ফেইক আইডিকার্ড ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে জায়গা লিখে নিয়েছে।”

 

 

মামলার বাদী আমিনা খাতুন জানান, “আমার মেয়ে আম্বিয়া খাতুনের সন্তান হামিদা খাতুন পাকিস্তান থাকা অবস্থায় মারা যায়। তার কোন সন্তান নেই। আমি তার নানী হিসেবে এই জায়গার মালিক হই। ভুক্তভোগী বলেন, আমার মেয়ে আম্বিয় ও নাতনি হামিদা খাতুন স্বাধীনতার পরপরই পাকিস্তান চলে যায়।

 

 

পরবর্তীতে ৮৪ সালে আমার মেয়ে আম্বিয়া ও আমার নাতনি হামিদা বাংলাদেশে আসে। তখন তার চাচা জাহেদ আলী ও তার স্ত্রী সামসুন্নাহারের কাছ থেকে আমার মেয়ে আম্বিয়া আমার নাতনি হামিদা খাতুনের নামে বন্দর মিরকুন্ডি মৌজায় ৩৩ শতাংশ সম্পত্তি কিনেন; যার দলিল নম্বর ৫১৪৯; যার আর এস খতিয়ান নম্বর ৬৫, আর দাগ ৫ও ৬।”

 

 

পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশে হামিদা এস আমাকে বলে যায়; আমরা দেশে আসবো না এই জমিটা নানী আপনারাই ভোগ করবেন। পরে আমরা জানতে পারি আমার ভাগ্নী হামিদা ২০০০ সালে মৃত্যুবরণ করে।”

 

 

আস মাহমুদ খোকন বলেন, “আমরা বোন আম্বিায় দেশে আসলে আমি আমার বোনকে তিন লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেই, যাহার স্বাক্ষী রয়েছে। পরবর্তীতে আমরা বোন আম্বিয়াও ২০০৮ সালে পাকিস্তানে মৃত্যুবরণ করেন। তাই ওয়ারিশ সূত্রে ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী হামিদা খাতুনের সম্পত্তি আমার মা আমিনা খাতুন পাওয়ার কথা।” 

 

 

খোকন আরো বলেন, “আমরা ভাগ্নী হামিদার সন্তান আছে সেটা আমাদের জানা নেই। অথচ দুই মাস আগে ভুয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে আমির হামজা নামক একজন পাকিস্তানের নাগরিককে হামিদার ছেলে বানিয়ে, তার কাছ থেকে নুরুজ্জামান ও আউয়াল এই জায়গা দলিল করে নেয়।”

 

 

আমির হামজার নামে দলিলে যে আইডিকার্ড ব্যবহার করা হয়েছে তার নং- 19832692522482301, যাহা আমির হামজা কর্তৃক নুরুজ্জামনকে ০১/১১/২০২২ তারিখে সম্পাদিত হেবাকৃত দলিল নং-১০৩৪৮ এ উল্লেখ রয়েছে। অনলাইনে খোঁজ নিলে উক্ত ভোটার আইডি কার্ড  সর্ম্পকে জানতে চাইলে, নির্বাচন কমিশন ওয়েব সাইটে দেখা যায় আইডিটি ভূয়া।

 

 

খোকন জানান, “নুরুজ্জামান জোর করে এই জায়গা দখল করে রাখার জন্য প্রতারণার আশ্রয় নেন। তার জন্য আমরা আদালতে নুরুজ্জামান ও আউয়ালের বিরুদ্ধে ৪০৬/৪২০/৪৬৭/৪৬৮৪৭১/১০৯ ও ৫০৬ ধারা উল্লেখ করে মামলা করা হয়।”

 

 

তন্মধ্যে ৪২০ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ প্রতারণা বা ঠকবাজির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি হস্তান্তর করতে সেই ব্যক্তিকে, বা সেই ব্যক্তির মূল্যবান বস্তু (Valuable Securitz) / সেই মূল্যবান বস্তুর কিছুটা বা পুরোটা পরিবর্তন বা ধ্বংস করতে অসাধুভাবে চালনায় করে, তবে তা প্রতারণার দায়ে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

 

 

৪০৬ ধারায় বলা হয়েছে, বিশ্বাসের ফৌজদারি লঙ্ঘনের শাস্তি - যে ব্যক্তি বিশ্বাসঘাতকতা বা লঙ্ঘন করে, তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হইবে। ধারা- ৫০৬ (প্রথম অংশ): যদি কোন ব্যক্তি অপরাধজনক ভীতি প্রদর্শন করে, তাহা হইলে সেই ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ডে কিংবা অর্থদন্ডে কিংবা উভয় দন্ডে দন্ডনীয় হইবে।

 

 

মামলার বাদী আস মাহমুদ খোকন আরও বলেন, “১৯৮৪ সাল থেকে আমি জমিটা ভোগ দখল করে আসছি। পাশের বাড়ির মজিবর গং-কে উক্ত জমি চাষাবাদের জন্য বর্গা দিয়েছিলাম। এই বৎসর যখন আমি সম্পত্তিতে চাষ করতে যাই তখন হঠাৎ করে ভুমিদস্যু নুরুজ্জামান ও আউয়াল আমাকে বাধা দেয়।”

 

 

নুরুজ্জামান বলে, আপনি এই জমিতে আর আসবেন না। এই জমি আমি, আমির হামজা’র নিকট থেকে কিনে নিয়েছি। এছাড়াও উল্লেখ্য যে, নুরুজ্জামান সরকারের ট্যাক্স ফাঁকি দিয়েছে সে। মীরকুন্ডি মৌজাস্থিত উক্ত জমির সরকারি রেট ২৮ লক্ষ ধার্য আসে।

 

 

সে আমির হামজাকে হামিদার ছেলে বানানোর পাশাপাশি; নিজে তাদের আত্মীয় সেজে মাত্র ১১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে আমার আপন ভাগ্নীর জমিটা হেবা দলিলের মাধ্যমে লিখে নিয়ে নিজের বলে দাবী করেন। অথচ নুরুজ্জামান আমি বা আমার ভাগ্নী হামিদা খাতুনের কোন ধরণের আত্মীয় বা স্বজন ও নন। তাহলে হেবা দলিল কীভাবে হলো প্রশ্ন করেন, ভুক্তভোগী পরিবার।

 

 

বন্দরে দলিল লেখক পাভেল খান বিশাল টাকার বিনিময়ে এই ভাবে প্রতারণার মাধ্যমে তাকে দলিল করে দেন। আস মাহমুদ বলেন, আমি আদালতে মামলা দায়ের করেছি। গত ২৬ ডিসেম্বর পুলিশ আমার পক্ষে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে। যার প্রতিবেদন স্বারক নং- ৩৭৬৪। এ বিষয়ে দৈনিক যুগের চিন্তা’র পক্ষ থেকে এস.আই মেরাজুল ইসলাম সোহাগের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে, তিনি বলেন, “আমি উক্ত বিষয়ে ২৬/১২/২২ তারিখে তদন্তপূর্বক মহামান্য আদালতের নিকট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি।”

 

 

ভুক্তভোগী আস মাহমুদ ওরফে খোকন জানান, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আইন অনুযায়ী মামলা করার কারণে এখন আমার বিরুদ্ধে তারা মিথ্যা মামলা দায়ের করছে ও নানা ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে। যা সমাজে আমার মান-সম্মান ক্ষুন্ন করছে। আমার পিতা: মরহুম সোনা মিয়া সর্দার সমাজের তথা নারায়ণগঞ্জবাসীর নিকট সর্বজন শ্রদ্ধেয় একজন ব্যাক্তি ছিলেন। 

 

 

অথচ, নুরুজ্জামান ও আউয়ালসহ তাদের পালিত সন্ত্রাসীরা আমাকে ও আমার মা’ সহ পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। বন্দর থানা’র তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, জায়গা আমার দখলে আছে। কিন্তু বর্তমানে আমি তাদের সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে নিজদের পারিবারিক সম্পত্তির ধারে কাছে ও যেতে পারছিনা।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ বলেন, কয়েকবছর আগেও এই নুরুজ্জামান ছিলো, গার্মেন্টস কর্মী। অথচ সে আজ কোটিপতি, সে প্রথমে গার্মেন্টস পেশা ছেড়ে একটি মাল্টি-পারপাস ব্যবসা খুলে বসে।

 

 

এই ব্যবসার মাধ্যমে সে বহু মানুষকে সর্বসান্ত্র করে ছেড়েছে। তারপর সে মালোয়শিয়া পালিয়ে যায়। দেশে এসে আবার প্রতারণা শুরু করেছে। এলাকাবাসী প্রশাসনের নিকট নুরুজ্জামান ও আউয়ালের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান।

 

 

এলাকাবাসী আরো প্রশ্ন তুলেন. পাকিস্তানের নাগরিক কী করে বাংলাদেশের নাগরিকের কাছে জায়গা বিক্রি করে। আমির হামজা দলিলে বাংলা স্বাক্ষর না করে ইংরেজিতে কেন স্বাক্ষর করেছে? সব কিছু তদন্তের দাবী জানান স্থানীয়রা।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার জানান, নুরুজ্জামান, হামিদা খাতুনের কোন আত্মীয় নন এবং হামিদা খাতুনের স্বজন বলতে আমরা তার মা ও ভাই আস মাহমুদকেই চিনি। এখন নুরুজ্জামান কীভাবে মালিক হয়েছে তা আমাদের জানা নেই।  

 

 

দৈনিক যুগের চিন্তা’র পক্ষ থেকে মুঠোফোনে নুরুজ্জামান এর নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেন “আমি হামিদার ছেলে আমির হামজা থেকে এই জায়গা ক্রয় করেছি।” এসময় আমির হামজার ভোটার আইডিকার্ড  সঠিক কিনা তা নিয়ে জানতে চাইলে, “তিনি তখন কোন সদুত্তর দিতে পারে নাই।  তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ নুরুজ্জামান মিথ্যা বলে দাবী করেন।” এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন